• বাংলা ডেস্ক
  • ০৯ নভেম্বর ২০১৯ ১৪:৫৫:২৯
  • ০৯ নভেম্বর ২০১৯ ১৪:৫৫:২৯
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

বাবরি মসজিদ : বাবর থেকে মোদি

ছবি : সংগৃহীত

ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ মামলা চল্লিশ দিন টানা শুনানির পর রায় স্থগিত রেখেছিল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। গতকাল ৮ নভেম্বর, শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ৯ নভেম্বর, শনিবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় রায় ঘোষণা করবেন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ।

যথারীতি রায় ঘোষণা হয়ে গেলো। ভারতের অযোধ্যায় বিতর্কিত জমিতে একটি ট্রাস্ট গঠনের মাধ্যমে মন্দির নির্মাণের রায় দিয়েছে আদালত। একই সাথে মসজিদ নির্মাণের জন্য মুসলমানদের জন্য আলাদা জমি বরাদ্দের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এই রায় নিয়ে টানটান উত্তেজনা ছিলো দেশজুড়ে। দীর্ঘ দিনের বিবাদ মিটিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পাশাপাশি জেনে নিন কবে, কোথায়, কী ঘটেছিল।

১৫২৮-২৯

মোঘল সম্রাট বাবরের নির্দেশে অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন তাঁর সেনাপতি মীর বাকি।

১৮৮৫

মহন্ত রঘুবীর দাস ফৈজাবাদ জেলা আদালতে মামলা দায়ের করে মসজিদ লাগোয়া জমিতে একটি মন্দির নির্মাণের আবেদন জানান। কিন্তু আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেয়।

১৯৪৯, ২২-২৩ ডিসেম্বর

সে বছর শীতকালে ২২-২৩ ডিসেম্বর নাগাদ বিতর্কিত সৌধের মধ্যে রাম লালা-র মূর্তি দেখা যায়। হিন্দুরা দাবি করে এ হল দৈব আবির্ভাব। কিন্তু অনেকে বলেন, মূর্তিটি কেউ সেখানে রেখে এসেছে।

১৯৫০

ফৈজাবাদ আদালতে মামলা দায়ের করেন গোপাল সিমলা বিশারদ ও পরমহংস রামচন্দ্র দাস। তাঁরা দাবি জানান, রাম লালার মূর্তিকে পুজো করার অনুমতি দিতে হবে।

১৯৫৯

বিতর্কিত জমির সত্ত্ব দাবি করে মামলা করে নির্মোহী আখাড়া।

১৯৬২

সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড বিতর্কিত জমির মালিকানা দাবি করে পাল্টা মামলা করে। সেই সঙ্গে দাবি করে রাম লালা-র মূর্তিকে সৌধ থেকে সরিয়ে দেওয়া হোক।

১৯৮৬, ১ ফেব্রুয়ারি

ফৈজাবাদ সেশন কোর্ট রাম লালা-র মূর্তিকে নিয়মিত পুজো করার অনুমতি দেয়। সেশন কোর্টের রায়ে আপত্তি জানায় মুসলিমরা। তৈরি হয় বাবরি মসজিদ অ্যাকশন কমিটি।

১৯৮৯, ১৪ আগস্ট

মালিকানা নিয়ে মামলা তথা টাইটেল স্যুট নিম্ন আদালত থেকে উঠে আসে এলাহাবাদ হাইকোর্টে। এলাহাবাদ হাইকোর্ট ১৪ আগস্ট রায় ঘোষণা করে বলে, বিতর্কিত জমিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখা হোক।

১৯৮৯, ৯ নভেম্বর

সে বছর ৯ নভেম্বর বড় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে কেন্দ্রে তৎকালীন রাজীব গান্ধী সরকার। বিতর্কিত জমির কাছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদকে শিলান্যাসের অনুমতি দেয় রাজীব গান্ধী সরকার।

১৯৯২, ৬ ডিসেম্বর

৬ ডিসেম্বর। বাবরি মসজিদ ভেঙে দেন করসেবকরা।

১৯৯৩

নরসিংহ রাও সরকার বিতর্কিত ২.৭৭ একর জমি সহ সংলগ্ন ৬৭ একর জমি অধিগ্রহণ করে নেয়।

১৯৯৪

অযোধ্যা আইনে সরকারের মাধ্যমে ওই জমির অধিগ্রহণকে স্বীকৃতি দেয় সুপ্রিম কোর্ট। সেই সঙ্গে ইসমাইল ফারুকি মামলায় সর্বোচ্চ আদালত আরও বলে, মুসলিম ধর্মের অবিচ্ছেদ্য অংশ নয় মসজিদ।

২০০২

এলাহাবাদ হাইকোর্টে বিতর্কিত জমির মালিকানা নিয়ে শুনানি শুরু হয়।

২০০৩

মার্চ মাসে একটি মামলার রায়ে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয় সরকার অধিগৃহীত জমিতে কোনও ধর্মীয় কাজ করা যাবে না।

২০০৯

প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের কাছে অযোধ্যা নিয়ে রিপোর্ট পেশ করে লিবারহান কমিশন।

২০১০, ৩০ সেপ্টেম্বর

সে বছর ৩০ সেপ্টেম্বর বিতর্কিত জমির মালিকানা নিয়ে মামলার রায় দেয় এলাহাবাদ হাইকোর্ট। বিরোধ মীমাংসার জন্য ২.৭৭ একর বিতর্কিত জমিকে তিন পক্ষের মধ্যে ভাগ করে পরামর্শ দেয় উচ্চ আদালত—রামলালা বিরাজমান, সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড এবং নির্মোহী আখাড়া।

২০১১

কোনও পক্ষই এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায় মানতে চায়নি। তারা সুপ্রিম কোর্টে মামলা করে। হাইকোর্টের রায়ের উপর স্থগিতাদেশ জারি করে সুপ্রিম কোর্ট।

২০১৭

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি কেএস কেহর পরামর্শ দেন আদালতের বাইরে আলোচনা করে বিরোধ মীমাংসা করা হোক।

২০১৭

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র-র নেতৃত্বে তিন বিচারপতির বেঞ্চ শুনানি শুরু করে।

২০১৯, ৮ জানুয়ারি

মামলাটির নতুন করে শুনানি শুরু করেন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বে পাঁচ জন বিচারপতির বেঞ্চ।

২০১৯, ৮ মার্চ

কোর্টের নজরদারিতে মধ্যস্ততা কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়। পরে ওই কমিটি রিপোর্ট পেশ করে।

২০১৯, ৬ আগস্ট

অযোধ্যা মামলা নিয়ে প্রতিদিন শুনানি শুরু হয় সুপ্রিম কোর্টে।

২০১৯, ১৬ অক্টোবর

রায় ঘোষণা স্থগিত রাখে সুপ্রিম কোর্ট।

২০১৯, ৯ নভেম্বর: 

রায় ঘোষণা করল সুপ্রিম কোর্ট

সংশ্লিষ্ট বিষয়

বাবরি মসজিদ

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0215 seconds.