• বাংলা ডেস্ক
  • ২২ অক্টোবর ২০১৯ ০১:২৭:৪০
  • ২২ অক্টোবর ২০১৯ ০৯:২৩:২৭
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

তবুও কোন পক্ষে থাকবেন, জানালেন মাশরাফি

মাশরাফি বিন মর্তুজা। ছবি : সংগৃহীত

১১ দফা দাবি তুলে দেশের ক্রিকেটাররা যে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন এবং সেই সংক্রান্ত যে সংবাদ সম্মেলন হয়েছে তাতে উপস্থিত ছিলেন না জাতীয় দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। সোমবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলন করে বেতন-ভাতা ও বৈষম্যের প্রতিবাদ জানিয়ে এ দাবি তুলে ধরেন ক্রিকেটাররা।

ওই সংবাদ সম্মেনে ছিলেন না মাশরাফি। তিনি কী কারণে ছিলেন না, তার ব্যাখ্যা দিয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাস দেন বাংলাদেশ দলের এ অধিনায়ক।

মাশরাফি লেখেন, ‘অনেকেই প্রশ্ন করছেন যে, দেশের ক্রিকেটের এমন একটি দিনে আমি কেন উপস্থিত ছিলাম না। আমার মনে হয়, প্রশ্নটি আমাকে না করে, ওদেরকে করাই শ্রেয়। এই উদ্যোগ সম্পর্কে আমি একদমই অবগত ছিলাম না।’

জাতীয় দলের এ অধিনায়ক লেখেন, ‘নিশ্চয়ই বেশ কিছু দিন ধরেই এটি নিয়ে ওদের আলোচনা ছিল, প্রক্রিয়া চলছিল। কিন্তু এ সম্পর্কে আমার কোনো ধারণাই ছিল না। সংবাদ সম্মেলন দেখে আমি ওদের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে পেরেছি।’

বাংলাদেশের এ অন্যতম সফল অধিনায়ক ফেসবুকে লেখেন, ‘ক্রিকেটারদের নানা দাবির সঙ্গে আমি আগেও একাত্ম ছিলাম, এখনো আছি। আজকের পদক্ষেপ সম্পর্কে আগে থেকে জানতে পারলে অবশ্যই আমি থাকতাম।’

বাংলাদেশেন ডানহাতি এ বোলার লেখেন, ‘মিডিয়ায় ওদের খবর দেখার পর থেকে হাজার বার আমার মাথায় এই প্রশ্ন এসেছে, যে কেন আমাকে জানানো হলো না। অনেকে আমার কাছে জানতেও চেয়েছেন। কিন্তু আমি নিজেও জানি না, কেন জানানো হয়নি।’

মাশরাফি আরো লেখেন, ‘তবে আমার উপস্থিত থাকা কিংবা না থাকার চেয়ে, ১১ দফা দাবি বাস্তবায়িত হওয়াই বড় কথা। সবকটি দাবিই ন্যায্য, ক্রিকেট ও ক্রিকেটারদের মঙ্গলের জন্য জরুরি। আমি মাশরাফি বিন মোর্ত্তজা, ১১ দফা দাবি শান্তিপূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হওয়ার পক্ষে আছি, থাকব।’

১১ দফা দাবিগুলো হলো :

১. বছরব্যাপী সংশ্লিষ্ট দলের জন্য কোচ,ট্রেনার, ফিজিও কাজ করবেন ক্রিকেটারদের নিয়ে। এটা নিশ্চিত করা।

২. ক্রিকেটারদের যাতায়াত বাস,জিম ও সুইমিংপুল সহ হোটেল সুবিধা নিশ্চিত করা।যাতায়াতের বিমান সুবিধা দেয়া।লং রুটের জন্য প্রযোজ্য। 

৩. ঘরোয়া লীগে ডেইলি এলাউন্স বাড়ানো, ম্যাচ ফি বাড়ানো। ৫০%বাড়ানোর দাবি সব লীগে।

৪. দেশি কোচিং স্টাফদের কাজের মূল্যায়ন ও পরিধি বৃদ্ধি করা। বয়সভিত্তিক  দলে দেশি কোন কোচ যোগ্য হলে তাকে নিয়োগ দেয়া পাশাপাশি কাজের সুযোগ দেয়া।

৫. ঘরোয়া ক্রিকেটে বিপিএলের পাশাপাশি একটি আলাদা টি–২০ ও ওয়ানডে ফরমেটে টুর্নামেন্ট আয়োজন করা। 

৬. ১ম, ২য়, ৩য় বিভাগ ও প্রিমিয়ার ও জাতীয় লীগে আম্পায়ারিং এর মান ভাল থাকবে তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ করা।সংগে আম্পায়ারদের পারিশ্রমিক বাড়ানো। একটি স্বাধীন আম্পায়ারিং কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা।

৭. ক্রিকেটারদের ফিটনেস পরীক্ষা আলাদা আলাদা বিভাগে নেওয়ার ব্যাবস্থা  করা।তাদের অনুশীলন ও ঢাকামূখী না করে বিভাগীয় পর্যায়ে রেখে সুবিধাদি নিশ্চিত করা।

৮. গ্রাউন্ড ফেসিলিটিস ও মাঠের ক্রিকেটে আন্তর্জাতিক মানের ভালো বল দিয়ে খেলা পরিচালনা নিশ্চয়তা। মাঠকর্মীদের মাসিক ভাতা বাড়ানো। 

৯. ক্রিকেটারদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট  দেখার সংগঠন কেয়ারের বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পদত্যাগ দাবি ক্রিকেটাররা চুজ (ইলেকশন) করবেন কারা দায়িত্ব নেবেন এ সংগঠনের। 

১০. বিপিএল যেন আগের সংস্করণে চালু হয়,দেশি ও বিদেশি ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক যেন সুষম (গ্রেড ভিত্তিক) হয়।

১১. জাতীয় লীগে ক্রিকেটারদের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে।

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0302 seconds.