• ১৯ নভেম্বর ২০১৯ ২২:৫৪:১৯
  • ১৯ নভেম্বর ২০১৯ ২২:৫৪:১৯
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন
বিজ্ঞাপন

কাজি সায়েম রহমানের গল্পঃ নিপাতনে সিদ্ধ

ছবিঃ সংগৃহীত



নিপাতনে সিদ্ধ



 

১.

এক ভোরে তিন বন্ধু মিলে নদীর ধার ঘেঁষে হেঁটে চলছিল। শুভ্র পরিচ্ছন্ন আকাশ,বহমান শীতল বাতাস,ঝিরিঝিরি বৃষ্টির ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ফোঁটার মৃদু মৃদু ছোঁয়া,এসব কিছু মিলিয়ে প্রকৃতি যেন ঘুম-জাগরনীর মাঝামাঝি আবেশীয় এক মঞ্চ তৈরি করেছিল তাদের জন্য। আর এমনি সময়ে তারা একে অন্যের মনের কথা বলতে বলতে প্রশস্ত নদীর পাড় ধরে হেঁটে চলেছিল।একথা সেকথা বলতে বলতে এই মায়াময়ী সকালে তারা তাদের দৃষ্টি প্রসারিত করে দিল সুদূরে, এমন কিছু দেখতে যা আজও দেখা হয়ে ওঠেনি। সেই উদাসী দৃষ্টি আড়াআড়িভাবে নদী পেরিয়ে ছোট গাছগাছালির জঙ্গল পেরিয়ে দূর সমুচ্চ পাহাড়ের শিখরে গিয়ে ঠেকল। মনজুড়ে তাদের কোথা থেকে এক অদম্য আকুলতা এসে ভর করল। তাদের এমন কিছু বলার জন্য মনটা ছটফট করছিল যা এখনও অনুক্ত,যা কিনা প্রতিদিনের হড়বড় করে বলা গতানুগতিক কথামালার গণ্ডির বাহিরের কিছু কথা।

একজন বলল-বন্ধুগন,জীবনে আমার টাকা ছাড়া আর কিছু চাওয়ার নাই। আসলে সব স্বপ্ন আর তা প্রাপ্তির একমাত্র ব্যবধানে রয়েছে অর্থ। যখন কিছু চাওয়ার নেই তখনও কেবল অর্থই পারে তোমার স্যাঁতস্যাঁতে জীবনটাকে নতুন কোনও রঙের ছোঁয়া দিয়ে জীবনটাকে রংধনুর মত করে তুলতে। দয়া-দাক্ষিণ্য,বন্ধু-স্বজন-প্রেমিকা,বাবা-মার স্বপ্ন সবই হাসিল হবে যদি তোমার কাছে অর্থ থাকে। ঝরনার ন্যায় অর্থ যখন অবারিত ধারায় এক খণ্ড পাথরের মত জীবনের ওপর অবিরাম সদা সর্বদা বর্ষিত হবে,এ জীবন তখন কতই না মধুময় হয়ে রবে!

এ শুনে দ্বিতীয় জন বলল-হে ধনকামী যুবক, তোমার এই ভ্রমের কথা  শুনে তোমার প্রতি আমার অনেক করুণা হচ্ছে। কত বঞ্চিত তুমি! ভালবাসা কি তা আজও জানলে না? ধন কামনায় মত্ত হয়ে আজ সেই ভালবাসাকে ভুলে গেলে যার দরুন আজ আমরা এই পৃথিবীতে,যে নিমিত্তে আজ আমরা বন্ধু,যে মহিমার কারণে আমরা এক নারীকে ভালবেসে অজবীথিতে স্বর্গীয় সুখের দেখা পাই। আর ঈশ্বরে আমাতে মিলনও হয় শুধুমাত্র এই একটি উপলক্ষ্যতেই। ভাবরাজ্যে যদি কখনও বিচরণ করতে তবে বুঝতে অর্থ কতটা নিরর্থক! যাই হোক আমি মনে প্রাণে শুধু ভালবাসাকেই কামনা করি। প্রকৃতির ভালবাসার কাব্যিক ছন্দে হারিয়ে যেতে চাই,নারী ভালবাসায় মোহমুগ্ধ হয়ে রঙ্গিন জীবন ছবি আঁকতে চাই,বন্ধু-স্বজনের ভালবাসার বেষ্টনীতে কাটাতে চাই জীবন। ঈশ্বর প্রেমে বিমুগ্ধ হয়ে ঘরছাড়া হয়ে অচেনা পথে তার খোঁজে যুগের পর যুগ হেটে যেতে চাই। জীবন হোক প্রেমময়। তাদের এই কথোপকথনকে কেউ যেন এক ঝাপটা শীতল বায়ু দিয়ে স্বাগতম জানিয়ে গেল। বক্তার গায়ের লোমগুলো শিহরণে দাঁড়িয়ে গেল। অপার্থিব মধুর এক অনুভূতিতে ভরে উঠল তার প্রাণ ও মন। মুখজুড়ে তার দেখা দিল এক প্রশান্তির বন্যা ধারা। এবার তৃতীয় জন বলল-তোমাদের এই বেঢপ কথাবার্তার সাথে নিজেকে আর মানিয়ে নিতে পারছি না। প্রেমকামী তোমার একগাদা প্রেম মাখানো গদগদ রচনা আবৃত্তি বলে দিচ্ছে যে তুমি যথেষ্ট নির্বোধ। হে ধনকামী তুমি তো নিরেট বোধহীন। মনে হয় ভাবার কাজটা তোমাদের দিয়ে খুব একটা হয়না! ওরে মানব আমরা ভাবতে পারি বলেই তো আজ শীর্ষে,আমরা পশু শ্রেণি থেকে ব্যতিক্রম। যদি ভাবতে তবে বুঝতে জগতে মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার জন্য চাই আপন বুদ্ধিমত্তার প্রতিষ্ঠা। বেঁচে থাকার প্রশান্তি সেখানেই যেখানে তুমি সৃষ্টির সুখ পাবে। ভাবার অতীত কিছু ভাববে,অসম্ভব কিছু সমাধা হবে শুধু তোমার বুদ্ধির বলে,দশে তোমাকে অনুসরণ করে বেঁচে থাকা শিখবে। যারা জ্ঞান রাজ্য নির্ভর করে জীবনের এক একটি দিন খরচ করে,তারাই বুঝে যে জ্ঞান জীবনকে কত ভাবেই না প্রতীয়মান করতে পারে! আর প্রতিবারেই সেখানে নতুন এক স্বাদের দেখা মেলে।

যাই বল না কেন তোমরা,আমি চাই বুদ্ধিবাদের নৌকায় চেপে জ্ঞানের সাগরে ভেসে চলব জীবনভর। আর নতুন নতুন সৃষ্টির সুখে বারংবার শিহরিত হবে এই ক্ষুদ্রাকার জীবন।

 

এসব বলতে বলতে তারা পাড় ধরে দুই ক্রোশ হেঁটে নদীর উপর দিয়ে আড়াআড়িভাবে শায়িত  লম্বা একটি কাঠের সেতু পেরিয়ে জঙ্গলের মাঝ দিয়ে কাটা রাস্তা ধরে পাহাড়ের নিচে এসে দাঁড়াল। এ পর্যায়ে তাদের বক্তব্য বেগ পেতে পেতে তুমুল বিতণ্ডতায় গিয়ে দাঁড়াল। তারা প্রত্যেকে নিজ অবস্থানে দাঁড়িয়ে নিজের বিশ্বাস ও সত্যকে বাক্য ঝড়ে অখণ্ডনীয় প্রমাণ করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠল। বড় পাহাড়টার পিছেই ছিল অপেক্ষাকৃত ছোট একটি পাহাড়। আর এ দুইয়ের মাঝে ছিল কিছুটা সমতল ভুমি যেখানে বিরাটকার অশত্থ গাছ তার ডাল-পালা নিয়ে পাহাড়ের গা ঘেঁষে যেন শুয়ে ছিল। সে গাছ তলায় ছোট্ট একটি কাঠের ঘর ছিল,যেখানে সবসময় বিরাজ করত শীতল,আর্দ্র,ছায়াময় এক আশ্রয়। সে ঘরে বসে এক সন্ন্যাসধারী সাধক সাধনা করে চলছিল কয়েক যুগ যাবত। বন্ধুত্রয়ের বাক বিতণ্ডায় সে মহাঋষির ধ্যান ভঙ্গ হয়ে গেল। ক্রোধে সে উন্মাদ হয়ে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে এল।

 

২.

ঘর ছেড়ে বেড়িয়ে এসে দীর্ঘাকায় গেরুয়া বসনধারী সাধক তার শক্ত-পোক্ত শরীরে ভর করে আত্মবিশ্বাসের সাথে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে তার স্ফীত চোখে যুবকত্রয়ের দিকে তাকিয়ে তাদের বাক-বিতণ্ডা শুনছিল। যুবকেরা আচমকা তাকে দেখে বিচলিত হয়ে যায়। সাধু মৃদু হেসে তাদের বললেন-হে মূর্খ,নাদান,অপরিপক্ক প্রাণ তোরা যা বলে চলেছিস তা কেবলই তোদের নিজ নিজ ব্যক্তিসত্ত্বার ভিন্ন ভিন্ন অবস্থানের কল্পিত সত্য মাত্র। তোদের জীবনকে পরিক্রমণশীল বৃত্তাকার সময় সীমার একটি নির্দিষ্ট সময় বিন্দুতে দাঁড়িয়ে কিছু হঠকারী ভাবনা মাত্র। বন্ধুত্রয় ঋষির দিকে শক্ত চাহনি নিক্ষেপ করল। ঋষি তোয়াক্কা না করে বলে চললেন-তোরা অদ্যাবধি তোদের জীবনের অপূর্ণতার হেতুগুলোকে ধরে নিয়েছিস তোদের কয়েদ জীবনের পরিত্রাণের উপলক্ষ হিসেবে,অভাববোধ তোদের জীবনকে পরিচালিত করেছে নিজ নিজ নির্বাচিত পথে। তোরা বর্তমানে বন্দী…তোরা সময় বিন্দুতে বন্দী…আপন সত্ত্বা তোদের বেঁধে ফেলেছে স্ব স্ব কারাবাসে।

 

বুদ্ধিবাদী আর সহ্য করতে না পেরে তেজস্বী কণ্ঠে হুংকার দিয়ে বলে উঠলো- তবে তুমি বলো কিসে নিহিত রয়েছে জীবনের পরিতৃপ্তি? কোন পথে পরিচালিত হওয়া উচিত একটি আদর্শ জীবন? আজ আমাদের চোখ জুড়ে যে স্বপ্ন ভেসে চলে তা যদি অর্থহীন হয়, তবে আমরা কেনই বা মেনে নিব তোমার এই সন্ন্যাস ধারী বেশটা সঠিক জীবনপথ নির্বাচন?

সাধক-ওরে পথ কি এত সহজেই মেলে রে অধীর?

প্রেমকামী-আমরা আমাদের চাওয়া পাওয়াকে হাতের মুঠোবন্দী করব বলে ব্যাকুল,উন্মাদ। তোমার মত দ্বিধান্বিত নই আমরা। আমাদের ধ্যান-জ্ঞান,বুদ্ধি,বিবেক,চেতনায় সদা জাগ্রত আমরা।

ঋষি-অতি ব্যাকুলতা,উন্মাদনা হঠাৎ একদিন জীবনকে স্যাঁতস্যাঁতে করে দেয়। আর এটা ভুলিস না,যাকে যত শক্ত মুঠোয় আঁকড়ে ধরবি,চাপের দরুণ তা ততটা দ্রুততায় বিশ্বস্ত বন্ধনী  গলিয়ে বেরিয়ে যায়। তাই বহতা জীবনের সুধা ধীরে ধীরে পান কর।

এবার ধনকামী বলল-তবে তুমি শিথিল হস্তে তোমার সন্ন্যাসবাদের পাদদেশ ধরে মন্থর গতিতে জ্ঞানচর্চা চালিয়ে যাও,আমরা চললাম আমাদের স্বপ্নকে সত্যি করতে।

 

ঋষির শক্ত চেহারায় মৃদু হাসির ঝলকানি খেলে গেল। তিনি স্থির প্রগাঢ় কণ্ঠে যুবকত্রয়ের উদ্দেশ্যে বললেন-তোরা আমার ধ্যান ভঙ্গ করে দিলি, তার দরুণ আমি তোদের অভিশাপ দিলাম। তোদের অন্তরাত্মার সব স্বপ্ন পূর্ণ হবে অনাগত অর্ধ যুগের মধ্যে।এই বলে আর কালপাত না করে সন্ন্যাসী লম্বা লম্বা পা ফেলে তার ধ্যান ঘরে প্রবেশ করলেন।

বন্ধুত্রয় অবাক হয়ে ভাবল এ কেমন ধরন অভিশাপ? অতঃপর ঋষির কথায় খুব একটা কর্ণপাত না করে যে যার বাড়িতে ফিরে গেল।

এ সময় তাদের কেউই জানত না যে ওই দিনের পর আগামী ছয় বছরে তাদের ভেতরে আর কোন সাক্ষাৎ হবেনা।

 

৩.

পরবর্তী ছয় বছরে তাদের জীবনে অভাবনীয় সব নাটকীয় ঘটনা ঘটে গেল। ধনকামীর একমাত্র চাচা থাকতো বিলেতে। বিপত্নীক এই চাচা ছিল তার পারিবারিক জীবনে একদম একা। আমদানি-রপ্তানির ব্যবসা করে সে হয়ে উঠেছিল বিপুল অর্থের মালিক। হঠাৎ যকৃত দুরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত হয়ে সে চলে এসেছিল তার জীবনের শেষ প্রান্তে। তাই বেগতিক মৃত্যু পথযাত্রী এই চাচা তার বিষয় সম্পত্তি দেখা শোনার জন্য এবং ব্যবসা পরিচালনার জন্য তার ধনকামী ভাতিজাকে ডেকে নেয় তার কাছে এবং তার কিছুদিন পর তিনি মৃত্যু বরণ করেন। চাচা তার সবকিছুর স্থলাভিষিক্ত করে যায় তার ধনকামী ভাতিজাকে। অকস্মাৎ এই পাহাড়সম অর্থের অধিকারী হয়ে ধনকামী হয়ে পরে লাগামছাড়া। চাচার শেষকৃত্য কোন মতে সমাধা করে সে তার জীবনকে ভাসিয়ে দেয় বিলাসিতার জোয়ারে। তখন তার ছিল স্বপ্ন পূরণের সময়। মদ,জুয়া,নারীসঙ্গে মেতে ওঠে তার দিবারাত্রীর প্রতিটি প্রহর। বাড়িময় দামী দামী সব আসবাব,দেশ-বিদেশে ভ্রমণ,রাজকীয় পেটপূর্তি,বিলাসবহুল গাড়ি,স্বেচ্ছাচারী জীবনযাপন এ সব কিছু তখন তার মুঠোয়। এক বিদেশিনীকে বিয়েও করে ফেলে বছর দুয়েকের ভেতরে,যদিওবা কিছুদিন পরেই তাদের ডিভোর্স হয়ে যায়। অবশ্য সব কামনা বাসনার ক্রীতদাস হয়ে এভাবেই অর্থের জোয়ারে ভেসে যেতে থাকে তার উদ্ধত জীবন। সীমাকে ছাড়িয়েই সবকিছুতে মেতে ওঠায় হয়ে গেল তার প্রতি দিনের স্বভাব। এভাবে কয়েকটি বছর পেরিয়ে যাবার পরে হঠাৎ একদিন সে উপলব্ধি করতে শুরু করে মদ পানে তার আনন্দ নেই, শুধু বিরক্তিকর এক নেশা জেঁকে বসে,বন্ধু মহলের সবাই অর্থের পূজারী এবং নিতান্তই সুবিধাবাদীর দল,ব্যবসায় তার সুনাম ক্রমাগত খোয়া যাচ্ছে। নিরর্থক,হতাশাভরা,একাকী একটা জীবনে সদাসর্বদা মানসিক যন্ত্রণায় পদদলিত হতে শুরু করে সে প্রতিটি ক্ষণে। এভাবেই হঠাৎ একদিন সে চোখ মেলে চারপাশটা দেখে,স্বপ্নহীন কতটা শূন্য প্রাণ তার অস্তিত্ব! একদা স্বপ্ন ছিল,সঙ্গ ছিল,ছোট-বড় কত সমস্যায় জর্জরিত একটি জীবন ছিল,অথচ তাতে বেঁচে থাকার ঘোর লাগানো এক নেশা ছিল। আর আজ সবকিছুই যেন অন্তঃসারশূন্য। তার অন্তর হাহাকার করে কেঁদে ওঠে,যেন তিলে তিলে ক্ষয়িষ্ণু এক প্রস্তর খণ্ড শেষ একটি বারের জন্য সমুদ্র স্নানে সিক্ত হতে চায়। তাই অকস্মাৎ এক রাতে ধনকামী তার যাবতীয় সবকিছু বন্ধু জোসেফের হাতে সঁপে দিয়ে ওভারকোটের পকেটে একটি মদের বোতল আর কিছু টাকা চালান করে রওয়ানা হয়ে গেল সেই মহাঋষির সাধনালয়ের উদ্দেশ্যে।

 

অপর দিকে প্রেমকামী যুবকের জীবন বদলে যায় কিছু অভাবনীয় ঘটনা প্রবাহে। তার জীবনে অপ্সরী দর্শনীয় এক রমণী আসে এবং তারা দুজন প্রগাঢ় প্রণয়ে জড়িয়ে পড়ে। প্রেমের সেই উদ্দীপনায় প্রতিটি মুহূর্তের জন্য সে শুধু ভেবে চলে কতটা ভাগ্যবান সে। নারীর যেমন ছিল রূপ,তেমন তার গুণ। বিশাল বিত্তশালী পিতার একমাত্র কন্যা ছিল সে। আর প্রেমকামী ছিল কেবলই মধ্যবিত্ত পরিবারের এক সাধারণ ছেলে। যে কারণে তাদের ভালবাসায় নেমে আসে নানা রকম সামাজিক,পারিবারিক এবং আভিজাত্যের তারতম্যের দরুণ নানাবিধ চড়াই-উৎরাই। তাতে আরও রোমাঞ্চিত হয় তাদের প্রেম। প্রেমে যত বাঁধা তত বেগ। তাই প্রণয় নির্যাসে সিক্ত হয়ে বাঁধা-বিপত্তি ও সুখকর সব ঘটনার পালাবদলে জীবন হয়ে ওঠে শতগুন প্রেমময়। এমন অবস্থায় একদিন হঠাৎ বাড়ি ঘর ছেড়ে তারা পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে ফেলে এবং বেড়িয়ে পড়ে পাহাড়,সমুদ্র ও আরও কত অজানার রস আস্বাদনের জন্য। মধুচন্দ্রিমার সে রাতগুলির প্রতিটি প্রহর একান্ত নিজেদের প্রণয়-মণ্ডিত দিনগুলোর প্রতিটি ক্ষণ তাদের মনে ছাপিয়ে দেয় তাদের স্বপ্নিল সেই অমর প্রেমকাহিনী। ভালবাসার বর্ণীল স্রোতের ঝাপটানিতে শিহরিত হয় তাদের মন ও প্রাণ। এর মাঝে তারা ভুলেই গিয়েছিল তাদের নিত্য নৈমিত্তিক সাধারণ একটি জীবন আছে। কিন্তু কিছুদিন বাদেই ফিরে এসে তারা উভয় পরিবারের সম্মতিতে একটি সুখের সংসার শুরু করে। কিন্তু দিন যাপনের সাথে সাথে বদলে যায় তাদের ভালবাসার বন্ধন। বিয়ের আগে যেসব অতিরঞ্জিত স্বপ্ন তারা দেখেছিল,বাস্তবতার অঙ্ক কষতে গিয়ে দেখে তাতে ঢের ফারাক। অতি কামনার মৃত্যুতে জন্ম নেয়া ছোট ছোট হতাশাগুলো তাদের সংসার জীবনকে ধাবিত করে অসুখী দাম্পত্য জীবনের দিকে। এভাবেই যখন তারা দিনে দিনে নিরাশাময় এক দাম্পত্য জীবনে নিমজ্জিত প্রায়,ঠিক তখন তাদের ঔরসে জন্ম নেয় ফুটফুটে এক কন্যা সন্তান। শিথিল সংসারে নতুন করে সুখের গতি সঞ্চার হয়। এবার প্রেমকামী সংসারের মায়ার শিকলের অটুট বাঁধনে বাঁধা পড়ে যায়। কন্যার এলে-বেলে পায়ে এক কদম দু কদম করে হাঁটতে শেখা, কচি মুখের ভাঙ্গা বুলির আদুরে কথা বলা,ছোট্ট হাতের নরম ছোঁয়া সব কিছু মিলিয়ে এক পিতৃত্বের বোধ জন্ম নেয় তার মনে। কিন্তু কয়েকটা বছর কেটে যাবার পর তার কেবলই মনে হয় পিতৃত্বে সে নিতান্তই একা। দায়-ভার গুলো কেমন আষ্টে-পৃষ্টে বেঁধে ফেলেছে তাকে। যে সংসার,সুখ সে কামনা করেছিল এ যেন সম্পূর্ণই তার বিপরীত। সে অনুভব করে নিরন্তর চলমান প্রক্রিয়াশীল এক সমাজ ব্যবস্থার চক্রে সে অবিরত ঘূর্ণায়মান একটি ঘুটি মাত্র। এ থেকে কোন প্রস্থান নেই,নিস্তার নেই। তাই হঠাৎ একদিন সে সংসার ত্যাগ করে,তার বর্তমানকে তুচ্ছ করে অজানার গন্তব্যে বেড়িয়ে পড়ে কিছুটা স্বস্তি পাওয়ার আশায়। তখন তার পরিচয় হয় এক পীর গোত্রীয় ঈশ্বর উপাসকের সাথে। গুণী প্রেমকামীকে শেখায় এ ভুবনে কেবল ঈশ্বর প্রেমই শাশ্বত ও অন্তরের শান্তির খোরাক। কেবল তার চরণে সব কিছু লুটিয়ে জীবনের প্রকৃত মুক্তি। এ দীক্ষায় দিনে দিনে নিজেকে সঁপিয়ে দেয় প্রেমকামী। পার্থিব অস্তিত্ব ভুলে মহাত্রাতার জপে-তপে কেটে যায় তার জীবনের আরও কয়েকটি মাস। তারপর হঠাৎ এক ভোরে পীরের ডেরায় যখন সে হাত-মুখ ধোয়ার জন্যে পুকুর ঘাটে বসে এক আঁজলা পানির ঝাঁপটানি দিল মুখে ঠিক তখন তার মনে অগনিত সব অদ্ভূত চিন্তা খেলে গেল। এরপর ধীরে ধীরে চোখ খুলে সামনে তাকালো। বিষাদ ভরা সেই মনে প্রেমকামী আকাশ-জমিন,গাছ-গাছালি সবকিছু খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে লাগল। আর শান্ত মনে ভাবতে লাগল,সময়ান্তরে সকল প্রেমেরই মৃত্যু ঘটে,মেয়াদের তারতম্যই শুধু বন্ধনের জীবনকাল। শুধু বিরহই চিরকাল অমর। প্রেমকামী আর কোন কিছুর পরোয়া না করে ডেরা ছেড়ে পালিয়ে পা বাড়ায় পাহাড়তলীর সেই সাধকের সন্ধানে।

 

এদিকে বুদ্ধিবাদী টুকটাক লেখালেখি করে পাণ্ডুলিপি জমা দিয়ে বিভিন্ন প্রকাশনী থেকে বই বের করার চেষ্টা করে চলছিল বহুদিন ধরে। সাধুর সাথে বাক-বিতণ্ডা হওয়ার পরদিন হঠাৎ করেই মিতালী প্রকাশনী তাকে ডাক যোগে ডেকে পাঠায় এবং তার বই প্রকাশে আগ্রহের কথা জানায়। তার প্রকাশিত এই উপন্যাসটি ছাপানোর পর সারা দেশে তা বিপুল সারা ফেলে। অভাবনীয় সেই সাফল্যে আপ্লুত বুদ্ধিবাদী এবার কোমর বেঁধে নেমে পড়ে কাজে। এরপর লাগাতার প্রকাশিত হতে থাকে তার বেশ কয়েকটি উপন্যাস,গল্পগ্রন্থ,প্রবন্ধগ্রন্থ,কাব্যগ্রন্থ। এ সময় সংবাদ পত্রের সাথে সে সরাসরি লেখনী সুত্রে জড়িয়ে পড়ে। শহরতলীতে তার লেখা বেশ কিছু নাটক মঞ্চস্থ হয়। দেশের জাতীয় পদক,সাহিত্যপদক ও নানাবিধ সম্মাননায় ভূষিত হয় সে। বৈদেশিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গবেষণামূলক সেমিনারে আমন্ত্রণে দেশ-বিদেশ পাড়ি জমিয়ে নিজেকে প্রায় দেশের উচ্চস্থানীয় বুদ্ধিজীবীর আসনে অধিষ্ঠিত করে ফেলে। অল্প সময়ের এই ব্যাপক সাফল্যের জোয়ারে সে যন্ত্রের মত ছোটাছুটি করে চলে। এ সময়ে হঠাৎ তার মনে হয়,বেশি কাজ করতে গিয়ে সে কেবলই নিজের বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করে চলেছে। একই কথা বার বার বলে চলার ক্লান্তিকর এই চক্রধারা থেকে বের হওয়ার জন্য সে নিজের মনযোগের পথ বদল করে। বুদ্ধিবাদী টুকটাক ছবি আঁকতে শুরু করে এবং অল্প-বিস্তর গান লেখাতেও মন দেয়। কিন্তু আবার সেই একই চক্রের আবর্তন তার চারপাশটা জুড়ে। যেন,যা কিছু বলার সব বলা হয়ে গেছে। যা কিছু এ জীবনে অর্জন করার ছিল তা আজ চরণ তলায় গড়াগড়ি খেয়ে যাচ্ছে। তবে কেন এই সামনে এগিয়ে চলা? কিসের আশায় এই শ্বাস-প্রশ্বাস? অস্তিত্ব আজ কেবলই নিথর। কেন আজ কোন কিছুই রোমাঞ্চিত করে না তার বেঁচে থাকার প্রাণশক্তিকে। তার হঠাৎ মনে পড়ে গেল তার বন্ধুযুগলের কথা,সেই তর্ক-বিতর্কের কথা,সেই বদমেজাজী সাধুর কথা। সেই রাতেই ঘরদোর,আত্বীয়-পরিজন,চেনা পৃথিবী সব ছেড়ে বুদ্ধিবাদী রওনা হয় মহাঋষির সন্ধানে।

 

৪.

ইতোমধ্যে বন্ধুত্রয়ের জীবনে অর্ধযুগ কেটে গেছে। ঠিক একই সময়ে তারা সবাই সবার অজান্তে পাহাড়তলীর সাধকের গন্তব্যে পা বাড়িয়েছে। শীতের কুয়াশাচ্ছন্ন সেই ভোরে আলো তখনও ফুটে নি। প্রকৃতির ক্রান্তি কালে রাত্রির বিদায় যাত্রার মধ্য দিয়ে ভোরের সোনালী আলো কুয়াশার জমাট বাঁধা দুর্গ ভেদ করে ধরিত্রীর নরম শরীরে আলতোভাবে যেন রোদ্দুর মাখিয়ে চলেছে। চারপাশের গাছ-গাছালিগুলো যেন মাত্র স্নান সেরে উঠোনে মাদুর পেতে রোদ পোহাতে বসেছে। পাখ-পাখালী যেন আরও একটা দিন বেঁচে থাকার প্রগাঢ় আনন্দে কিচির-মিচির ডাকে সৃষ্টিকর্তাকে জানিয়ে চলেছে অবিরত অভিবাদন। এমনি সকালে ধনকামী সেই কাঠের সেতুর উপর দাঁড়িয়ে ওভারকোটের পকেট থেকে মদের ছোট্ট একটা বোতল বের করে চুক চুক করে তা পান করছিল,হাতে জলন্ত সিগারেট,চোখে তার বিষাদ। চারপাশটা ছিল নির্জন,নিরাশাময়। হঠাৎ সে দেখতে পেল কেউ একজন হেঁটে তার দিকে এগিয়ে আসছে,চিনতে অসুবিধা হলনা তার বুদ্ধিবাদী বন্ধুকে। কাছাকাছি এসে দুজন দুজনকে জড়িয়ে ধরল। উন্মাদনায় চেঁচিয়ে উঠল দুজনে। হড়বড় করে অনেক কিছুই দুজনে বলতে লাগল,যেন কেউ কারও কথা না শুনে কেবল নিজের কথায় বলে চলেছে। তৃতীয় এক ব্যক্তির আগমনে তাদের আনন্দে ভাটা পড়ে যায়। প্রথমে তারা মুখভর্তি দাড়ি-গোঁফ,গায়ে চাদর জড়ানো,কিম্ভূতকিমাকার পাঞ্জাবী-পায়জামার বসনে তাদের প্রেমকামী বন্ধুকে চিনতে না পারলেও,প্রেমকামীর উদ্ভট চিৎকারে তারা বুঝতে পারে এই ব্যক্তি তাদের তৃতীয় মাস্কেটিয়ার্স। তিনজনে জড়াজড়ি করে চিৎকার হৈ-হুল্লোড়ে কাঁপিয়ে তোলে সেই নির্জন বনভূমি। জড় দেহে হয়েছিল যেন এক নতুন প্রাণের সঞ্চার। এভাবেই তাদের অনেকটা সময় পেরিয়ে গেল একে অন্যের কুশলাদি জিজ্ঞাসাবাদ করেতেই। মোদ্দা কথা সবার কাছেই স্পষ্ট হল,আজ তারা এখানে এসেছে সাধকের সেই অভিশাপ থেকে মুক্তি লাভের আশায়। এই ছয় বছরে সাধুর অভিশাপ বাক্যের প্রত্যেকটি শব্দের মর্মার্থ তারা অনুধাবন করতে পেরেছে। আজ তারা কেবলই কামনা করে একটি সহজ-সরল জীবন। যে জীবনে উত্থান এবং পতনের পালাবদল থাকবে,অভাব এবং প্রাপ্তির সমান্তরাল পথচলার উপস্থিতি থাকবে। যেখানে সংকট থাকবে,সুখ থাকবে,থাকবে সমাজ-পরিবার-আত্মীয়-পরিজনের প্রভাব। যেখানে থাকবে জীবনের সকল উপকরণের মিশ্র এক আদর্শ উপস্থিতি। যেখানে কেউ একজন চালিয়ে নেবে,আর প্রত্যেকে অগণিত অজানাকে লালন করে রচনা করবে জীবনের এক একটি মুহূর্ত। সেসব আলোচনা করতে করতে তারা হেঁটে চলেছিল। এক পর্যায়ে সাধুর সেই সাধনালয়ের সামনে এসে তারা দাঁড়াল। বেশ কয়েকবার তারা চিৎকার করে ডাকাডাকি করল কিন্তু কোন সাড়া পেল না। প্রেমকামী তখন উঁকি দিয়ে দেখল ঘর জনশূন্য। এবার তিনজনে ঘরে প্রবেশ করল। শীতল পরিচ্ছন্ন সেই ঘরে  কেউ নেই। একটি মাদুর পাতা আছে আর তার কোণে কিছু গেরুয়া রঙের কাপড়-চোপড় পড়ে আছে। ঘরের অন্য কোণে কিছু বাসন-কোসন পড়ে আছে। তারা বাহিরে বেড়িয়ে এসে গাছ-গাছালির গোড়ালিতে ঠেস দিয়ে বসে গল্প গুজব করতে লাগল আর সাধুর অপেক্ষা করতে লাগল। এভাবে সারাটাদিন কেটে গেল,বেলা ডুবুডুবু সন্ধ্যায় তারা সেই প্রতীক্ষিত মহাঋষির দেখা পেল। সাধু একটি চটের থলে হাতে গ্রামের উত্তরের রাস্তা ধরে হেঁটে হেঁটে তার ঘরের দিকে এগিয়ে আসছিল। উত্তেজনায় বন্ধুত্রয় উঠে দাঁড়িয়ে তার আসার অপেক্ষা করতে লাগল। কিন্তু সাধু কাছাকাছি এসে যেন কাউকেই দেখতে পেল না এমন ভাব করে তার ঘরে প্রবেশ করল। তারা তিনজন তাকে অভিবাদন করতে করতে তার পেছনে পেছনে ঘরে ঢুকে পড়ল।

প্রেমকামী-হে মহাজ্ঞানী,আমরা তোমাকে কিছু বলতে চাই।

সাধক-প্রথমেই বল তোমাদের ভেতর কে ভাল পাক করতে জান?

প্রতিউত্তরের অপেক্ষা না করে বলে চলল-ঘরের পেছনে হেঁসেল আছে, এই বাজারগুলো নিয়ে যাও। আর রাতের আহারের জন্য রান্না চাপিয়ে দাও। এই বলে থলে দেয়ালের এক কোণে ঠেস দিয়ে রাখল। বন্ধুত্রয় তড়িঘড়ি করে সাধুর আদেশ পালনে উদ্যত হল। রাত্রির সেই আহার প্রস্তুতের সময় তারা একে অন্যকে বলে চলল তাদের প্রত্যেকের ব্যক্তি জীবনের বর্তমান জীবদ্দশার কথা। এভাবে সময় কেটে গেল,রাত ঘনিয়ে এল। রাতের সেই আহারের সময়ে তারা একসাথে খেত বসল। সাধুর ঘরে ছোট একটি কুপি জ্বলছিল। কুপির সেই হলদে আলোয় তারা চারজন মাদুরে বসে চুপচাপ রাতের খাবার খেল। আহারের পর তারা সাহস করে সাধুকে তাদের কথা বলতে লাগল। বাক-বিতণ্ডার পরদিন থেকে তাদের যে নতুন জীবন শুরু হয়েছিল এবং তারপর থেকে কিভাবে তাদের সবার জীবন পর্যবসিত হল একটি অর্থহীন জীবনে। মৃদু হাসি মাখানো মুখে স্থির চাহনিতে সাধু তাদের সবার কথা শুনে গেল। তাদের সব কথা শেষে তারা সকলে সাধুর কাছে ক্ষমা চাইল। সাধু কিছু বলল না কিংবা তার মুখাবয়বেও কোন পরিবর্তন দেখা গেল না। তখন বন্ধুত্রয় আরও মরিয়া হয়ে তাদের স্যাঁতস্যাঁতে জীবনের ভয়ংকর পরিণতি ও তা থেকে মুক্তির আবেদনে অনর্গল মিনতি করে চলল। বুদ্ধিবাদী বলল তবে আজ আমাদের পথ দেখাও হে সাধক।

সাধু-ওরে পথ কি এত সহজেই মেলে রে অধীর!

ধনকামী-তবে কি আমাদের এত প্রশ্নের উত্তর তুমি তাহলে দেবে না। তবে কি আমরা অভিশপ্তই থেকে যাব অনন্তকাল।

সাধু-যেদিন আমি প্রথম এই সাধনালয়ে এসে আমার গুরুকে তোদের মতই অসংখ্য প্রশ্নের আঘাতে জর্জরিত করেছিলাম, সেদিন সে আমাকে বলেছিল একদিন আমি এসব প্রশ্নের উত্তর ঠিক খুঁজে নেব। আজ তোরাও সাধনার কাবিল হয়েছিস। এই বলে সাধক তার মাদুরের এক কোণে গিয়ে তার শোয়ার আয়োজন করতে  লাগল। নিরাশায় বন্ধুত্রয় ঘর ছেড়ে বেড়িয়ে এল। আবার শুরু হল তাদের আলোচনার ঝড়। রাতভর তারা একে অন্যকে মনের দুঃখ-বেদনার সব কথা বলে চলল। অনেকদিন পর কথা বলে তাদের মনে হতে লাগল কেউ একজন তাদের কথা ততটাই আত্মা ভরে শুনছে যতটা আত্মা ভরে তারা বলে চলেছে। এভাবেই রাত যখন শেষ হয়ে আসছে প্রায়, তখন যে যার মত গাছের গোড়ালিতে ঠেস দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ল। সকালের রোদের ঝলকানিতে তাদের ঘুম ভাঙল। তারা আড়মোড়  ভেঙ্গে আবার নতুন ভাবে বুদ্ধি পাতানো শুরু করল যে কিভাবে এই রাগী সাধকের মনকে বিগলিত করা যায় এবং একসময় তাদের আলোচনা শেষে তারা সাধুর ঘরে প্রবেশ করল এবং অবাক হয়ে দেখল সাধকের সাধনালয় জনশূন্য পড়ে আছে। ঘরের চারপাশটা ভালভাবে লক্ষ্য করে দেখল ঘরের কোণে একটি কাগজ পড়ে আছে যাতে বড় বড় অক্ষরে লেখা “চললাম”। তারা বুঝতে পারল সাধক তার সাধনালয়ের মায়া ছেড়ে চিরকালের জন্য কোথাও চলে গেছে।

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0267 seconds.