• বিদেশ ডেস্ক
  • ১৮ অক্টোবর ২০১৯ ১১:৫৪:৩৬
  • ১৮ অক্টোবর ২০১৯ ১১:৫৪:৩৬
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

উত্তর সিরিয়ায় ‘সাময়িক বন্ধ’ তুর্কি অভিযান

বৈঠকে এরদোয়ান ও পেন্স। ছবি : পার্সটুডে

উত্তর সিরিয়ায় কুর্দিঅধ্যুষিত অঞ্চলে শর্তসাপেক্ষে সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে তুরস্ক। তারা শর্ত দিয়েছে, ‘সেফ জোন’ থেকে কুর্দি যোদ্ধা সরলেই এ সামরিক অভিযান বন্ধ হবে।

গতকাল ১৭ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার আঙ্কারায় তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের সাথে মার্কিন প্রতিনিধি দলের  দীর্ঘ আলোচনা শেষে উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতির ব্যাপারে একমত হয়। এ বৈঠকে মার্কিন পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স। এমন সংবাদ দিয়েছে পার্সটুডে।

মাইক পেন্সের বরাত দিয়ে পার্সটুডে জানায়, তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ায় সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। যুদ্ধবিরতির আওতায় সিরিয়ার কুর্দি গেরিলারা তাদেরকে নিরাপদ অঞ্চলে সরিয়ে নেবে। আর কুর্দি গেরিলাদের প্রত্যাহার সম্পন্ন হলেই আঙ্কারা যুদ্ধবিরতি কার্যকর করবে বলেও জানান পেন্স।

তিনি জানান, তুরস্ক ১২০ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি দেবে, যাতে করে কুর্দি গেরিলারা তাদেরকে তুর্কি-সিরিয়া সীমান্তের নিরাপদ অঞ্চল থেকে সরে যেতে পারে। 

পরে তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, তুর্কি সেনারা উত্তর সিরিয়ায় একটি নিরাপদ অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করবে।

তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসওগ্লু জানান, তার দেশের সেনারা শুধুমাত্র কুর্দি গেরিলাদেরকে নিরাপদ অঞ্চলে সরে যাওয়ার জন্য ১২০ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি দিচ্ছে। তবে যুদ্ধের প্রধান ক্ষেত্র সিরিয়ার সীমান্তবর্তী শহর কোবানের ব্যাপারে এখানে কোনো নিশ্চয়তা দেয়া হয় নি।

যুদ্ধবিরতির সংবাদ পাওয়ার পরপরই টুইটারে পোস্ট করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সেখানে বলেন, ‘তুরস্ক থেকে বিরাট খবর বের হলো, এতে লাখ লাখ মানুষের জীবন বেঁচে যাবে।’

এদিকে এই চুক্তির ব্যাপারে কুর্দিদের পিপলস প্রোটেকশন ইউনিটস (ওয়াইপিজে) বাহিনী একমত কিনা সেটি এখনো স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছে বিবিসি। 

কুর্দিদের মূল বাহিনী সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) কমান্ডার মজলুম কোবানির বরাতে বিবিসি জানায়, রাস আল-আইন এবং তাল আবিয়াদ সীমান্ত শহরে এই চুক্তি কীভাবে কার্যকর হচ্ছে সেটা পর্যবেক্ষণ করবে কুর্দি বাহিনী, যেখানে সবচেয়ে বেশি লড়াই চলছে।

মজলুম কোবানি বলেন, ‘আমরা অন্য কোনো এলাকা নিয়ে আলোচনা করিনি।’

এদিকে যুক্তরাজ্যভিত্তিক পর্যবেক্ষক সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস (এসওএইচআর) জানায়, চুক্তি ঘোষণার পরও রাস আল আইনে দুই পক্ষের মধ্যে লড়াই চলছে।

সংস্থাটি জানায়, গত আট দিনের তুর্কি অভিযানে সিরিয়ায় ৭২ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে। এছাড়াও তিন লাখের বেশি মানুষ তাদের এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

সিরিয়ায় তথাকথিত ইসলামিক স্টেট বা আইএস জঙ্গিদের দমনে মার্কিন মিত্র হিসেবে কাজ করে কুর্দি ওয়াইপিজে গেরিলারা। সেসময় তাদের হাতে আটকা পড়ে বিপুলসংখ্যক আইএস জঙ্গি।

কিন্তু তুরস্ক সম্প্রতি কুর্দিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করলে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চল থেকে কয়েক হাজার সেনা প্রত্যাহার করে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে তীব্র সমালোচার মুখোমুখি হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

পরবর্তীতে এ লড়াই তীব্র আকার ধারণ করে এবং বেসামরিক লোকের প্রাণহানির সংখ্যা বাড়তে থাকার প্রেক্ষিতে এই অভিযান বন্ধে তুরস্কের সাথে আলোচনার উদ্যোগ নেয় যুক্তরাষ্ট্র।

বাংলা/এসএ

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0201 seconds.