• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ১৬ অক্টোবর ২০১৯ ১১:০৯:১১
  • ১৬ অক্টোবর ২০১৯ ১১:০৯:১১
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

রিমান্ডে সম্রাট, আতঙ্কে সহযোগী-সুবিধাভোগীরা

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ সভাপতি পদ থেকে বহিস্কৃত ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে অস্ত্র ও মাদক মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মোট ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। একই দিনে মাদক মামলায় তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী এনামুল হক আরমানকেও নেওয়া হয়েছে পাঁচ দিনের রিমান্ডে। তাদের দুজনকে রিমান্ডে নেয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সম্রাটের সহযোগী ও ক্যাসিনো ব্যবসার সুবিধাভোগীদের মধ্যে। এক প্রতিবেদনে এমনই জানিয়েছে সমকাল।

জানা যায়, গতকাল ১৫ অক্টোবর, মঙ্গলবার সম্রাট ও আরমানের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকা মহানগর হাকিম মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা আশা করছেন, সম্রাটকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ক্যাসিনো ব্যবসাসহ নানা অপরাধের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে।

তাদের ধারণা, ঢাকার কোথায় কোন ক্লাবে ক্যাসিনো বা জুয়ার আসর চলত, সেগুলো থেকে রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও পুলিশসহ অন্যান্য মহলের কে কত টাকা পেতেন, কারা এসব কর্মকাণ্ডকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিতেন তা এদের জিজ্ঞাসাবাদে স্পষ্ট হতে পারে। এমন অবস্থায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সম্রাটের সহযোগী ও ক্যাসিনো ব্যবসার সুবিধাভোগীদের মধ্যে। এতদিন যারা নানা কৌশলে গা বাঁচিয়ে চলেছেন এব অনেকেই ফেঁসে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ শাখার উপকমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, ‘অস্ত্র ও মাদক আইনে রমনা থানায় করা মামলা দুটি তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রিমান্ড মঞ্জুর হওয়ার পর এসব মামলার আসামি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ও এনামুল হক আরমানকে ডিবি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’

ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরুর পরই আত্মগোপনে চলে যান যুবলীগের প্রভাবশালী নেতা সম্রাট। তাকে গত ৬ অক্টোবর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে সহযোগী আরমানসহ গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। পরদিন তাকে নিজ কার্যালয়ে বন্যপ্রাণীর চামড়া রাখার দায়ে ছয় মাসের দণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। 

একই দিনে তাকে অস্ত্র ও মাদক আইনের দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১০ দিন করে রিমান্ড চায় রমনা থানা পুলিশ। ৯ অক্টোবর শুনানির দিন ধার্য থাকলেও সেদিন সম্রাট হাসপাতালে ভর্তি থাকায় আদালতে হাজির করা হয়নি। ফলে শুনানির জন্য ১৫ অক্টোবর দিন ধার্য করেন আদালত।

ডিবি সূত্র জানায়, রিমান্ড মঞ্জুর হওয়ার পর সম্রাট ও আরমানকে গতকাল বিকেলে মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে সম্রাটকে রাখা হয়েছে আলাদা একটি কক্ষে। তিনি অসুস্থ হওয়ায় একজন চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে সতর্কতার সঙ্গে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা রয়েছে। সম্রাটের কাছ থেকে ক্যাসিনো কারবারের আদ্যোপান্ত জানার চেষ্টা করা হবে। তার সহযোগী হিসেবে কারা ক্যাসিনো-জুয়ার কারবার ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন, কারা নানাভাবে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে তাদের অপকর্মকে প্রশ্রয় দিয়েছেন তা জানতে চাওয়া হবে।

পাশাপাশি ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের শুরুতে গ্রেপ্তার যুবলীগ নেতা (পরে বহিস্কৃত) খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়া ও ঠিকাদার জি কে শামীমসহ অন্যদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া বিভিন্ন তথ্যের ব্যাপারেও সম্রাটকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। রিমান্ডে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সম্রাটের সহযোগী ও ক্যাসিনো কারবারে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

আদালত সূত্র জানায়, সম্রাট ও আরমানকে গতকাল আদালতে হাজির করে রমনা থানার মাদক আইনের মামলায় ১০ দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়। একই থানায় অস্ত্র আইনের মামলায় সম্রাটকে আরও ১০ দিনের রিমান্ডে চায় গোয়েন্দা পুলিশ। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ঢাকার মহানগর আদালতের পিপি আব্দুল্লাহ আবু, অতিরিক্ত পিপি সাজ্জাদুল হক শিহাব, তাপস পাল ও এপিপি আজাদ রহমান। আসামির পক্ষে শুনানি করেন গাজী জিল্লুর রহমান, আব্দুল কাদের প্রমুখ। 

শুনানি শুরুর আগে হাতকড়া পরা অবস্থায় সম্রাটকে কাঠগড়ায় তোলা হয়। এ সময় তাকে অসহায় ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তিনি প্রচণ্ড ঘামছিলেন দেখে একজন টিস্যু পেপার এগিয়ে দেন। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা ধরে চলা শুনানিতে তিনি একাধিকবার নিজের ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলেন। সহযোগী এনামুল হক আরমানও তার সঙ্গে কাঠগড়ায় ছিলেন।

মাদক মামলার রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, আসামিরা ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ মাদক ব্যবসা, জুয়া ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত।

বাংলা/এসএ

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0231 seconds.