• বিনোদন প্রতিবেদক
  • ৩১ অক্টোবর ২০১৯ ২০:৫৮:৪৮
  • ৩১ অক্টোবর ২০১৯ ২০:৫৮:৪৮
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

শৃঙ্খলা নাকি নিয়মের শেকলে আটকে যাচ্ছে টিভি নাটক?

ছবি : সংগৃহীত

টিভি নাটক ঘিরে যেন এখন চলছে বিশৃঙ্খলা আর মানহীন নাটক প্রদর্শনের মহড়া। যেন একটি প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে কে কার চেয়ে কত বেশি মানহীন/রুচীহীন কাজ উপহার দিতে পারেন দর্শকদের। টিভি স্টেশনগুলোও সেইসব কাজ প্রচার করে যাচ্ছেন নিয়মিতই। বিশেষ করে গত কয়েক বছরে এর চূড়ান্ত রুপ দেখা যাচ্ছে।

শিল্পবোধ আর উন্নত রুচী তৈরির বদলে যেন রুচীহীন দর্শক তৈরির কাজই করে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। এর মাঝে হাতেগোনা কিছু মান সম্মত কাজ হলেও মানহীন কাজের নিজেই চাপা পরে থাকছে। এক দিকে তৈরি হচ্ছে মানহীন কাজ অন্যদিকে চলছে বিশৃঙ্খলা। পারিশ্রমিক-কাজের সময়সূচি ইত্যাদি নিয়ে শিল্পী-নির্মাতা-প্রযোজক একে অন্যকে দোষারপ করছেন। আর এসব সমস্যা সমাধানে এবং টিভি নাটক নির্মানের সাথে যুক্ত সংশ্লিষ্টদের একটি শৃঙ্খলার ভেতর নিয়ে আসতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ৪টি সংগঠন। টেলিপ্যাব, অভিনয় শিল্পী সংঘ, ডিরেক্টরস গিল্ড, টেলিভিশন নাট্যকার সংঘ সম্মিলিতভাবে চারটি নীতিমালা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নোটিশ দিয়েছে।

সংগঠনগুলো যৌথাভাবে নির্দেশনা জারী করেছে এই চার সংগঠনের সদস্য না হলে কেউ টিভি নাটক বানাতে পারবে না! একই সাথে ১ নভেম্বর থেকে নতুন নীতিমালা কার্যকর করতে যাচ্ছে। তাদের দেয়া চারটি নীতিমালা হলো-

১. আগামী ১ নভেম্বর ২০১৯ থেকে চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করে কাজ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। চলমান নাটক অনুষ্ঠান নির্মাণের ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। চুক্তিপত্র নিকেতনস্থ সংগঠনের কার্যালয় থেকে সরবরাহ করতে হবে।

২. সংশ্লিষ্ট সংগঠনের সদস্য ছাড়া কেউ নাটক অনুষ্ঠান নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত হতে চাইলে তাকে অবশ্যই প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণ করতে হবে।

৩. সংশ্লিষ্ট সংগঠনের সদস্য নয় এমন কারও সঙ্গে আন্তঃসংগঠনের সদস্য শিল্পী কলাকুশলী প্রযোজক-পরিচালক নাট্যকার উক্ত কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন না।

৪. চূড়ান্ত কর্মঘণ্টা হবে সকাল ১০ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত অর্থাৎ শিল্পী-কলাকুশলীদের সময়ের সঙ্গে সমন্বয় করে সেটে উপস্থিত নিশ্চিত করবেন। তবে চিত্রগ্রহণের কাজ শুরু হবে সকাল দশটায় শেষ হবে নির্ধারিত রাত দশটায়।

এর ব্যত্যয় ঘটলে শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য আন্তঃসাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে ওই নোটিশে। এই নতুন নীতিমালা নিয়ে অনেকেই আপত্তি তুলছেন। বিশেষ করে স্বাধীনধারায় কাজ করতে ইচ্ছুক নির্মাতারা এই নীতিমালাকে কাজের অন্তরায় বলে মনে করছেন। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন বাধ্যতা মূলক ভাবে সংগঠনের সদস্য হতে হবে এটাতো মুক্ত শিল্পর্চচার ক্ষেত্রে বাধা। 

নির্মাতা ও চলচ্চিত্র সংগঠক বেলায়েত হোসেন মামুন বাংলাকে বলেন, 'কোনো শিল্প মাধ্যমেই আইন আরোপ করা উচিৎ না। এতে করে ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হবে। যারা এগুলো করছেন ঠিক করছেন না।' 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক স্বাধীনধারার চিত্র নির্মাতা বলেন, ‘খেয়াল করে দেখুন আমি কিন্তু নাম প্রকাশ না করার শর্তে মন্তব্য করতে রাজি হয়েছি। কেন? কারন এই ধরনের নীতিমালা আপনার ভেতর অটো সেলফ সেন্সরশিপ তৈরি করবে। আমি যদি এখন প্রকাশ্যে সংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিয়ে এবং নীতিমালা নিয়ে সমালোচনা করি তাহলে হয়তো আমাকে টিভি নাটক প্রচার করতে বেগ পেতে হবে। কেননা যখনই টিভি নাটক বানাতে যাবো তখনই এদের সদস্য হতে হবে। যখনই সদস্যপদ চাইবো তখন এই সমালোচনার দায় নিয়ে আমাকে তখন সদস্য নাও দেয়া হতে পারে। আর কোন সংগঠনের সদস্য হওয়া না হওয়াটা আমার মৌলিক অধিকার। সেখানে বাধ্য করে সদস্য হওয়া না হলে তাকে কাজ করতে না দেয়াটা এটাকে কোন ভাবেই শিল্পী সংগঠনের আচরন হতে পারেনা। এটাকে আমি বলবো স্বৈরতান্ত্রিক আচরন।’

সাংবাদিক ও চলচ্চিত্র কর্মী শরীফ খিয়াম ঈয়ন বলেন, ‘নতুন নীতিমালার ৪ নম্বর পয়েন্টে বলা হয়েছে চিত্রগ্রহণের কাজ শুরু হবে সকাল দশটায়, এটাতো একটা বাজে সিদ্ধান্ত হয়েছে! সকালের ম্যাজিক লাইট না হয় বাদ দিলাম, সফট লাইটও কাজে লাগানো যাবে না! ক্যামেরা যদি সকাল ১০টায় অপেন হয় তাহলে ভোরের দৃশ্য কিভাবে নিবে?’

সংশ্লিষ্ট বিষয়

টিভি নাটক

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0212 seconds.