• ফিচার ডেস্ক
  • ১৫ অক্টোবর ২০১৯ ১২:৩৯:৪৬
  • ১৫ অক্টোবর ২০১৯ ১২:৩৯:৪৬
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

‘পেয়ারা’য় প্রতিরোধ হয় যেসব রোগবালাই

ছবি : সংগৃহীত

মানবদেহের নানা জটিল রোগের প্রতিরোধ করে ‘বিস্ময়কর’ মৌসুমী ফল পেয়ারা। এ ফলটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ফলে ক্যান্সার-ডায়াবেটিসের মতো রোগের বিরুদ্ধে কার্যকরী পেয়ারা। এছাড়াও কোলেস্টেরল সমস্যা, কোষ্ঠকাঠিন্য, গর্ভবতী নারীদের সুস্থতা ও দৃষ্টিশক্তিজনিত রোগের ক্ষেত্রেও সরাসরি কাজ করে এ ফল। 

মোটামুটি সর্বগুণসম্পন্ন পেয়ারায় রয়েছে ভিটামিন, মিনারেল, ক্যালরি, ভিটামিন-এ, আই ইউ, থিয়ামিন, নিয়াসিন, ভিটামিন-সি, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন।

বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (বারটান) সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও আঞ্চলিক প্রধান ড. মো. আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘পেয়ারা বেরি জাতীয় ফল। এ ফলটি বিভিন্ন রঙের হয়। তার মধ্যে সবুজ এবং লাল রঙের পেয়ারা বেশি সমাদৃত। এর প্রায় একশোরও বেশি প্রজাতি রয়েছে।’

পেয়ারার উপকারিতা সম্পর্কে এ গবেষক বলেন, “পেয়ারা অত্যন্ত পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ ফল। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন 'সি' রয়েছে। এই ভিটামিন 'সি' এর ফলে মানবদেহে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়িয়ে শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। পেয়ারাতে বিদ্যমান লাইকোপেন কোয়ার্কেটিং এবং ভিটামিন 'সি' শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। যা বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি কমায়। বিশেষ করে প্রোস্টেট ও ব্রেস্ট ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা কমায়।”

তিনি আরো বলেন, ‘পেয়ারাতে ফাইবার বা আঁশ এবং গস্নাইসেমিক থাকার কারণে রক্তের শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকে। এর ফলে ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি অনেক কম থাকে। ফাইবার এবং আঁশ থাকার কারণে পেয়ারা খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়।’

এ পুষ্টিগবেষক আরো বলেন, ‘এ ফলটিতে সোডিয়াম এবং পটাশিয়াম পাওয়া যায়। যা আমাদের শরীরের নিয়ন্ত্রণক্ষমতা বাড়ায়। যা পরবর্তীতের আমাদের বস্নাডপ্রেসার বা রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। পেয়ারার আরেকটি দারুণ গুণ হলো ট্রাইগ্লিসারাইড এবং এলডিএল নামক একটি খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। ফলে হৃদরোগ হওয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে যায়।’

পেয়ারাতে ভিটামিন 'এ' এবং ফলিক অ্যাসিড থাকার কারণে চোখের দৃষ্টিশক্তি বাড়ায় এবং চোখের ছানিপড়া রোধ করে। এ ছাড়াও ফলিক অ্যাসিড থাকায় এ ফলটি গর্ভবতী নারীদের জন্যও বিশেষ উপকারি।

যেসব রোগের বিরুদ্ধে কাজ করে পেয়ারা :

১. হাই ব্লাডপ্রেশার নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। অনেক দিন ধরে মেনস্ট্রুয়েসনের সমস্যায়ও পেয়ারা উপকারী।

২. রক্ত সঞ্চালন ভালো রাখতে সাহায্য করে। হার্টের সমস্যা থাকলে পেয়ারা খেতে পারেন। কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতেও এটি কার্যকর। পেয়ারায় থাকা ভিটামিন ‘সি’ সক্রিয় অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে এবং হার্টের অসুখ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায়।

৩. অ্যাজমা, স্কার্ভি, ওবিসিটি ইত্যাদি অসুখের ক্ষেত্রেও বেশ পেয়ারা উপকারী। ডায়াবেটিস তো বটেই, ক্যান্সার এমন কি প্রস্টেট ক্যান্সারের মতো রোগ প্রতিরোধেও সাহায্য করে পেয়ারা। কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট ও ফাইবারসমৃদ্ধ পেয়ারা ব্লাড সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

৪. পেয়ারা পাতার জুস গ্যাস্ট্রোনটেস্টিনাল সমস্যায় উপকারী। কারণ, পেয়ারা পাতায় রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এ ছাড়া পেয়ারা পাতা ওজন কমাতে সাহায্য করে। পেয়ারা পাতার জুস সর্দি-কাশি উপশমে সাহায্য করে। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ পেয়ারা ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়া রুখতে সাহায্য করে। একই কারণে অনেক বডি লোশন বা ফেস ক্রিমের উপাদানে পেয়ারা থাকে। বয়সের সঙ্গে জড়িত নানা রোগ, যেমন—অ্যালজাইমার, ছানি, রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস প্রতিরোধে সাহায্য করে। এছাড়াও ডিসেন্ট্রি প্রতিরোধ করে  অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদানে সমৃদ্ধ পেয়ারা।

বাংলা/এসএ

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0240 seconds.