• ২১ অক্টোবর ২০১৯ ২৩:১১:৩০
  • ২১ অক্টোবর ২০১৯ ২৩:১১:৩০
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

সরকারি চাকরি আর দলীয় পদ, দুটোই বাগিয়ে রেখেছেন তিনি

সৈয়দ মুর্তজা আলী বাবলু। ছবি : সংগৃহীত

আসিফ আল আজাদ :

নাটোরের সোনালি ব্যাংকের প্রিন্সিপাল কর্মকর্তা সৈয়দ মুর্তজা আলী বাবলু। সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী, সরকারি চাকরি করে কেউ দলীয় রাজনীতি করতে না পারলেও তিনি ব্যাংকের পাশাপাশি জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন ২০১৪ সাল থেকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বাংলা’কে জানিয়েছেন সরকারি চাকরি করেও কীভাবে বাবলু জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদে আছেন বিষয়টি বোধগম্য নয়। এছাড়াও তিনি ব্যাংকের ঋণসহ অনেক কিছু নিয়ন্ত্রণ করেন বলে অভিযোগ আছে। সরকারি বিধিমালায় বলা আছে, সরকারি চাকরি করে কেউ দলীয় রাজনীতি করতে পারবেন না।

এ প্রসঙ্গে সৈয়দ মুর্তজা আলী বাংলা’কে বলেন, ‘আমি জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কথাটা সত্য নয়। আমি সোনালি ব্যাংক নাটোর বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি তাই অনেক অনুষ্ঠানে মাঝে মাঝে থাকার চেষ্টা করি। এটা আবার অনেক মানুষ পছন্দ করে না তাই শত্রুতামি করে। আমার চাকরির বয়স আর ৬-৭ মাস আছে।’

তবে চাকরি শেষে রাজনীতিতে আসবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার রক্তে রাজনীতি মিশে আছে, যদি সুযোগ পাই অবশ্যই আসবো।’

তবে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে নিযুক্ত থাকার বিষয়টি সৈয়দ মুর্তজা আলী অস্বীকার করলেও দলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিয়মিত উপস্থিত থাকেন তিনি। এবং সংবাদ মাধ্যমগুলোতে সেইসব অনুষ্ঠানের প্রকাশিত খবরে সৈয়দ মুর্তজা আলীর পরিচয় আ.লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবেই দেয়া হয়।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে সৈয়দ মুর্তজা আলীর নিযুক্ত থাকার কথা স্বীকার করে নাটোর সদর উপজেলার চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলাম রমজান বাংলা'কে বলেন, ‘সে সরকারি চাকরি করে, সে রাজনীতি করতে পারে না, তার নৈতিক অধিকার নাই। সংগঠনের গঠনতন্ত্রও তা পারমিট করে না।’

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে এই প্রতিবেদককে আরো বলেন, ‘বাংলাদেশে এরকম নজির হয়তো নাই, এই নাটোরেই এমন ব্যতিক্রম।  আর ২ ডিসেম্বর ২০১৪ সালে আমাদের সম্মেলন হয়েছে। আমরা আপত্তি করার পরও তিনি এই জেলা কমিটির পদে আছেন। আমরা তখন কেন্দ্রকে লিখিতভাবে জানিয়েছিলাম কিন্তু কেন্দ্র থেকে এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।’

নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক আবদুল কুদ্দুস বাংলা'কে বলেন, ‘যখন ২০১৪ সালে প্রথম সম্মেলন হয় তার (সরকারি চাকরি) কথা উঠে ছিল। আর সংশিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তারাও এর সঠিক জবাব দিতে পারেন নাই। এখন পর্যন্ত তিনি আছেন।’

নাটোর-২ (সদর-নলডাঙ্গা) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শিমুল বাংলা'কে বলেন, ‘এগুলা অনেক জায়গায় রয়েছে। আমরা অনেক জায়গায় কথা বলেছি তবে কোনো সিদ্ধান্ত পাইনি। আর কেন্দ্র থেকে সিদ্ধান্ত পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সরকারি চাকরিজীবী হয়ে রাজনৈতিক দলের পদে থাকতে পারেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

ব্যাংকার ও আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ মুর্তজা আলী বাবলুর ফেসবুকেও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ মিলেছে। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে নিয়মিত যোগ দেন সেই প্রমাণও মিলেছে তার ব্যবহৃত ফেসবুক আইডিতে।

তার পদে থাকার বিষয়টি নাটোরের সোনালি ব্যাংকের এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশ করার শর্তে এই প্রতিবেদকে বলেন, ‘আমরা জেনেও কোনো ব্যবস্থা নিতে পারি না। কারণ তার যোগাযোগ অনেক উপর পর্যায় পর্যন্ত। তাই অভিযোগ করে কোন লাভ হবে না, এবং ভয়ে কেউ অভিযোগও করে না।’

বাংলা/এএএ

 

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0199 seconds.