• বিদেশ ডেস্ক
  • ২৩ অক্টোবর ২০১৯ ১২:৪৪:৩৬
  • ২৩ অক্টোবর ২০১৯ ১২:৫০:০০
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

নিরাপদ অঞ্চলে সিরীয় উদ্বাস্তু পুনর্বাসনে সম্মত রাশিয়া-তুরস্ক

ছবি : বিবিসি থেকে নেয়া

রাশিয়া ও তুরস্কের মাঝে এক ‘ঐতিহাসিক’ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ২২ অক্টোবর, মঙ্গলবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং তুরস্কর প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এরদোগান টানা ৬ ঘণ্টার বৈঠক শেষে ওই চুক্তিটি স্বাক্ষর করেন। এমন খবর প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা বিবিসি।

বৈঠকের পর এই দুই নেতা সংবাদ মাধ্যমকে জানান, সিরিয়ার সীমান্তে ১২০ কিলোমিটার জায়গা জুড়ে তুরস্কের একটি নিরাপদ অঞ্চল তৈরী করা হবে। সেখানে তুরস্কে অবস্থানরত ২০ লক্ষ সিরীয় উদ্বাস্তুর পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। তুরস্ক ও রাশিয়ান সেনাবাহিনী এই অঞ্চলটির নিরাপত্তার জন্য যৌথভাবে কাজ করবে। এ সময় প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এরদোগান এই চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে প্রশংসা করেন।

ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ১৫০ ঘণ্টার মধ্যে কুর্দি যোদ্ধাদের নিরাপদ সীমার ১৮ থেকে ২০ মাইল দূরে সিরিয়ার সীমান্তের ভেতর সরে আসার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যদিও কুর্দি যোদ্ধারা তা লঙ্ঘন কিংবা পালন করবেন কিনা তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলিট শ্যাভুলু এবং রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ জানান, সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি বাশার আল-আসাদ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত সীমান্তের অবস্থান থেকে ১৮-২০ মাইল গভীরে কুর্দি যোদ্ধাদের অপসারণ করার কাজে রাশিয়ার সামরিক পুলিশ এবং সিরিয়ার সীমান্তরক্ষী বাহিনী যৌথভাবে সহায়তা করবে। ২৩ অক্টোবর, বুধবার থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু হবে।’

গত চার বছর ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত একটি জোট সিরিয়ায় ইসলামিক জঙ্গি সংগঠন আইএস’র তৎপরতা কমাতে কুর্দিবাহিনী (ওয়াইপিজি)’র উপর নির্ভর করেছিল। কিন্তু ওয়াইপিজি পরে সিরিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের উপর আধিপত্য বিস্তার করে। ওয়াইপিজি তুরস্ককে একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে মনে করে।

গত ৬ অক্টোবর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষনার ঠিক পরপরই তুরস্কের সেনাবাহিনী ওয়াইপিজি’র উপর হামলা করে। তবে গত সপ্তাহে ওয়াইপিজি’কে প্রত্যাহারের সুবিধার্থে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে তুরস্ক এই হামলা থামাতে রাজি হয়। আর তখন থেকেই যুদ্ধ বিরতি চলছে। যদিও মার্কিন কর্মকর্তারা এই ঘটনাকে ‘ছোটখাট বিচ্ছিন্ন সংঘাত’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

জাতিসংঘের তথ্য মতে, ১ লক্ষ ৭৬ হাজার মানুষ এবং ৮০ হাজারেরও বেশি শিশু গত দুই সপ্তাহে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এই অঞ্চলটিতে এক সময় প্রায় ৩০ লক্ষ লোকের বসবাস ছিল।

এদিকে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মনিটরিং গ্রুপ সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস (এসওএইচআর)’র তথ্য মতে, ১২০ জন বেসামরিক মানুষ, ২৫৯ কুর্দি যোদ্ধা এবং তুরস্ক সমর্থিত ১৯৬ জন সিরীয় বিদ্রোহীসহ ৭ জন তুরস্কের সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। এছাড়াও তুরস্কের সেনাবাহিনী জানায়, ওয়াইপিজি’র এক হামলায় ২০ জন সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছিল।

বাংলা/এসজেবি/এনএস

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0269 seconds.