• বাংলা ডেস্ক
  • ০৯ নভেম্বর ২০১৯ ১৫:২৯:০১
  • ০৯ নভেম্বর ২০১৯ ১৫:২৯:০১
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের একাল সেকাল

ছবি: সংগৃহীত

মো. তাজুল ইসলাম : 

মাদকদ্রব্য, বাল্যবিবাহ, দুর্নীতি বাংলাদেশের সামাজিক সমস্যার মধ্য অন্যতম। মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত অপরাধ ও তার অনিয়ন্ত্রিত অবস্থা সারাদেশ ব্যাপী সবচেয়ে আলোচনার বিষয়বস্তু হয়। কোনভাবে যখন মাদকদ্রব্য অপরাধ সমূহ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভবপর হচ্ছিল না ঠিক তখনি মাদক সক্রান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণের জন্য বর্তমান সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করে। যার ফলশ্রুতিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ প্রণয়ন হয়। এই আইনটি অত্যন্ত সূদরপ্রসারী এবং যুগোপযোগী করে নীতি নির্ধারকরা প্রস্তুত করেছেন বলে মনে হয়।

সমসাময়িক আইনের ফাঁক গলিয়ে বের হতে পারে এমন কোন সংজ্ঞা, উপাদান ও আলোচনা নেই যা এই আইনে অন্তর্ভূক্ত করা হয় নাই। ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনটি বর্তমানে অপরাধের ধরণ ও ঘটনার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারছিলো না। যেহেতু মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৯০ রহিত করা হয় সেকারণে মাদক দ্রব্যের নিয়ন্ত্রণ, সরবরাহ ও চাহিদা হ্রাস, অপব্যবহার ও চোরাচালান প্রতিরোধ এবং মাদকাসক্তের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন যুগোপযোগী করাসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিধান বিষয় সংবলিত একটি নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়।

যেমন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৯০, দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে কার্যকরী থাকলেও সীসা বা ইয়াবা মাদকের শ্রেনীতে অন্তর্ভূক্ত ছিল না। ফলে ইয়াবা এবং সীসা নতুন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ তে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। কিন্তু ডোপ টেষ্টে কেউ পজেটিভ হলে তাকে ১৫ বছরের কারাদন্ডের বিধান রাখা হয়েছে। যাবতীয় মাদকদ্রব্য মাদক হিসাবে এই আইনে মাদকদ্রব্য হিসাবে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। ঐ আইনের অধীনে দায়েরকৃত মামলাসমূহ বর্তমানে আদালতে ও ট্রাইব্যুনালে চলমান ও বিচারাধীন থাকায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৯০ সেই অর্থে এখনও কার্যকর। কিন্তু বিশ্ব পরিবর্তন এবং বিবর্তনের সাথে সাথে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার আবির্ভাবে উন্নত ও অভিনব শ্রেণীর মাদকের উদ্ভাবন হয়। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে নতুন মাদক শ্রেণীর কেস মামলার বিচার পরিচালনা ও অপরাধের শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। 

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এ ৩৮টি সংজ্ঞা রয়েছে, যার মধ্যে ১৮টি নতুন সংজ্ঞা। মাদকসংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের অপরাধের ধরন বিবেচনা করে সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য সেবন করে কেউ নেশাগ্রস্ত অবস্থায় জনগণের শান্তি নষ্ট করলে বা একই অপরাধ তিনবার করলে, তার সাজা হবে। আইনে না থাকলেও নতুন যেকোনো ধরনের মাদকদ্রব্য আবিষ্কৃত হলেই তা আইনের আওতায় আসবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিদ্যমান আইনে মাদকের সব অপরাধের বিচার ভ্রাম্যমাণ আদালতে হতো না।  মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ আইনে অপরাধের লঘু-গুরু বিভাজন ও পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে দণ্ডের পুনর্বিন্যাসসহ সব ধরনের মাদকের ক্ষেত্রে ভ্রাম্যমাণ আদালতের এখতিয়ার সম্প্রসারণ করা হয়েছে। সিসা বারের অনিয়ন্ত্রিত কার্যক্রম নৈতিক অবক্ষয়সহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। সে জন্য আইনে অ্যালকোহল ব্যতীত অন্যান্য মাদকদ্রব্য বা মাদকদ্রব্য উৎপাদন বা প্রক্রিয়াজাতকরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। 

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর ধারা ৯ এবং ১০ এর বিধান লঙ্ঘনের উক্ত নতুন আইনের ৩৬ (১) ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, কোনো ব্যক্তি যদি নিম্নের সারণির ২য় কলামে উল্লিখিত কোনো মাদকদ্রব্য সম্পর্কে ধারা ৯ এবং ১০ এর কোনো বিধান লঙ্ঘন করে তাহা হইলে তিনি উক্ত সারণির কলাম ৩ এ উল্লিখিত দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন, যথা- (২) কোনো মাদকদ্রব্য অপরাধের জন্য দণ্ডিত হইয়া দণ্ড ভোগ করিবার পর যদি কোনো ব্যক্তি পুনরায় কোনো মাদকদ্রব্য অপরাধ করেন, তাহা হইলে উক্ত অপরাধের দণ্ড মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড না হইলে তিনি উক্ত অপরাধের জন্য এই আইনে সর্বোচ্চ যে দণ্ড রহিয়াছে উহার দ্বিগুণ দণ্ডে দণ্ডিত হইবে। (৩) কোনো ব্যক্তি অ্যালকোহল পান কিংবা যে-কোনো ধরনের নেশাগ্রস্ত অবস্থায় জনসাধারণের শান্তি বিনষ্ট অথবা বিরক্তিকর কোন আচরণ করিলে কিংবা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালনা করিলে তিনি অনূর্ধ্ব ১ (এক) বৎসর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবে। (৪) কোনো সরকারি যানবাহনের চালক যানবাহন ব্যবহারকারী অফিসারের অনুপস্থিতিতে গাড়িতে মাদকদ্রব্য পরিবহণের সময় যদি ক্ষমতাপ্রাপ্ত অফিসার কর্তৃক হাতেনাতে আটক হন, তাহা হইলে তাহার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট অপরাধ অনুযায়ী আইনানুগ এবং বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে। 

ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে অন্যূন তিন মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে তিনি লাইসেন্স বা পারমিট পাবেন না। মহাপরিচালকের অনুমোদন ছাড়া লাইসেন্স পাওয়া কোনো মদের দোকান বা বার বন্ধ করা যাবে না। সরকার কারাগার, হাসপাতাল বা চিকিৎসাকেন্দ্রকে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করতে পারবে। যানবাহনে মালিকের অনুপস্থিতিতে মাদক বহন করলে চালক দায়ী থাকবেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদি কেউ মাদক রাখা বা ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিজের বাড়িঘর, জায়গাজমি, যানবাহন, যন্ত্রপাতি বা কোনো অর্থ বা সম্পদ ব্যবহার করেন, তবে তিনিও শাস্তির আওতায় আসবেন। নতুন আইনে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যখন যে মাদক বাজারে আসবে, সেই মাদকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে। সরকারি চাকরিতে প্রবেশের চাকরিপ্রার্থী মাদকসেবী কি না, তা পরীক্ষার জন্য নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর পঞ্চম অধ্যায় এ অপরাধ ও দণ্ড বিভাগে নতুন সংযোজন হিসাবে যারা মাদক ব্যবসায় অর্থ যোগানদাতা, পৃষ্টপোষকতা, মদদদাতা ইত্যাদি সম্পর্কে বিধান রাখা হয়েছে যা উক্ত আইনের ৪০ ধারায় বলা হয়েছে যে, কোন ব্যক্তি কোন মাদকদ্রব্য অপরাধ সংঘটনে অর্থ বিনিয়োগ করিলে অথবা অর্থ সরবরাহ করিলে অথবা সহযোগিতা প্রদান করিলে অথবা পৃষ্ঠপোষকতা করিলে তিনি সংশ্লিষ্ট ধারায় নির্ধারিত দণ্ডের অনুরূপ দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর ৫২ ধারা নতুন সংযোজন হিসাবে শিশু মাদকদ্রব্য অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে অভিযুক্ত হইলে তাহার ক্ষেত্রে অভিযুক্ত শিশুর বিচার পদ্ধতি সম্পর্কে বলা হয়েছে ৷ কোনো শিশু মাদকদ্রব্য অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে অভিযুক্ত হইলে তাহার ক্ষেত্রে শিশু আইন, ২০১৩ (২০১৩ সনের ২৪ নং আইন) এর বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে ৷ ষষ্ঠ অধ্যায় G ট্রাইব্যুনাল স্থাপন ও অপরাধের বিচার এর সময়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর নতুন সংযোজন হিসাবে অডিও এবং ভিডিও যা ক্যামেরায় গৃহীত ছবি, রেকর্ডকৃত কথাবার্তা, ইত্যাদির সাক্ষ্য মূল্য বিচার আমলে গুরুত্বপূর্ণ ইলেকট্রিক ডিভাইসের সাক্ষ্য হিসাবে ভূমিকা রাখতে পারবে এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর ৫৬ ধারায় বলা আছে Evidence Act, 1872 (Act No.I of 1872) তে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো ব্যক্তি বা তদন্তকারী সংস্থার কোন সদস্য বা অন্য কোন ব্যক্তি কোন মাদকদ্রব্য অপরাধ বা ক্ষতি সংঘটন বা সংঘটনের প্রস্তুতি গ্রহণ বা উহা সংঘটনে সহায়তা সংক্রান্ত কোনো ঘটনার ভিডিও বা স্থিরচিত্র ধারণ বা গ্রহণ করিলে বা কোনো কথাবার্তা বা আলাপ-আলোচনা টেপ রেকর্ড বা ডিস্কে ধারণ করিলে উক্ত ভিডিও, স্থিরচিত্র, টেপ বা ডিস্ক উক্ত অপরাধ বা ক্ষতি সংশ্লিষ্ট মামলা বিচারের সময় সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণযোগ্য হইবে। 

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ সালে প্রণীত আইনের ৫৭ ধারার বিধান হলো মোবাইল কোর্টে মাদকদ্রব্য অপরাধসমূহের বিচারের ব্যবস্থা। জনগণ বুঝতে পেরেছে মোবাইল কোর্টে ন্যায় বিচার হচ্ছে না। ন্যায়বিচার ছাড়া সমাজে শান্তি আসবে না। মোবাইল কোর্টের তাৎক্ষণিক বিচারের দর্শন আসলে ভীতি ছড়ানোর দর্শন। ভয় দেখানোর যন্ত্রগুলো জনপ্রিয় করে তোলার চেষ্টা আত্মঘাতী। বাধ্যতামূলক মৃত্যুদণ্ডের বিধান নারী নির্যাতন, ধর্ষণের রাশ টানেনি। মোবাইল কোর্টে মাদকদ্রব্য অপরাধসমূহের বিচারের ব্যবস্থা করার বিধান একদিকে যেমন মাদকদ্রব্য অপরাধসমূহের বিচারের শাস্তির মাত্রা যেমন কম করা হয়েছে তেমনি মাদকদ্রব্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমকে দুটি সমান্তরাল বিচারের মুখোমুখি করে মাদকের বিরুদ্ধে যে জিরো টলারেন্স নীতি জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার নিয়েছে তা হালকা ও গুরুত্বহীন করা হয়েছে।

সেকারনে মাদকদ্রব্য অপরাধকে জঘন্য ও গর্হিত অপরাধ ভেবে মোবাইল কোর্টে বিচারের ব্যবস্থা না করে সরকারের উচিত অতি সত্বর মাদক আইন অনুযায়ী ট্রাইব্যুনাল গঠন করে বিচারের ভার উপযুক্ত আদালতে ও ট্রাইব্যুনালে প্রদান করা। তা না হলে মাকদদ্রব্য অপরাধের গুরুত্ব ও গভীরতা বিবেচনায় মোবাইল কোর্টে ০১/০২ মাসের শাস্তি ও শুধু টাকা জরিমানার বিচার হাস্যকরে পরিণত হবে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর অন্যান্য অতিব জন গুরুত্বপূর্ণ নতুন নতুন বিষয় সংযোজন ও তার বিচার ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।

সেক্ষেত্রে বিচারহীনতার সংস্কৃতি দেখা দিবে এবং অপরাধীরা অপরাধ করে পার পাবে। তবে এই আইনের মধ্যে মোবাইল কোর্ট এর বিধান সংযুক্ত করে মাদক অপরাধকে যেভাবে গুরুত্বর ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দেখানো হয়েছিল তা কিছুটা হলেও আইনটিকে গুরুত্বহীন করেছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধের বিচারের দায়িত্ব ঠুনকো আইন না জানা মোবাইল কোর্টের ম্যাজিষ্ট্রেটদের প্রদান করা হয়েছে। যারা মাদকের রাসায়নিক পরীক্ষা ছাড়া সাজা প্রদান করে ইতোমধ্যে সমালোচিত হয়েছে। মাদকদ্রব্য অপরাধসমূহের বিচারে প্রমানিত হলে শুধু শাস্তি নয় বরং মাদকসেবীদের পুনর্বাসন ও নিরাময় কেন্দ্র স্থাপন একটি যুগান্তকারী ধারা নতুন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এ সংযোজন করা হয়েছে যা ৬১(১) ধারায় বর্ণিত হয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ ও ১৯৯০ সালের মাদক আইনের ৭৫ শতাংশ পরিবর্তন করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ করা হয়। মাদক অপরাধের তাৎক্ষণিক শাস্তি নিশ্চিত করতে কিছু অপরাধ ভ্রাম্যমাণ আদালতের আওতায় আনা হয়েছে। পুরোনো আইনে হেরোইন, পেথেডিন, মরফিন, কোকেনসহ আরও কিছু মাদকের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি ছিল মৃত্যুদণ্ড। এই সময়ের মধ্যে মাদকের তালিকায় যুক্ত হয়েছে ইয়াবা। ইয়াবা কেনাবেচায় মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ তে ০৫ গ্রামের অধিক নিষিদ্ধ ইয়াবা বা এ্যামফিটামিন উৎপাদন, চোরাচালান, বিতরণ অথবা ব্যবহার করিলে তাকে সর্বোচচ মৃত্যদন্ড এবং সর্বনিম্ন যাবজ্জীবন কারাদন্ডের বিধান রাখা হয়েছে। (Narcotics Control Act 2018, introducing provisions of death sentence as maximum punishment for anyone involved in producing, smuggling, distributing or using over 5 grams of banned drug yaba or amphetamines.) মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এ যদি কেউ ২৫ গ্রামের অধিক নিষিদ্ধ ‘এ শ্রেণীর মাদক হেরোইন বা কোকেইন উৎপাদন, চোরাচালান, বিতরণ অথবা ব্যবহার করিলে তাকে সর্বোচ্চ মৃত্যদন্ড এবং সর্বনিম্ন যাবজ্জীবন কারাদন্ডের বিধান রাখা হয়েছে। The new law also proposes to introduce death sentence as maximum punishment and life imprisonment as minimum for anyone involved in producing, smuggling, distributing or using 25 grams or more of “Category A” drugs, which include heroin or cocaine.

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৪৪ (১) ধারায় বলা হয়েছে, এ আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, প্রয়োজনীয় সংখ্যক মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করতে পারবে। (৪) উপ-ধারায় বলা হয়েছে, এ ধারার অধীন ট্রাইব্যুনাল স্থাপিত না হওয়া পর্যন্ত সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা সংশ্লিষ্ট জেলার যেকোনো অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজকে তাহার নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত ট্রাইব্যুনালের দায়িত্ব প্রদান করতে পারবে। পেনাল কোডের অপরাধ কোন কোন আদালত বিচার করতে পারে তা আমাদের সকলের জানা। কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউরের ২৮ ধারার বিধান মোতাবেক হাইকোর্ট বিভাগ অথবা দায়রা আদালত অথবা কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউরের দ্বিতীয় তফশিলের অষ্টম কলামে প্রদর্শিত কোন আদালত পেনাল কোডের অপরাধ বিচার করতে পারে। পেনাল কোড ছাড়া অন্য কোন আইনের অপরাধ কোন আদালত বিচার করবে সে বিষয়ে কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউরের ২৯ ধারায় আলোচনা করা হয়েছে।

কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউরের ২৯ ধারার বিধান মোতাবেক অন্য কোন আইনে কোন বিশেষ আদালতের কথা উল্লেখ থাকলে ঐ অন্য আইনের অপরাধ ঐ বিশেষ আদালতে বিচার হবে। তবে অন্য কোন আইনে কোন আদালতের কথা উল্লেখ না থাকলে ঐ অন্য অইনের অপরাধ বিচার কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউরের দ্বিতীয় তফসিলের অষ্টম কলামে প্রদর্শিত আদালত করতে পারবে। মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর আপরাধে বিচারের জন্য ট্রাইবুনালে স্থাপনের কথা বলা হলেও এখনও পর্যন্ত কোন ট্রাইবুনাল স্থাপন করা হয়নি। এমনকি ট্রাইবুনালের অবর্তমানে ট্রাইবুনালের দায়িত্ব পালনের জন্য কোন অতিরিক্ত জেলা জজ বা দয়রা জজকেও সরকার এখন পর্যন্ত দায়িত্ব প্রদান করেনি।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর অপরাধ বিচারের ক্ষেত্রে একটি অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। সেটি মহামান্য হাইকোর্ট এর আদেশে নিরসন হয়েছে। এবং হাইকোর্ট বলেছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৪৪(১) ধারা অনুসারে ট্রাইব্যুনাল গঠন না হওয়া পর্যন্ত ফৌজদারী কার্যবিধির ৫ (২) ধারা অনুযায়ী জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মাদকের মামলা চলবে। মাদক মামলার ট্রাইব্যুনাল গঠনরে বিষয়ে আইনমন্ত্রী শিগগিরই পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানান। নতুন মাদক আইনে শিশুর বিচার ব্যবস্থা, মাদক ব্যবসার অর্থযোগানদাতা ও পৃষ্টপোষক, অডিও ও ভিডিও ইলেকট্রিক ডিভাইসের সাক্ষ্যকে গ্রহণের বিধান, মাদকসেবীদের পুনর্বাসন এবং পুনরায় মাদক অপরাধীর দ্বিগুণ শাস্তি ইত্যাদি সংযুক্ত করা হয়েছে। একারণে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনটি একটি যুগান্তকারী ও সময়োপযোগী আইন তা নির্দ্ধিধায় বলা যায়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে সকল সরকার, রাজনৈতিক দল এবং রাজনীতিবিদদের দেশ ও সমাজের স্বার্থে একই প্লাটফর্মে থেকে কাজ করা উচিত।

তাহলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ সহজ ও টেকসই হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে চেয়েছিলেন এবং তিনি মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর মাদক মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার ধারাবহিকতায় তাঁরই সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা ও সরকার নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। যাতে করে বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে মাদক মুক্ত দেশ হিসাবে রোল মডেল হতে পারে।
 

লেখক :  বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসে কর্মরত।

(প্রকাশিত লেখার মতামত লেখকের সম্পূর্ণ নিজের)

 

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0320 seconds.