• বিদেশ ডেস্ক
  • ০৬ নভেম্বর ২০১৯ ২২:০৫:২১
  • ০৬ নভেম্বর ২০১৯ ২২:০৫:২১
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

খরায় জিম্বাবুয়েতে শতাধিক হাতির মৃত্যু

ছবি : সংগৃহীত

তীব্র ক্ষুধা এবং পানির তৃষ্ণায় কাতর দুর্বল একটি হাতি বন্যপ্রাণীর জন্য সংরক্ষিত এলাকার জলাশয়ে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। অনেক কষ্টের পর বিশালদেহী এই প্রাণীটি তার কাংখিত গন্তব্যে পৌঁছতে পারলেও পানির দেখা পেল না।  বরং জলাশয়ের কাদায় আটকে পড়ে সে। জিম্বাবুয়ের সাম্প্রতিক খরায় এধরনের ঘটনার দেখা মিলছে প্রায় সময়ই।  খরার কারণে জলাশয়গুলোর পানিও কমতে কমতে পানির নিচের কাদা বেরিয়ে পড়েছে।            

ভয়াবহ এই খরার কারণে জিম্বাবুয়ের ন্যাশনাল পার্কগুলোর শতাধিক হাতি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে।  সম্প্রতি ১০৫টি হাতি মারা গেছে বলে জানিয়েছে পার্ক কর্তৃপক্ষ।  মৃত হাতিগুলোর বেশিরভাগই মানা পুলস এবং হুয়াঞ্জ ন্যাশনাল পার্কের বলে জানা গেছে।  বিগত দুই মাসে এদের মৃত্যু হয়।

কর্মচারীরা জলাশয়ের কাদায় আটকে পড়া ওই হাতিটিকে মুক্ত করে ছেড়ে দেয়। কিন্তু তৃষ্ণার্ত ওই হাতিটির পক্ষে বেশিদূর যাওয়া সম্ভব হয়নি।  কয়েক পা যাওয়ার পরেই এটি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।  হাতিটির কয়েক মিটার সামনেই একটি মহিষ মরে পড়ে রয়েছে।   

বর্তমানে মানা পুলস ন্যাশনাল পার্কের হাতি, জেব্রা, জলহস্তী, মহিষ, ইমপালা এবং অন্যান্য বন্যপ্রাণীরা খাবার এবং পানির কষ্টে রয়েছে।  বন্যপ্রাণীদের পান করার জন্য এই পার্কে চারটি বিশাল জলাশয় রয়েছে।  বর্ষাকালে জাম্বেজি নদীর পানি এসে এই জলাশয়গুলো পূর্ণ করে দেয়।  বন্যপ্রাণীরা সারা বছরই এই পানি পান করে থাকে।  

বর্তমানে খাদ্য এবং পানির আশায় অনেক বন্যপ্রাণীই সংরক্ষিত এলাকা ছেড়ে আশেপাশের লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে।  

উল্লেখ্য, জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান এবং সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় জিম্বাবুয়ের মানা পুলস ন্যাশনাল পার্কের নাম রয়েছে।  জাম্বেজি নদীর তীরে অবস্থিত এই পার্কটি মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্যের জন্য বিশ্বব্যাপী পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রে রয়েছে।   

যদিও বছরের এই সময়ে এই অঞ্চলটি বেশ গরম এবং আবহাওয়া শুষ্ক থাকে। কিন্তু গত বছর পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ার কারণে চলতি বছর অন্যান্য বছরের চেয়ে বেশি শুষ্ক অবস্থা বিরাজ করছে।  এমনকি নদীর পানির প্রবাহও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে গিয়েছে।   এছাড়া আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলে খরার কারণেও এই অঞ্চলে খরা দেখা দিয়েছে।

খরা পীড়িত ওই অঞ্চলের মানুষ বৃষ্টির জন্য উন্মুখ হয়ে আছে।  কিন্তু মৌসুমি বৃষ্টির শুরুর আগেই পার্কের আরো অনেক বন্যপ্রাণী মারা যেতে পারে বলে আশংকা করছে পার্ক কর্তৃপক্ষ।

মুনিয়ারাদজি জোরো নামে পার্কের একজন কর্মকর্তা মরা হাতির সামনে দাঁড়িয়ে জানান, তিনি প্রতিদিন সকালে বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, ‘ পরিস্থিতি গুরুতর হতে শুরু করেছে।  বৃষ্টি না হলে অবস্থা আরো খারাপ হবে। ’

তিনি জানান, গত এপ্রিলে সর্বশেষ বৃষ্টির দেখা মিলেছিল।  বর্ষা মৌসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় ফসলের ফলনও ভালো হয়নি। ফলে পানির পাশাপাশি খাদ্যের কষ্টেও রয়েছে বন্যপ্রাণীরা।   

প্রসঙ্গত, মানা পুলস ন্যাশনাল পার্কে ১২ হাজারের বেশি হাতি বিচরণ করে। এছাড়া পার্কটিতে বিপুল সংখ্যক সিংহ, জেব্রা, হায়েনা, মহিষ এবং বন্য কুকুরও রয়েছে।  খরার কারণে সৃষ্ট খাদ্যাভাবে এসব প্রাণী এতোটাই শীর্ণ হয়ে গিয়েছে যে তাদের চামড়া ভেদ করে হাড্ডি পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে। 

বাংলা/এফকে

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0200 seconds.