• বিদেশ ডেস্ক
  • ০৮ জানুয়ারি ২০২০ ২২:১৯:২৫
  • ০৮ জানুয়ারি ২০২০ ২২:১৯:২৫
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে হিন্দু গ্রামে পঞ্চায়েত প্রধান মুসলমান

মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন । ছবি : সংগৃহীত

মোদি সরকারের বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদ জানানোর জন্য ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের হিন্দু অধ্যুষিত একটি গ্রামে মুসলমান এক ব্যক্তিকে পঞ্চায়েত প্রধান হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে।  বুধবার(৮ জানুয়ারি) ভারতের টাইমস অব ইন্ডিয়ায় এই খবর প্রকাশিত হয়।

ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের পুদুকোত্তায় জেলার কেরামাঙ্গালাম শহরের সেরিয়ালুর ইনাম গ্রামে মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিনকে পঞ্চায়েত প্রধান নির্বাচিত করা হয়।  নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন(সিএএ) এর বিরুদ্ধে যারা প্রতিবাদ জানাচ্ছেন তাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করার জন্য একজন মুসলমানকে বেছে নেয়া হয়েছে বলে জানান গ্রামবাসী।

সেরিয়ালুর ইনাম গ্রামে ১ হাজার ৩৬০ জন ভোটারের মধ্যে মাত্র ৬০ জন মুসলমান ভোটার।এই গ্রামে সম্প্রতি ৪৫ বছর বয়সি জিয়াউদ্দিন ৫৫৪ ভোট পেয়ে পঞ্চায়েত প্রধান নির্বাচিত হন।   

এস ভি কামারাসু নামে এক গ্রামবাসী বলেন, ‘সিএএ’র মাধ্যমে সরকার যখন বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে, আমরা এই গ্রামের হিন্দুরা একজন মুসলমানকে পঞ্চায়েত প্রধান হিসেবে বেছে নিয়েছি, যেন তিনি আমাদের পঞ্চায়েতকে একত্রিত এবং ধর্মনিরপেক্ষ রাখতে পারেন। ’  

এদিকে মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন নির্বাচন পরবর্তী একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেন।একজন গ্রামবাসী এসে তাকে জানান, তিনি হিন্দু প্রার্থীকে ভোট দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়ায় সেই ব্যক্তিকেই ভোট দিয়েছেন কিন্তু তার পরিবারের অপর ৪জন সদস্য জিয়াউদ্দিনকেই ভোট দিয়েছেন।  নতুন পঞ্চায়েত প্রধান জানান, এই কথা শুনে তিনি অভিভূত হয়ে গেছেন।

প্রসঙ্গত,মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন একজন সমাজকর্মী।  গ্রামবাসীদের উন্নয়নে তিনি বিভিন্ন কাজ করেছেন। এর আগে ঘূর্ণিঝড় গাজায় আক্রান্ত গ্রামের মানুষের পুনর্বাসনে তিনি অনেক কাজ করেন। ফলে স্থানীয়দের মধ্যে আগে থেকেই তার জনপ্রিয়তা ছিল।  

উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরে ভারতের মোদি সরকার নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন পাস করে।এই আইনের আওতায় বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের নির্যাতিত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের ভারতে নাগরিকত্ব প্রদান করা হবে।  এটিকে মুসলমান বিরোধী আইন বলে আখ্যায়িত করা হচ্ছে।কেন না উপযুক্ত নথিপত্রের অভাবে এনআরসি কিংবা নাগরিকপঞ্জীর তালিকাতে যেসব মুসলমানদের নাম থাকবে না তাদের ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হবে।  অপরদিকে এই আইনের সুযোগে হিন্দুরা সহজেই নাগরিকত্ব পেয়ে যাবে। এই কারণেই ভারতজুড়ে বর্তমানে সিএএ এবং এনআরসির বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে বিবেকবান মানুষজন।

বাংলা/এফকে

 

 

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0211 seconds.