• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ১৬ অক্টোবর ২০১৯ ০৯:৫৮:৫৬
  • ১৬ অক্টোবর ২০১৯ ১৫:২৭:৩৮
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

ফের রাজনীতির মাঠে ‘ভারতবিরোধিতা’

সাম্প্রতিক ইস্যুতে সক্রিয় বিএনপি। ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘদিন পর রাজপথে সরব হয়ে উঠেছে সরকারবিরোধী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক ভারত সফরে বাংলাদেশের উদ্বেগের বিষয়গুলো বাদ দিয়ে একতরফা কিছু সিদ্ধান্ত হওয়ায় তারা প্রতিবাদ করছেন বলে জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা।

অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতারা সরকারের পক্ষে ভারতের সাথে যৌথভাবে নেয়া সিদ্ধান্ত বা চুক্তিগুলোর ব্যাপারে বারবার ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবারো কেন ভারতবিরোধিতা জেগে ওঠলো, এই প্রশ্নে দলগুলোর পাশাপাশি বিশ্লেষকদের নানা মন্তব্য তুলে এনেছে বিবিসি বাংলা।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিএনপি দু’দিন আগে ঢাকায় যে সমাবেশ করেছে, এর মূল বিষয়ই ছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে স্বাক্ষরিত চুক্তির প্রতিবাদ করা। সমাবেশে দলটির সকল পর্যায়ের নেতাদের বক্তব্যেই ছিল ভারতের সাথে সম্পর্কের কড়া সমালোচনা। সাত-আট বছর পর বিএনপি আবার প্রকাশ্যে ভারতবিরোধী অবস্থান নিয়ে এই সমাবেশটি করে।

২০১২ সালের অক্টোবরে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া সে সময় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে ভারত সরকারের আমন্ত্রণে দিল্লি সফর করেছিলেন। এরপর থেকে জেলে যাওয়া পর্যন্ত বিএনপি নেত্রীকে ভারতের বিরোধিতা বা সমালোচনা করে কোনো বক্তব্য বা বিবৃতি দিতে দেখা যায়নি।

এমনকি চট্টগ্রাম এবং মংলা বন্দর নিয়ে বিএনপি আগে রক্ষণশীল অবস্থানে থাকলেও গত বছর যখন এই বন্দর ভারতকে ব্যবহার করতে দেয়ার ব্যাপারে চুক্তি হয়, তখনো দলটি তাদের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সতর্ক বক্তব্য তুলে ধরেছিল।

কিন্তু এখন আবার কেন ভারতবিরোধী অবস্থান নিয়ে মাঠে নামছেন, এর কারণ ব্যাখ্যা করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তার ভাষ্য, কয়েকদিন আগে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরে ভারতের স্বার্থে একতরফা সব চুক্তি হয়েছে, সেকারণে তারা প্রতিবাদ করছেন।

রিজভী বলেন, ‘একতরফাভাবে তো বন্ধুত্ব হয় না। বন্ধুত্ব হচ্ছে টু ওয়ে ট্রাফিক। দেয়া-নেয়ার ক্ষেত্রে তো একটা সমতা থাকতে হবে, একটা ন্যায্যতা থাকতে হবে। সেখানে আমরা দেখছি একটা বড় ধরণের অভাব বা ঘাটতি থাকছে।‘

তার বক্তব্য হলো, ‘তিস্তা চুক্তির ব্যাপারে কিছু করা হলো না। কিন্তু হঠাৎ করে ফেনী নদী থেকে পানি দিয়ে দেয়া হলো। এখানেই মানুষের মাঝে সন্দেহ ঘনীভূত হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ মনে করে, দুই দেশের জনগণের মাঝে বন্ধুত্ব নয়, বরং একটি রাজনৈতিক দলকে তারা আস্থায় নিয়ে তাদেরকে দিয়ে বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী বিষয়গুলো করিয়ে নেয়া হচ্ছে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের জনগণের যে প্রতিক্রিয়া, সেই প্রতিক্রিয়াই আমরা তুলে ধরছি।’

ভারত ইস্যুতে দীর্ঘসময় সতর্ক থাকা বিএনপি আবারো মাঠে নামায় তাদের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। কারণ দলটির পক্ষ থেকে গত কয়েক বছর ভারতের সাথে একটা ভাল সম্পর্ক তৈরি চেষ্টা প্রকাশ্যে এসেছিলো। গত বছরও ভারত সফর করে এসেছেন বিএনপির কয়েকজন সিনিয়র নেতা।

দলটির একাধিক সিনিয়র নেতা বলেছেন, তাদের সম্পর্ক তৈরির চেষ্টায় ভারত সেভাবে সাড়া দেয়নি, ফলে দলটির এমন চেষ্টার সাথে জড়িত অংশটি কিছুটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। ফলে বিএনপিতে ভারতবিরোধিতা আবারো চাঙ্গা হয়ে উঠেছে।

ভারতের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যও এটি বিএনপি এমন কৌশলও নিতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

আওয়ামী লীগ বা সরকারও ভারতের সাথে চুক্তিগুলো নিয়ে যুক্তি বা ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করছে। দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ এসব বিষয়ে বলেন, ‘বিএনপি বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে কোনো ইস্যু পাচ্ছে না। সেকারণে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে তারা মাঠে নেমেছে। এটা তাদের সস্তা রাজনীতি।’

আর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে বিএনপি জনগণের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। সেজন্য সরকার সঠিক তথ্য তুলে ধরছে।’

তবে দলটির অন্য একাধিক নেতার সাথে কথা বলে মনে হয়েছে, আওয়ামী লীগ এবং সরকার ভারতের সাথে ভাল সম্পর্ক বহাল রাখছে। একইসাথে মানুষের মাঝে আবার ভারতবিরোধী মনোভাব জোরালো হচ্ছে কিনা, সেটাও তারা নজরে রাখছেন।

যা বলছেন বিশ্লেষকরা :

বৃহৎ প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের সাথে ভাল সম্পর্ক তৈরির বিষয়টি বিএনপিও বিবেচনায় নিয়েছিল। সে কারণে লম্বা সময় দেশের রাজনীতিতে ভারতবিরোধিতা সেভাবে দেখা যায়নি। কিন্তু সেই কৌশলে ফল পাচ্ছে না বিএনপি। যে কারণে এখন প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের বিষয়গুলোর সুযোগ নিয়ে বিএনপি মাঠে নেমেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক রুকসানা কিবরিয়া এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘বাংলাদেশের উদ্বেগের বিষয়গুলোতে ভারতের উদাসীনতার কারণে ভারতবিরোধিতা পুরোনো পরিবেশ ফিরে আসছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী যে ভারত সফর করলেন, তারপর রাজনৈতিক একটা ইস্যু তৈরি হয়ে গেছে। একটা বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কারণ বাংলাদেশের বিষয়গুলোতে সমাধান আসেনি।’

তিনি মনে করেন, এখন এটা রাজনীতি। এগুলো এখন যে যেভাবে পারবে সেভাবেই ব্যবহারের চেষ্টা করবে।

বাংলা/এসএ

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0337 seconds.