• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ০২ ডিসেম্বর ২০১৯ ২১:০২:২৮
  • ০২ ডিসেম্বর ২০১৯ ২১:০২:২৮
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

ওরা আমার বুক, যৌনাঙ্গ পুড়িয়ে দিয়েছে : সৌদি ফেরত তরুণী

ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরব থেকে ফিরে নিজের ওপর রোমহর্ষক নৃশংস নির্যাতনের বর্ণনা দিলেন মৌলভীবাজারের এক তরুণী। নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে মূর্ছা যান ওই তরুণী। মানসিকভাবেও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তিনি। তার গোপনাঙ্গসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে বলেও জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

২০ বছর বয়সী ওই তরুণীর বাড়ি কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ৯ নম্বর ইসলামপুর ইউনিয়নে। গত ২৬ নভেম্বর সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরার দুদিন পর শ্রীমঙ্গলের ‘মুক্তি মেডিকেয়ার’ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। কিন্তু অর্থের অভাবে চিকিৎসা শেষ না করেই রবিবার তাকে বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়।

ওই হাসপাতালের প্রধান সেবিকা দীপ্তি দত্ত বলেন, ‘মেয়েটার যৌনাঙ্গসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় পোড়া ও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ক্ষতগুলো সারতে সময় লাগবে।’

হাসপাতলের চিকিৎসক সাধন চন্দ্র ঘোষ বলেন, ‘মাঝে মাঝে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে আবোল-তাবোল বকছিলো। দ্রুত তাকে মানসিক চিকিৎসা দেয়াও প্রয়োজন।’

মেয়েটির মা জানান, সরকারের সহায়তায় গত ২৬ নভেম্বর দেশে ফিরিয়ে আনা হয় তার মেয়েকে। বাড়ি ফেরার পর নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে মূর্ছা যান ওই তরুণী। তখন তাকে শ্রীমঙ্গল মুক্তি মেডিকেয়ারে ভর্তি করা হয়।

মেয়েটির মা বলেন, ‘আমার ভালো মেয়ে বিদেশ থেকে এসেছে আধমরা হয়ে। টাকা রোজগারের আশায় গেল, অথচ একটি টাকাও ওকে দেওয়া হয়নি।’

মুক্তি মেডিকেয়ারে চিকিৎসাধীন ওই তরুণীর সঙ্গে রবিবার বিকালে গণমাধ্যম কর্মীদের কথা হয়। সেসময় সৌদি আরবে নির্যাতনের শিকার হওয়ার রোমহর্ষক বিবরণ দেন তিনি।

তিনি জানান, বিয়ের সাত মাসের মাথায় স্থানীয় আদম ব্যাপারী মোস্তফা কামালের প্রলোভনে চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল সৌদি আরবে পাড়ি জমান ওই তরুণী। তাকে গৃহকর্মীর কাজ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।

কিন্তু দাম্মামে পৌঁছানোর পর এক পর্যায়ে তিনি জানতে পারেন, চার লাখ টাকায় তাকে যৌনকর্মী হিসেবে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। যৌনকর্মে রাজি না হলে তার ওপর চালানো হত নির্যাতন। একটি অফিসে রেখে প্রতিদিন কয়েকজন পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করত।

তরুণীর ভাষ্য, ‘জ্বলন্ত সিগারেট দিয়ে আমার বুক, গোপনাঙ্গ ও শরীরের বিভিন্ন জায়গা ওরা পুড়িয়ে দিয়েছে। তার দিয়ে বেঁধে পিটিয়ে হাত-পা ও উরুতে জখম করে দিয়েছে। দলবেঁধে ৪/৫ জন মিলে ধর্ষণ করত, তখন জ্ঞান হারিয়ে ফেলতাম।’

অসুস্থ হয়ে পড়ায় এক সময় সৌদি আরবের পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। সে সময় গোপনে তিনি আহত হওয়ার ছবি দেশে পাঠান।

তার দিনমজুর স্বামী নির্যাতনের বিষয়টি সেই ‘আদম ব্যাপারীকে’ জানালে ‘মিথ্যা কথা’ বলে উড়িয়ে দেন মোস্তফা নামের সেই দৃর্বৃত্ত।

মেয়েটির স্বামী পুলিশ ও সাংবাদিকের ভয় দেখালে আদম ব্যাপারী মোস্তফা দাবি করেন, যে বাড়িতে কাজ পেয়েছিলেন সেখান থেকে ২২শ রিয়াল চুরি করে পালিয়ে গেছেন ওই তরুণী।

শেষ পর্যন্ত কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের শরণাপন্ন হন ওই তরুণীর স্বামী। প্রশাসনের তৎপরতায় ছয় মাস ২৬ দিন পর দেশে ফেরেন তার স্ত্রী।

এখনো অনেক বিপদগ্রস্ত নারী সৌদি আরবে রয়ে গেছেন জানিয়ে তাদের উদ্ধার করার জন্য সরকারের কাছে আকুতি জানান ওই নির্যাতিতা তরুণী। সেই সঙ্গে ওই চক্রের হোতাদের শাস্তি দাবি করেন।

প্রসঙ্গত, গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে সৌদি আরবে গিয়ে বাংলাদেশের নারীদের নির্যাতনের শিকার হওয়ার খবর আসছে গত কয়েক বছর ধরেই। এ বছর জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে ৮৫০ জন নারী দেশে ফিরে যৌন নিপীড়নসহ নানা অভিযোগের কথা তুলে ধরায় অধিকার সংগঠনগুলোও সরব হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরবে বাংলাদেশি নারী শ্রমিকদের ওপর নির্যাতন বন্ধে পররাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে যৌথভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলেছে সংসদীয় কমিটি।

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0200 seconds.