• বিদেশ ডেস্ক
  • ২৭ অক্টোবর ২০১৯ ০৮:৪০:৪৫
  • ২৭ অক্টোবর ২০১৯ ০৯:৩৫:৩৯
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

রাখাইন বিদ্রোহীদের হাতে মিয়ানমারের ৪০ সেনা-পুলিশ অপহৃত

ফাইল ছবি

নৌযানে করে টহল দেয়ার সময় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও পুলিশের অন্তত ৪০ সদস্য অপহৃত হয়েছেন। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দাবি, গতকাল ২৬ অক্টোবর, শনিবার দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যের রাজধানী সিত্তে শহরের উত্তরাঞ্চল থেকে তাদের অপহরণ করে নিয়ে জায় রাখাইন বিদ্রোহীরা। এ ঘটনায় নতুন করে দেশটির এ রাজ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে এএফপি।

অপহরণের এ ঘটনার পর রাখাইনের বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর ঘাঁটি গুড়িয়ে দিতে নতুন করে হাজারো সেনা মোতায়েন করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। 

দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র জ্য মিন তুন বলেন, ‘শনিবার সকালের দিকে রাখাইনের রাজধানী সিত্তের উত্তরাঞ্চলে নৌযানে কর্তব্যরত পুলিশ ও সেনাসদস্যদের লক্ষ্য করে নদীর তীর থেকে গুলি ছোড়ে বিদ্রোহীরা। এসময় সেনাবাহিনীর ১০ জনের বেশি সদস্য, ৩০ জন পুলিশ ও কারা বিভাগের আরো দুই কর্মী ওই নৌযানে ছিলেন। পরে ৪০ জনকে অপহরণ করে নিয়ে যায় বিদ্রোহীরা।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিদ্রোহীদের অবস্থান শনাক্ত করতে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার থেকে অভিযান শুরু হয়েছে। নদীর তীরবর্তী এলাকার আশপাশে বিদ্রোহীদের বিশাল ঘাঁটি শনাক্ত করা হয়েছে।’

তবে সেনাবাহিনীর এই অভিযোগের ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য জানায়নি আরাকান আর্মি। 

জাতিগত রাখাইন বৌদ্ধ বিদ্রোহীরা দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের অধিকতর স্বায়ত্তশাসন দাবি করে আসছে। আরাকান আর্মি (এএ) নামের সশস্ত্র বিদ্রোহীরা আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সঙ্গে লড়াই চালাচ্ছে। এ লড়াইয়ে এখনো পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

গত ২৫ অক্টোবর, শুক্রবারও রাখাইনের বুথিডংয়ে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) গাড়িবহরে রিমোট নিয়ন্ত্রিত মাইন হামলার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ২ পুলিশ সদস্য নিহত হন।

এর সপ্তাহ দুয়েক রাখাইনে দেশটির একদল খেলোয়াড়বাহী বাসে হামলা চালায় বিদ্রোহীরা। সেখান থেকে এক ডজনের বেশি ফায়ার সার্ভিস কর্মী ও বেসামরিক নাগরিককে অপহরণ করে নিয়ে যায় তারা। এই হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই দেশটির সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের অপহরণের ঘটনা ঘটল।

মিয়ানমারের এই রাজ্যটিতেই বসবাস রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর। ২০১৭ সালের আগস্টে সেখানকার রোহিঙ্গা আরসা বিদ্রোহীদের কথিত হামলার পর সর্বাত্মক অভিযান চালায় দেশটির সেনাবাহিনী। সে অভিযান থেকে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে ৭ লাখ ৪০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম। 

দীর্ঘদিন তদন্ত চালানোর পর জাতিসংঘের তদন্ত কর্মকর্তারা বলেছেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ‘এথনিক ক্লিনজিং’ বা ‘জাতিগত নিধন’ অভিযান পরিচালনা করেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী।

বাংলা/এসএ

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0202 seconds.