• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ০২ ডিসেম্বর ২০১৯ ২২:০৮:৩৮
  • ০২ ডিসেম্বর ২০১৯ ২২:০৮:৩৮
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

নোম্যান্সল্যান্ডে বিএসএফ চৌকি, রাজশাহী সীমান্তে উত্তেজনা

ছবি : সংগৃহীত

রাজশাহী সীমান্তের জিরোলাইনের (নোম্যান্সল্যান্ড) ওপরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) একটি অস্থায়ী চৌকি স্থাপন করা হয়েছে। এ নিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। বিজিবির কোম্পানি পর্যায়ে ইতোমধ্যে প্রতিবাদ জানাতে চিঠি ও বার্তা পাঠালেও বিএসএফ তা গ্রহণ করেনি।

রাজশাহীর গোদাগাড়ীর সাহেবনগর সীমান্তে শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) গভীর রাতে বিএসএফ এ চৌকিটি স্থাপন করে। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা বলছেন, বিএসএফ যেখানে অস্থায়ী চৌকিটি করেছেন, সেই জায়গাটি বাংলাদেশ সীমান্তের ভেতরেই পড়ে। বিএসএফ সেখানে অবস্থান নিয়ে থাকছে।

রাজশাহীর ১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীন ডেলটা কোম্পানির কমান্ডার নায়েব সুবেদার শওকত আলী জানান, বিএসএফ জিরোলাইনের ৭০ মিটারের ভিতরে অস্থায়ী ছাউনিটা করেছে, সেটি নোম্যান্সল্যান্ডের ওপরে। বিজিবির পক্ষ থেকে প্রতিবাদ বার্তা পাঠানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নোম্যান্সল্যান্ড থেকে নিজ নিজ সীমানার ১৫০ মিটার ভেতরে চৌকি করার নিয়ম। হঠাৎ গড়ে ওঠা এই চৌকিটা দেখতে পেয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফের চর লবণগোলা কোম্পানিকে চিঠি ও বিভিন্ন মাধ্যমে বার্তা পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু আজ সোমবার (২ ডিসেম্বর) দুপুর পর্যন্ত বিএসএফ কোনো চিঠি গ্রহণ করেনি। বিষয়টি বিজিবির রাজশাহী ব্যাটালিয়ন সদর কমান্ডার ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে করণীয় সম্পর্কে পরবর্তী নির্দেশনা পাওয়ার পর সেভাবেই পদক্ষেপ নেয়া হবে।

রাজশাহীর ১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীন ডেলটা কোম্পানির কমান্ডার নায়েব সুবেদার শওকত আলী জানান, রাজশাহীর গোদাগাড়ীর সাহেবনগর সীমান্ত ফাঁড়ির এক কিলোমিটার পূর্ব পাশে পদ্মা নদী থেকে বের হয়ে একটি কাটা নদী উত্তর থেকে দক্ষিণমুখী হয়ে ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার চরলবণগোলা এলাকায় ঢুকেছে। তবে কাটা নদীটির ভাঙনে সেখানকার সীমানা পিলারগুলো গত বছরই নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। সম্প্রতি কাটা নদীটিতে পানি কমে গিয়ে পশ্চিমপ্রান্তে বাংলাদেশ সীমানার মধ্যে ছোট একটি চর পড়েছে। নোম্যান্সল্যান্ড সংলগ্ন চরটিতে গিয়ে কিছু দিন ধরে বিজিবি সদস্যরা টহল করতেন। চরটি বাংলাদেশ ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযুক্ত বলে নৌকা ছাড়াই পায়ে হেঁটেই বিজিবি সেখানে যাতায়াত করতেন।

এলাকাবাসী জানায়, শুক্রবার রাতে বিএসএফ সদস্যরা ইঞ্জিন নৌকাযোগে চরটিতে গিয়ে রাতারাতি সেখানে বাঁশের মাচা পেতে ওপরে খড় ও পাটকাঠি দিয়ে একটি অস্থায়ী চৌকি তৈরি করেন। পর দিন শনিবার সকাল থেকে ভারতের চরলবণগোলা ফাঁড়ির বিএসএফ সদস্যরা সেখানে অবস্থান ও টহল করতে শুরু করেন।

এলাকাবাসী আরো জানায়, বিজিবি সদস্যরা রোববার দিনের বেলায় একবার ও রাতের বেলা আরেকবার চরের কাছাকাছি গিয়ে চলে যাওয়ার সিগন্যাল দিলে বিএসএফ সদস্যরা চৌকি ছেড়ে পালিয়ে যান। রাতে আবারও নৌকা যোগে গিয়ে বিএসএফ সদস্যরা চরে ওঠার চেষ্টা করলে খবর পেয়ে বিজিবি চরে গিয়ে অবস্থান নেন। এর পর বিএসএফ নৌকা ঘুরিয়ে ভারতের ভেতরে চলে যায়। তবে গভীর রাতে বিএসএফ আবারও চরের অস্থায়ী চৌকিতে গিয়ে অবস্থান নেয়। সোমবার সকালে বিজিবি সেখানে গেলে বিএসএফ চর ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।

বিজিবি সূত্র বলছে, বিএসএফ সদস্যদের এই লুকোচুরিতে তারা বিরক্ত। এলাকাবাসী লাঠিসোটা নিয়ে গিয়ে চৌকিটি ভেঙে ফেলার জন্য বিজিবিকে চাপ দিচ্ছে। তবে তাদের অনুমতি ছাড়া কোনো ঘটনা না ঘটাতে বিজিবি গ্রামবাসীকে নিষেধ করেছে।

এলাকাবাসী জানিয়েছেন, নতুন এই চরটির সঙ্গে বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ড সংযুক্ত। চরের আশপাশে রয়েছে বাংলাদেশের ফসলি জমি, যেখানে কৃষকরা নিয়মিত চাষাবাদের কাজ করে থাকেন। কিন্তু শুক্রবার রাত থেকে বিএসএফ অস্থায়ী চৌকি তৈরি করার পর থেকে কৃষকরা জমিতে যেতে পারছেন না। কৃষকরা তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে চরে অস্থায়ী চৌকি তৈরির জন্য বিজিবির কাছে দাবি করেছেন।

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0272 seconds.