• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০ নভেম্বর ২০১৯ ১৫:৪০:৫২
  • ২০ নভেম্বর ২০১৯ ১৫:৪০:৫২
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

রাঙ্গামাটিতে গুলিতে নিহতরা ‘নিরীহ গ্রামবাসী’

ছবি : সংগৃহীত

বেওয়ারিশ হিসেবে শেষকৃত্য সম্পন্নের পর পরিচয় মিলেছে রাঙ্গামাটির রাজস্থলীতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত তিনজনের। নিহত সবাই নিরীহ গ্রামবাসী।

মিয়ানমারভিত্তিক আরাকান লিবারেশন পার্টির (এএলপি) সন্ত্রাসীরা তাদের ধরে নিয়ে হত্যা করে বলে এক বিবৃতিতে দাবি করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)।

নিহতরা হলেন- বান্দরবান সদরের রাজভিলা ইউনিয়নের নোয়াপাড়া গ্রামের গ্রামপ্রধান (কারবারি) মোনারাম তঞ্চঙ্গ্যা (৪৬), তার ছেলে আদর তঞ্চঙ্গ্যা ওরফে সুখমনি (২২) ও একই গ্রামের বাসিন্দা উচিমং মারমা (২৫)। রাজস্থলী উপজেলা সদর হতে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দূরের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা গাইন্দ্যা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বালুমুড়া মারমাপাড়া থেকে সোমবার সন্ধ্যায় এদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর যৌথ দল।

রাজস্থলী থানার ওসি মো. মফজল আহম্মদ খান বলেন, মঙ্গলবার সকালে রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতাল মর্গে লাশের ময়নাতদন্ত হয়।

দুপুর পর্যন্ত পরিবারের কেউ খোঁজ না নেয়ায় শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে রাঙ্গামাটি পৌরসভাকে লাশগুলো বুঝিয়ে দেয়া হয়। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে এদের পরিবারের কেউ পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। ওসি বলেন, এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

লাশ উদ্ধারের পর থেকেই এ তিনজনকে জেএসএস কর্মী বলে ধারণা করা হচ্ছিল। তবে তারা জেএসএস কর্মী নয় বলে বিবৃতিতে দাবি করেছে সংগঠনটি।

রাঙ্গামাটি জেলা শাখার তথ্য ও প্রচার সম্পাদক নগেন্দ্র চাকমা স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, কোনো তদন্ত ও বাছ-বিচার ছাড়াই বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে যে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে তা সঠিক নয়। বালুমুড়া মারমা পাড়ায় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সশস্ত্র দুই গ্রুপের মধ্যে কোনো বন্দুকযুদ্ধ হয়নি। জেএসএসের কেউ নিহতও হয়নি।

প্রকৃত ঘটনা হল- ১৮ নভেম্বর সকালে দলচ্যুত আরাকান লিবারেশন পার্টির (এএলপি) একটি গ্রুপ অস্ত্রসহ মদ্যপ অবস্থায় বান্দরবানের রাজভিলা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ৮ নম্বর নোয়াপাড়া গ্রামে ঢোকে। ঢুকেই এলাকার যুবক ও পুরুষদের ধরপাকড় ও মারধর করতে থাকে।

বিকেল ৪টার দিকে নোয়াপাড়ার কারবারি মোনারাম তঞ্চঙ্গ্যা, তার ছেলে সুখমনি (শুক্রমণি)-সহ গ্রামের চার অধিবাসীকে অস্ত্রের মুখে ধরে নিয়ে যায়। এদের একজনকে ছেড়ে দিলেও বাকিদের বালুমুড়ায় নিয়ে গুলি করে হত্যা করে।

জেএসএসের এ বিবৃতির পর স্থানীয়দের মুখ থেকেও একইরকম বক্তব্য পাওয়া গেছে। মিয়ানমারের সন্ত্রাসীরা বাংলাদেশের ভেতরে ঢুকে কিভাবে বাংলাদেশিদের হত্যা করে- এ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এ প্রসঙ্গে রাজস্থলী থানার ওসি বলেন, ‘ঘটনা কী হয়েছে, তা তদন্ত না করে বলা যাবে না। আমরা বিষয়টি দেখছি।’

রাজস্থলী থানার উপ-পরিদর্শক শাহ আলম জানান, তিন লাশেরই পেছনে হাত বাঁধা ছিল। তাদের শরীরের বিভিন্ন অংশে ছিল গুলির ক্ষত।

স্থানীয়রা বলেন, প্রকৃত ঘটনা কী তা খুঁজে বের করা উচিত। প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেয়া উচিত। সেই সঙ্গে দেখা উচিত এমন খবর ছড়ানো পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তপ্ত করার ষড়যন্ত্র কিনা।

সংশ্লিষ্ট বিষয়

রাঙ্গামাটি জেএসএস

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0214 seconds.