• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০ অক্টোবর ২০১৯ ০৯:৪৭:৫১
  • ২০ অক্টোবর ২০১৯ ০৯:৪৭:৫১
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

রড দিয়ে মৎসজীবী নেতাকে পেটালো এমপির ভাইয়ের লোকেরা!

ছবি : সংগৃহীত

পুকুর লিজ নিয়ে অনিয়মের কথা বলায় গাইবান্ধায় এক মৎস্যজীবী নেতা বেধড়ক মারধরের শিকার হয়েছেন। গতকাল ১৯ অক্টোবর, শনিবার জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে দেশ রূপান্তর।

জানা গেছে, একটি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুসন্ধানমূলক অনুষ্ঠানে পুকুর লিজ নিয়ে অনিয়মের কথা তুলে ধরেছিলেন গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জ ইউনিয়ন মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি শম্ভু চন্দ্র (৩৮)। এর জেরে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) মনোয়ার হোসেন চৌধুরীর ছোট ভাই লিটন চৌধুরীর লোকজন।

বর্তমানে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শম্ভু চন্দ্র ইউনিয়নের জিরাই গ্রামের চৈতা হাওলাদারের ছেলে।

শম্ভুর বরাতে প্রতিবেদনে জানানো হয়, উপজেলায় নিবন্ধিত মৎস্যজীবী সমিতি আছে ৪১টি। সমিতিগুলোকে তিন বছরের জন্য সরকারি পুকুর বা জলাশয় লিজ দেওয়া হয়। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি উপজেলার ১১০টি সরকারি পুকুর লিজের দরপত্র আহ্বান করা হয়। ৬ মার্চ দরপত্র জমার শেষ দিন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হলে দরপত্র বাতিল করা হয়। ২৪ মার্চ আবারও দরপত্র আহ্বান করা হয়। ৩ এপ্রিল ৯টি মৎস্যজীবী সমিতিকে পুকুরগুলো লিজ দেওয়া হয়। আইন অনুযায়ী একটি মৎস্যজীবী সমিতিকে দুটির বেশি পুকুর লিজ দেওয়ার নিয়ম না থাকলেও ১৪টিও দেওয়া হয়েছে।

শুধু তাই নয়, এসব পুকুর সাব-লিজ দেওয়ার নিয়ম না থাকলেও তা-ও দেওয়া হয়েছে। স্বাক্ষর জাল করেও এসব পুকুর লিজ নেওয়ার অভিযোগ আছে কয়েকটি মৎস্যজীবী সমিতির বিরুদ্ধে।

শম্ভু চন্দ্র জানান, এসব অনিয়মে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ ওঠে গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা-৪) আসনের সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন চৌধুরীর ছোটভাই লিটন চৌধুরীর বিরুদ্ধে। এসব অনিয়মের বিষয়ে তিনিসহ আরো কয়েকজনের বক্তব্য নেয় ইনডিপেনডেন্ট টিভির তালাশ টিম। অনুষ্ঠানটি ৪ অক্টোবর প্রচার হলে লিটন চৌধুরীসহ অনিয়ম করে লিজ পাওয়া মৎস্যজীবী সমিতিগুলোর নেতারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।

এরই জের ধরে পুকুর ইজারা নিয়ে আলোচনা করার কথা বলে গতকাল শনিবার দুপুরে শাখাহার ইউনিয়নের দইহারা গ্রামের শাহিন, রমজান ও আনোয়ারুল শম্ভু চন্দ্রকে বাড়ি থেকে কোচাশহর বাজারে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে একটি দোকানে ঢুকিয়ে ‘টিভিতে লিটন চৌধুরীর বিরুদ্ধে কেন কথা বলেছিস’- বলেই লোহার রড দিয়ে মারধর শুরু করে তারা। পরে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

সাপমারা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুল লতিফ বলেন, ‘সাব-লিজ দেওয়া ১১০টি পুকুরের মধ্যে ২৪টি পুকুরের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কয়েক মৎস্যজীবী গত ১৪ অক্টোবর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত আবেদন দিয়েছে। এতে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে লিটন চৌধুরীর লোকজন শম্ভুকে মারধর করেছে।’

শম্ভু চন্দ্রকে মারধরের ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে শনিবার বিকেলে মহিমাগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রবিবার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করা হবে।’

তবে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেন লিটন চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘পুকুর লিজের বিষয়ে আমি জড়িত নই। আমি এসবের কিছুই জানি না। শম্ভু চন্দ্রকে যারা মারধর করেছে তারা খুবই খারাপ কাজ করেছে।’

শম্ভু চন্দ্রকে মারধরের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ থানায় আসেনি বলে জানিয়েছেন গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি এ কে এম মেহেদী হাসান।

আর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রামকৃষ্ণ বর্মণ এ বিষয়ে বলেন, ‘২৪টি পুকুরের সাব-লিজের অভিযোগের কাগজ এখনো হাতে পাইনি। পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বাংলা/এসএ

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0203 seconds.