• বিদেশ ডেস্ক
  • ২৬ অক্টোবর ২০১৯ ১২:৫৯:৫৩
  • ২৬ অক্টোবর ২০১৯ ১২:৫৯:৫৩
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

পুরুষের অবাধ্য জর্দানি নারীদের ঠাঁই হচ্ছে জেলে

ছবি : সংগৃহীত

স্বামী কিংবা অভিভাবককে অমান্য করলেই আইনি শাস্তির মুখোমুখি হচ্ছেন জর্ডানের নারীরা। পুলিশি জেরা থেকে শুরু করে জেল এমনকি মা’দের থেকে কেড়ে নেয়া হচ্ছে তাদের নবজাতক সন্তানকেও। গত ২৩ অক্টোবর, বুধবার এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

অ্যামনেস্টি ইনটারন্যাশনালের রিপোর্ট মোতাবেক, অনুমতি ছাড়া বাড়ির বাইরে যাওয়া, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক স্থাপন করা, বিবাহব্যতীত সন্তান ধারণ করার মতো কারণের কোন একটিতে অভিযুক্ত হলেই জেল খাটতে হচ্ছে নারীদের। যা নারীদের মানবাধিকার লঙ্ঘন করে। 

না জানিয়ে বাড়ির বাইরে গেলেই অভিভাবকদের কথায় নারীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এক গ্রেপ্তারকৃত নারীর ভাষ্যানুযায়ী, তিনি অভিভাবকের নিপীড়নে ঘর ছাড়েন। সাথে পরিচয়পত্র না থাকার তাকে রাস্তা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কিন্তু থানায় গিয়ে তিনি দেখতে পান তার নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন তারই বাবা।

এছাড়াও নারীদের দিতে হচ্ছে কুমারীত্বের পরীক্ষা, যা একজন নারীর জন্য অত্যন্ত পীড়াদায়ক ও আপত্তিকর। বিয়ের আগে কিংবা পরে বাড়ি থেকে বিনা অনুমতিতে বেরুলে পরিবারের পুরুষদের চাপে পুলিশের কাছে এই অপমানকর পরীক্ষা দিতে হয় নারীদের। 

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের থেকে জানানো হয়েছে, যে প্রশাসনিক কারাগার রয়েছে সেখানে ১৪৯ জন মহিলা রয়েছেন, এবং ২০১৫ সালের প্রথম ছয় মাসের মধ্যে প্রায় ১,২৫৯ জনকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। তবে তারা অস্বীকার করেন যে, বাড়িতে অনুপস্থিতির কারণে কাউকে আটক রাখা হয়েছিল।

এই গ্রেপ্তারকৃত নারীদের মাঝে অনেকেরই রয়েছেন যাদের কাছ থেকে তাদের শিশুসন্তানকে কেড়ে নেয়া হয়েছে এবং বিয়ের আগে সন্তান প্রসবের অপরাধে দেয়া হয়েছে কারাদণ্ড। আরো রয়েছেন সে-সব নারী, যারা পরিবারিকভাবে জোরপূর্বক বিবাহের কারণে জড়িয়ে পড়েন বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে। আবার পছন্দের মানুষকে বিয়ে করার কারণেও অনেকে সম্মুখীন হচ্ছেন পুলিশি হয়রানির।

যদিও বিগত কয়েক বছর ধরেই দেশটির সরকার নারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। লিঙ্গভিত্তিক কারণে ঝুঁকিতে থাকা মহিলাদের জন্য ‘দার আম্নেহ্’ নামক একটি আশ্রয়কেন্দ্র থাকা স্বত্ত্বেও এমন নির্যাতনের ঘটনার পরিমাণ কমেনি।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের পরিচালক হেবা মোরায়েফ বলেন, ‘জর্ডানের সরকারকে অবিলম্বে এই লজ্জাজনক কাজের এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের সমাধান করতে হবে, যার জন্য জাতীয় মহিলা সংস্থাগুলি কয়েক দশক ধরে লড়াই করে আসছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘অবিবাহিত মায়েদের কাছ থেকে বাচ্চাদের জোর করে অপসারণ করা এবং নির্যাতনের পরিমাণ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।’

মানবাধিকার সংস্থাটির মতে, বিবাহের বাইরে জন্মগ্রহণকারী বাচ্চাদের সাথে সংযুক্ত কলঙ্কে সক্রিয়ভাবে অবদান রাখার পরিবর্তে কর্তৃপক্ষের এটি নির্মূল করা এবং অবিবাহিত মহিলাদের তাদের সন্তান লালন-পালনের জন্য সহায়তা করা উচিৎ।

বাংলা/এসজেবি/এসএ

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0322 seconds.