• ফিচার ডেস্ক
  • ২০ অক্টোবর ২০১৯ ১১:৪০:৩৮
  • ২০ অক্টোবর ২০১৯ ১১:৪০:৩৮
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে খাদ্যাভ্যাসের যে বদল জরুরি

ছবি : সংগৃহীত

অনেকের মনে এ ধারণা বদ্ধমূল হয়ে গেছে যে, শুধুমাত্র খাদ্যাভ্যাস থেকে মাছ-মাংস কমিয়ে দিলেই বুঝি রোগবালাইয়ের ঝুঁকি কমে যায়। যে কারণে এ যুগে অনেককেই দেখা যায় নিরামিষাশী হয়ে যেতে। তবে জানা গেছে, নিরামিষাশীদের খাদ্যাভ্যাসে হৃদরোগের ঝুঁকি কমলেও বেড়ে যায় স্ট্রোকের ঝুঁকি। সম্প্রতি ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় এমনই তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

১৮ বছর ধরে ৪৮ হাজার মানুষের ওপর চালানো হয় ওই গবেষণাটি। এতে দেখা যায়, প্রতি এক হাজার নিরামিষাশীদের মধ্যে করোনারি হৃদরোগীর সংখ্যা মাংসাশীদের তুলনায় ১০ জন করে কম পাওয়া গেছে। কিন্তু স্ট্রোকের ঝুঁকি রয়েছে এমন মানুষের সংখ্যা তিনজন করে বেশি পাওয়া গেছে।

ডায়েট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষের খাদ্যাভ্যাস যেমনই হোক না কেন, বিভিন্ন ধরনের বৈচিত্র্যময় খাবার খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য বেশি ভালো। দীর্ঘ সময় ধরে মানুষের খাদ্যাভ্যাস এবং স্বাস্থ্য নিয়ে পরীক্ষা চালায় তাদের তথ্য নিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়েছে এই গবেষণায়।

১৯৯৩ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অর্ধেকই ছিলেন মাংসাশী। ১৬ হাজারের কিছু বেশি ছিলেন নিরামিষাশী। আর সাড়ে সাত হাজার অংশগ্রহণকারী জানান যে, তারা আহার হিসেবে মাছ খেতেন। অংশগ্রহণের সময় এবং ২০১০ সালে আবার নতুন করে এসব অংশগ্রহণকারীদের খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

তাদের স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য, ধূমপান এবং শারীরিক কর্মকাণ্ডের বিষয়গুলোও আমলে নেয়া হয়েছিল। সব মিলিয়ে, করোনারি হৃদরোগ বা সিএইচডির সংখ্যা মেলে ২৮২০টি, স্ট্রোকের সংখ্যা ১০৭২টি, যার মধ্যে ৩০০টি মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোকের ঘটনাও রয়েছে। মস্তিষ্কের দুর্বল শিরা ছিঁড়ে গিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হলে এ ধরনের স্ট্রোক হয়। মাংসাশীদের তুলনায় মাছভোজীদের মধ্যে সিএইচডির ঝুঁকি ১৩ ভাগ কম ছিল। আর নিরামিষাশীদের মধ্যে এই হার ২২ ভাগ কম ছিল। কিন্তু যারা উদ্ভিদ ও শাকসবজি খেয়ে জীবন ধারণ করেন বা যারা নিরামিষাশী, তাদের মধ্যে স্ট্রোকের ঝুঁকি ২০ ভাগ বেশি ছিল। গবেষকদের ধারণা, ভিটামিন বি১২ এর অভাবের কারণে এই ঝুঁকি বেড়ে যায়। 

তবে তারা বলেন যে, এর প্রকৃত কারণ খুঁজে পেতে হলে আরো গবেষণার দরকার রয়েছে। এমনও হতে পারে যে, খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে আসলে এর কোনো সম্পর্ক নেই। বরং যারা মাংস খায় না তাদের জীবনের অন্যান্য কারণের জন্যই হয়তো এই ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। প্রতিরাতে শুধু মাংস আর আলু নয় বরং বৈচিত্র্যময় খাবার খেতে হবে।

তার মানে কি নিরামিষাশী হওয়া অস্বাস্থ্যকর? ব্রিটিশ ডায়েটিক অ্যাসোসিয়েশনের ডা. ফ্রাঙ্কি ফিলিপস বলেন যে, ‘এটা নাও হতে পারে। কারণ এই গবেষণাটি শুধুমাত্র একটি পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণা মাত্র।’

তিনি জানান, তারা শুধু পর্যবেক্ষণ করেছেন যে, মানুষ কি খায় এবং তাদের বছরের পর বছর ধরে অনুসরণ করেছে, এটা শুধু সম্পৃক্ততাই জানান দেয়, কারণ বা প্রভাব সম্পর্কে বিশ্লেষণ করে না।

তবে তিনি সবাইতে পরিকল্পিত খাদ্যাভ্যাস এবং বিভিন্ন ধরনের খাবার খাওয়ার দিকে মনোযোগী হতে পরামর্শ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘মাংসাশীরা সাধারণত বিভিন্ন ধরনের খাবার খায় না। কারণ তারা প্রতি রাতে খাবার হিসেবে মাংসই খায় এবং কোনো ধরনের শাকসবজি খায় না।’ 

২০১০ সালে গবেষকরা আবার অংশগ্রহণকারীদের কাছে গিয়ে তাদের খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে জানতে চেয়েছিল। ডা. ফিলিপস বলেন, ‘নিরামিষাশীদের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তিত হয়েছিল। এই তথ্যগুলো কয়েক দশক আগে সংগ্রহ করা হয়েছিলো।’

তিনি বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই আজ থেকে ২০ কিংবা ৩০ বছর আগে নিরামিষাশীদের সঙ্গে আজকের নিরামিষাশীদের পার্থক্য তৈরি হয়েছে। নিরামিষাশীদের খাবারের পরিধি ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এগুলো এখন মূল ধারার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা এখন অনেক বেশি মাত্রায় প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং মাংস খাওয়া স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে অনেক বেশি জানি- যা অন্ত্রের ক্যান্সার তৈরি করে। দিনে কমপক্ষে ৫ ভাগ ফল এবং শাকসবজি খান, মূল খাবার হিসেবে উচ্চমাত্রায় আঁশসম্পন্ন এবং শ্বেতসার বহুল খাবার যেমন আলু, রুটি, ভাত কিংবা পাস্তা রাখা উচিত। প্রোটিন ভুলে গেলে হবে না- চর্বিহীন মাংস, মাছ, সামুদ্রিক খাবার, ডাল, তফু কিংবা লবণহীন বাদাম খেতে হবে।’

আরো খাদ্যতালিকায় থাকতে হবে দুধ এবং দুগ্ধজাত খাবার। তাদের আরো কিছু পরামর্শ নিচে দেয়া হলো :

* উচ্চ মাত্রার চর্বিযুক্ত খাবার, চিনি কিংবা লবণ যত কমানো যায় ততই ভালো।

* কিন্তু যারা নিরামিষাশী তাদের নির্দিষ্ট কিছু পুষ্টি গ্রহণ সম্পর্কে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে।

* উদাহরণস্বরূপ, যারা মাংস, দুগ্ধজাত খাবার এবং মাছ খায় তারা পর্যাপ্ত ভিটামিন বি১২ পায়- যা স্বাস্থ্যকর রক্ত এবং স্নায়ুতন্ত্রের জন্য প্রয়োজনীয়।

* যাই হোক, যদিও সকালের নাস্তার বিভিন্ন সিরিয়াল এবং ইস্টসমৃদ্ধ খাবারে ভিটামিন বি১২ থাকে তবুও নিরামিষভোজীদের মধ্যে এই ভিটামিনের অভাব দেখা দিতে পারে।

* উদ্ভিদজাত খাবার থেকে আয়রনও কম পাওয়া যায়। যারা মাংস খান না তাই তাদের নিশ্চিত করতে হবে যে তারা যাতে নিয়মিত গমের রুটি, আটা, শুকনো ফল এবং ডাল খান। এ ছাড়া সম্প্রতি নিরামিষভোজীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছিল, তারা যাতে ভিটামিন কোলিন পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্রহণ করেন। এই ভিটামিনটি মস্তিষ্কের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

বাংলা/এসএ

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0213 seconds.