• ফিচার ডেস্ক
  • ১৪ অক্টোবর ২০১৯ ১৩:৫৮:২২
  • ১৪ অক্টোবর ২০১৯ ১৩:৫৮:২২
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

ব্যথানাশক ওষুধের বদলে ফিজিওথেরাপি!

ছবি : সংগৃহীত

সামান্য ব্যথাতেই যারা ব্যথানাশক ওষুধ বা পেইনকিলার সেবন করেন, তাদের জন্য দুঃসংবাদ! চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এসব ব্যথানাশক ওষুধ সেবক আমার শরীরের ভয়াবহ সব ক্ষতির কারণ হতে পারে। সাময়িকভাবে ব্যথানাশক ওষুধ তেমন ক্ষতিকর না হলেও দীর্ঘমেয়াদে ব্যথানাশক ওষুধ সেবনে জীবনই পড়ে যায় ঝুঁকিতে।

অনেকেই আছেন, যারা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করে চলছেন। তাছাড়াও যারা বিভিন্ন আরথ্রাইটিস বা বাত রোগে ভুগছেন তাদেরও এ বদঅভ্যাসে ঝুঁকতে দেখা যায়। অথবা ডিজেনারেটিভ ডিজিজ বা বয়সজনিত হাড়ের ক্ষয় রোগ যেমন- রিউমাটয়েড আরথ্র্রাইটিস, এনকাইলোজিং স্পনডাইলাইটিস, অস্টিওআরথ্রাইটিস, স্পনডাইলোসিস, ইত্যাদি রোগে ভুগছেন, তাদের নিয়মিতই কোনো না কোনো ব্যথানাশক ওষুধ খেতে হয়। ওষুধ ছাড়া তারা ব্যথার তীব্রতা সহ্য করতে পারেন না।

কিন্তু দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবনে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ কিছু অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্থ হতে যারে। কিডনি, লিভার, পাকস্থলী ইত্যাদির মারাত্মক ক্ষতি করে অতিরিক্ত ব্যথানাশক ওষুধ। মাত্রা ছাড়িয়ে গেলে এসব অঙ্গ বিকলও হয়ে যেতে পারে।

যার ফলে রোগীর বিভিন্ন ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে, যেমন- তীব্র পেটে ব্যথা, পায়খানার সঙ্গে রক্ত যাওয়া, রক্তবমি হওয়া, রোগীর পা ও মুখ ফুলে যাওয়া, চোখের নিচে পানি জমা, প্রস্রাব কম হওয়া বা প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া ইত্যাদি।

কয়েকটি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে ব্যথানাশক ওষুধ বা এনএসআইডিজনিত আলসার ও কিডনি রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে চলেছে। এ অবস্থা যদি এখনই প্রতিরোধ না করা যায়, তবে তা মহামারী আকার ধারণ করতে পারে।

তাই যারা বিভিন্ন রকম ব্যথা-বেদনা বা আরথ্রাইটিস বা বাত রোগে ভুগছেন যেমন- হাঁটু, ঘাড়, কোমর ও কাঁধে ব্যথায় আক্রান্ত, তাদের ব্যথানাশক ওষুধের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াবিহীন আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের অন্যতম শাখা ফিজিওথেরাপি গ্রহণ করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে ব্যথামুক্ত জীবনযাপন সম্ভবপর হবে।

এ পদ্ধতিতে বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক রোগীর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও রোগ নির্ণয় করেন। এবং তিনি সেই অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা নির্ধারণ করে থাকেন যার মধ্যে- হাইড্রোথেরাপি, ম্যানুয়াল থেরাপি, ইলেকট্রোথেরাপি ও থেরাপিউটিক ব্যায়াম ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এই ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীর ব্যথা কমে আসে, জয়েন্ট বা অস্থি-সন্ধির নড়াচড়া সহজ হয়, মাংসপেশির কার্যক্ষমতা বাড়ে ও রোগী স্বাভাবিক চলাচল করতে পারে।

অতএব ব্যথার ওষুধ পরিহার করুন। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা নিন। তাহলে ব্যথার ওষুধের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোকে সুরক্ষা দেয়া সম্ভব।

বাংলা/এসএ

সংশ্লিষ্ট বিষয়

পেইনকিলার ফিজিওথেরাপি

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0219 seconds.