• বাংলা ডেস্ক
  • ০১ ডিসেম্বর ২০১৯ ১৮:৪৪:৩৮
  • ০২ ডিসেম্বর ২০১৯ ১০:৫৫:৫৫
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

দুই ওটি লাইটে পকেটে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা

ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০ লাখ টাকা মূল্যের একটি ওটি লাইট কেনা হয়েছে ৭৯ লাখ ৮৫ হাজার টাকায়। ওই প্রতিষ্ঠানে এভাবেই বিভিন্ন চিকিৎসাসামগ্রী কেনায় বিপুল অর্থ আত্মসাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এসব অনিয়মের সাথে হাসপাতালের পরিচালক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া সরাসরি জড়িত রয়েছেন। এজন্য তিনি একটি সিন্ডিকেট চক্র গড়ে তুলেছেন। ইতোপূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে বিভাগীয় মামলায় তার সাজা হলেও তিনি বহাল তবিয়তেই রয়েছেন বলে যুগান্তরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮ সালের ৬ সেপ্টেম্বর অপারেশন থিয়েটারের জন্য ২টি ওটি লাইট কেনা হয় ৭৯ লাখ ৮৫ হাজার টাকা দরে। সরকারি ‘প্রাইস গাইডলাইনে’ ১টি ওটি লাইটের সর্বোচ্চ দাম উল্লেখ করা ১০ লাখ ৬৬ হাজার ৪০০ টাকা। অর্থাৎ দুটি ওটি লাইট কিনে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে এক কোটি চল্লিশ লাখ টাকা।

একই বছর যন্ত্রপাতিসহ একটি কোবলেশন মেশিন কেনা হয়েছে ৯৬ লাখ টাকায়, আরেকটি ২৫ লাখ ৬৪ হাজার টাকায়। কিন্তু সরকারি প্রাইস গাইডের (সিঅ্যান্ডএফ-এফওবিসহ) দাম ধরা আছে ৬ লাখ ৩৯ হাজার ৩০০ টাকা। অর্থাৎ এ দুটি মেশিন কিনে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে এক কোটি ১০ লাখ টাকা।

ভেন্টিলেটরসহ অ্যানেসথেসিয়া মেশিন কেনা হয়েছে ৫৮ লাখ ৬২ হাজার ৫০০ টাকায়। গাইডলাইনে যার সর্বোচ্চ ক্রয়সীমা ৭ লাখ ৭৮ হাজার ৬০০ টাকা। গাইডলাইন অনুযায়ী, সিপিআর মেশিনের দাম সর্বোচ্চ ৬ লাখ ৩৯ হাজার ৩০০ টাকা হলেও তিনটি সিপিআর মেশিন কেনা হয়েছে ৬৯ লাখ ৮৫ হাজার, ৭১ লাখ ১০ হাজার ও ৪২ লাখ ১০ হাজার টাকায়। অর্থাৎ এ তিনটি যন্ত্র কেনায় খরচ হওয়ার কথা ১৮-২০ লাখ টাকা। অথচ ব্যয় করা হয়েছে পৌনে দুই কোটি টাকার বেশি।

হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা জানান, ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া ২০১৩ সালে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক এবং ২০১৫ সালে পরিচালক হন। কিন্তু তার আগেই ২০১২ সালে বিএমএর নেতৃত্বে আসার পর থেকেই তিনি হাসপাতালের সবকিছু এককভাবে নিয়ন্ত্রণ শুরু করেন। এজন্য তিনি গড়ে তোলেন একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। হাসপাতালের সহকারী পরিচালকও আছেন এ চক্রে।

চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি অ্যাকাউন্ট্যান্ট নাসিরকে দুর্নীতির দায়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বরখাস্ত করলেও ওই সিন্ডিকেটের কল্যাণে তিনি নিয়মিত অফিস করছেন। লুটপাটের সুবিধার্থে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী এক ওয়ার্ড মাস্টারকে দেয়া হয়েছে লোকাল ওয়ার্ডের ম্যানেজার মেইনটেন্যান্সের দায়িত্ব। এই চক্রটির ভয়ে গত ৬-৭ বছর এখানে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক টেন্ডার হয় না।

এসব দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া। চলতি বছরের ২৯ জুলাই চট্টগ্রাম সদর রেজিস্ট্রি অফিসে দুই কোটি টাকা মূল্যে চট্টগ্রাম বৌদ্ধ মন্দিরসংলগ্ন একটি ভবন জমিসহ রেজিস্ট্রি করেছেন। যদিও প্রকৃতপক্ষে জমির মূল্য বাবদ তিনি পরিশোধ করেছেন সাড়ে তিন কোটি টাকা। এর আগে ৭ জানুয়ারি তার ভাই দিলীপ কুমার বড়ুয়ার নামে চট্টগ্রাম বৌদ্ধ মন্দিরসংলগ্ন একটি জমিসহ বাড়ি ক্রয়ের বায়না ৫ কোটি টাকা মূল্য দেখানো হয়েছে। যদিও প্রকৃতপক্ষে পরিশোধ করা হয়েছে ১২ কোটি টাকা।

এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া বলেন, ‘এআরআই মেশিনের মামলা নিষ্পত্তি হয়ে গেছে, শাস্তির সময়ও পেরিয়ে গেছে।’ ২০১৮ সালের কেনাকাটা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ওপেন টেন্ডারে এসব কেনাকাটা হয়েছে।’ প্রাইস গাইডলাইনের চেয়ে অনেক বেশি দামে কেনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যন্ত্রপাতি ক্রয়ে সরকারের প্রাইস গাইডলাইন বলে কিছু নেই। গাইডলাইন যেটা রয়েছে সেটা ভারি যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।’

এবিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা পরিবর্তনের চেষ্টা করছি। মেশিনপত্র কেনাকাটা নিয়ে বেশকিছু অভিযোগের বিষয়ে জানি। তবে সব অভিযোগ আমার জানা নেই। ভালোভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0213 seconds.