• বাংলা ডেস্ক
  • ০৯ নভেম্বর ২০১৯ ২২:০৬:০৭
  • ০৯ নভেম্বর ২০১৯ ২২:০৬:০৭
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

জাবির আন্দোলনকারীদের সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া আন্দোলনকারীদের সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকার কোনো ব্যবস্থা নিতে পারবে না- এমনটা কখনো হতে পারে না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘তা যদি করতে হয়, তাহলে নিজেদের অর্থ নিজেরা জোগান দিতে হবে। নিজেদের বেতন নিজেদের দিতে হবে। নিজেদের খরচ নিজেরা চালাবে। সরকার সব টাকা বন্ধ করে দেবে। কারণ স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, পাবলিক দেবে। সরকার কেন খরচ করবে? সেটাও তাদের চিন্তা করতে হবে। কোনটা করবে।’

শনিবার ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় শ্রমিক লীগের সম্মেলনে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

এসময় প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘উস্কানি দিয়ে ছাত্রদেরকে বিপথে নেওয়া, আর এখানে মুখরোচক কথা বলা, এটা কখনো কেউ মেনে নিতে পারে না।’

অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অচল হয়ে পড়লে গত সপ্তাহে কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে। তবে বন্ধের পরও কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন আন্দোলনকারীরা।

আন্দোলনকারীদের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নাকি আমরা বুঝিনা। যারা কথা বলছেন তারাই বোঝেন? যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন, তারাই বোঝেন! আর পড়াশোনা নষ্ট করে সেখানে স্ট্রাইক করে দিনের পর দিন কর্মঘণ্টা নষ্ট করবেন। ছেলে মেয়েদের পড়াশোনা ব্যাহত করবেন, তারা বোঝেন, আর বুঝব না আমরা? এটা তো হয় না।’

তিনি বলেন, ‘অর্থ সরকার দেবে। সব রকম উন্নয়ন প্রকল্প সরকার করবে। সেটা নিতে খুব ভালো লাগবে।  আর সরকার সেখানে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারবে না, এটা কখনো হতে পারে না।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘কথায় বলে স্বাধীনতা ভালো, তবে তাহা বালকের জন্য নহে। এটা মাথায় রাখতে হবে। আমি মনে করব এ ধরনের বালকসুলভ কথাবার্তা না বলাই ভালো। বরং ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করবে তাদের লেখাপড়া শিক্ষার সময় যেন নষ্ট না হয় উপযুক্ত সময়ে তারা ভালো রেজাল্ট করবে এবং তারা জীবনকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলবে, সেটাই আমরা চাই।’

আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘তা যদি করতে হয়, তাহলে নিজেদের অর্থ নিজেরা জোগান দিতে হবে। নিজেদের বেতন নিজেদের দিতে হবে। নিজেদের খরচ নিজেরা চালাবে। সরকার সব টাকা বন্ধ করে দেবে। কারণ স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, পাবলিক দেবে। সরকার কেন খরচ করবে? সেটাও তাদের চিন্তা করতে হবে। কোনটা করবে।’

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রের অর্থায়নের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর কোনো দেশে এত অল্প খরচে কিন্তু শিক্ষা দেওয়া হয় না। সেখানে স্বায়ত্তশাসন আছে, একথা সত্যি। কিন্তু টাকা দিচ্ছে কারা। টাকা তো সরকার দিচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘একজন শিক্ষার্থী ইউনিভার্সিটিতে কয় টাকা খরচ করে, মাসে বড় জোর দেড়শ টাকা খরচ করে‌। এই টাকায় কি উচ্চশিক্ষা হয়? যদি প্রাইভেট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যান কয় লক্ষ টাকা লাগে, প্রতি সেমিস্টারে আর আমাদের পাবলিক ইউনিভার্সিটি তে কত লাগে? সে টাকা কে দেয়? জোগান দেয় সরকার। আর ইঞ্জিনিয়ারিং বা কারিগরিতে তার চেয়ে বেশি টাকা খরচ হয়। সব টাকা তো সরকারের পক্ষ থেকে যাচ্ছে। সেখানে ডিসিপ্লিন থাকবে। উপযুক্ত শিক্ষা নিয়ে নিজেদের জীবনকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলবে। সেটাই আমরা চাই।’

কারো বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলার পর সেটা প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইনে অভিযোগকারীর শাস্তি পেতে হয় বলেও আন্দোলনকারীদের স্মরণ করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘ইদানিং দেখছি, কোনো কথা নাই-বার্তা নাই ব্যবস্থা নেয়ার পরও কয়েকজন মিলে জাস্ট অহেতুক অভিযোগ তুলে..সেটা সত্য অভিযোগ, না মিথ্যা অভিযোগ। আমাদের আইনে আছে এ দেশে, কেউ কেউ যদি কারো বিরুদ্ধে কোনো মিথ্যা অভিযোগ আনে, আর সেটা যদি প্রমাণিত না হয়, তাহলে যেই অভিযোগকারী, ওই আইনে তার বিচার হয়, সাজা হয়। কাজেই যারা কথা বলছেন, তারা আইনগুলো ভালোভাবে দেখে নেবেন। সেটাই আমরা বলব। কারণ আপনাদেরই ছাত্রী ছিলাম, পড়াশোনা করে আসছি। এটা ভুলে গেলে চলবে না। আমি এটা বললাম, কারণ কিছু কিছু বেশ পাকা পাকা কথা শুনি আমরা। সেজন্যই একথা বলতে বাধ্য হই।’

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0270 seconds.