• বিদেশ ডেস্ক
  • ০২ ডিসেম্বর ২০১৯ ১৪:০৪:১৩
  • ০২ ডিসেম্বর ২০১৯ ১৪:০৪:১৩
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

চাপ প্রয়োগের শেষ সুযোগ এবারের কপ-২৫ সম্মেলন

ছবি : বিবিসি থেকে নেয়া

স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে জাতিসংঘের আয়োজনে শুরু হতে যাচ্ছে দুই সপ্তাহব্যাপী জলবায়ু সম্মেলন। কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজ (কপ) নামে পরিচিত এ বছরের সম্মেলনটি ২৫ তম বলে এর নাম রাখা হয়েছে কপ-২৫।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘ন্যাশনাল ক্লাইমেট অ্যাকশন প্ল্যান’ তৈরীর কাজের জন্য দেশগুলোকে চাপ দেয়ার এটাই শেষ সুযোগ এবং তাই এই সম্মেলন বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে খবরে জানিয়েছে বিবিসি ও ডয়চে ভেলে’র মতো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।

২০১৫ সালে হওয়া প্যারিস চুক্তি অনুসারে, ২০২০ সালের মধ্যে বিশ্বের সব দেশকে ‘ন্যাশনাল ক্লাইমেট অ্যাকশন প্ল্যান’ তৈরির কাজ শেষ করতে হবে। কিন্তু, অনেক দেশ এখনো তা শেষ করে নি এবং যেসব দেশ এখনও এই কাজ শেষ করতে পারেনি, তাদের ওপর চাপ তৈরির সুযোগ মিলবে এই সম্মেলনে।

২০১৫’র প্যারিস চুক্তিতে বলা হয়, দেশগুলোকে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি প্রাক-শিল্পযুগের (১৮৫০-১৯০০) চেয়ে দুই ডিগ্রি সেলসিয়াসের অনেক নিচে রাখতে হবে। তবে তাপমাত্রা বৃদ্ধি যদি দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে তাও গ্রহণযোগ্য বলা হয়।

ওই চুক্তিতে আরো বলা হয়, এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন-ডাই-অক্সাইড নির্গমন ৪৫ শতাংশ কমাতে হবে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিরপেক্ষ পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। এবারের সম্মেলনে ২০১৫’র এই বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ওয়ার্ল্ড রিসোর্সেস ইনস্টিটিউটের প্রধান অ্যান্ড্রু স্টিয়ার বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছে।’

তিনি আরো জানান, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি প্রাধান্য পাচ্ছে। বিভিন্ন দেশ ও শহর নিজ নিজ স্থানে ‘ক্লাইমেট ইমার্জেন্সি’ ঘোষণা করেছে।

স্টিয়ার জানান, ইউরোপের পার্লামেন্টে গত বৃহস্পতিবার ‘ক্লাইমেট অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইমার্জেন্সি’-সংক্রান্ত একটি বিল ৪২৯-২২৫ ভোটে পাস হয়েছে যা শিগগিরই বাস্তবায়িত হবে। তবে এ বিলে, শুধু প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় কমিশনকে আহ্বান জানানো হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ন্ত্রণে রাজনীতিবিদরা যথেষ্ট কাজ করছেন না বলে গতবছর থেকে আন্দোলন শুরু করেন সুইডিশ শিক্ষার্থী গ্রেটা থানব্যার্গ। প্রতি শুক্রবার স্কুলে না গিয়ে সুইডিশ সংসদের সামনে বসে পরিবেশ রক্ষার আন্দোলন করতেন তিনি। তার এই আন্দোলন পরবর্তীতে সারা বিশ্বের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং এই কারণে এবার শান্তিতে নোবেল পুরস্কারকে ঘিরে গ্রেটার নামটি বেশ আলোচিত হয়। যদিও শেষ পর্যন্ত নোবেলের দেখা পাননি তিনি।

কপ-২৫ সম্মেলনে যোগ দিতে গ্রেটা থানব্যার্গকে আনুরোধ করলে নিউইয়র্ক থেকে পরিবেশবান্ধব পাল তোলা নৌকায় করে ইউরোপে রওনা হন তিনি। তবে,অনুকূল আবহাওয়ার কারণে তিনি এখনো সম্মেলনে পৌছাতে পারেন নি বলে জানিয়েছে তার দলের সদস্যরা।

এদিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্পেনে রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের জন্য অনুষ্ঠিত ২৫তম বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে গতকাল ১ ডিসেম্বর, রবিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে মাদ্রিদ টোরেজন বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।

প্রসঙ্গত, সম্মেলনটি এ বছর নভেম্বর মাসে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও পরিকল্পনা শুরুর এক বছর আগে সম্মেলনটির তখনকার নবনির্বাচিত সভাপতি জেইর বোলসোনারো অর্থনৈতিক মন্দার কারণ দেখিয়ে স্বাগতিক দেশ হওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। পরে তা আয়োজনের ভার পরে চিলির ওপর। কপ-২৫ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনের সভাপতিত্বের দায়িত্ব পান দেশটির পরিবেশমন্ত্রী ক্যারোলিনা স্মিদভ জালদিভার।

কিন্তু, সামাজিক অস্থিরতার কারণে অক্টোবরের শেষের দিকে সম্মেলনটি আয়োজনে অপারগতা প্রকাশ করে চিলি। জাতিসংঘের মতামত এবং চিলি ও স্পেনের চুক্তিতে নির্ধারিত হয় স্পেন হবে স্বাগতিক দেশ এবং চিলির পরিবেশমন্ত্রী ক্যারোলিনা স্মিদভ জালদিভারই এতে সভাপতিত্ব করবেন।

উল্লেখ্য, এ সম্মেলনটি জলবায়ু পরিবর্তন-সংক্রান্ত জাতিসংঘ ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের (ইউএনএফসিসিসি)’র ২৫তম বার্ষিক সম্মেলন, কিয়োটো প্রটোকলের (সিএমপি১৫)’র ১৫তম সভা এবং প্যারিস চুক্তির দ্বিতীয় সভা (সিএমএ২)’কে অন্তর্ভুক্ত করে।

বাংলা/এসজে

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0461 seconds.