• ১০ অক্টোবর ২০১৯ ০১:৩০:০০
  • ১০ অক্টোবর ২০১৯ ০১:৩০:০০
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

ছাগল না দেয়ায় বাবুর্চিকে পেটালেন পীর সাহেব

ছবি : সংগৃহীত

বরগুনা প্রতিনিধি : 

বরগুনার বেতাগীতে এতিমখানার মানতের ছাগল পীর সাহেবকে না দেয়ায় এতিমখানার বাবুর্চিকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে মোকামিয়া দরবার শরিফের পীরসাহেব শাহ মোহাম্মদ মাহমুুদুল হাসান ফেরদৌসের বিরুদ্ধে। আহত বাবুর্চি আব্দুল করিম বিচার চেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যর কাছে লিখিত আবেদন করলে বিচারের আশ্বাস দেন তিনি।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বেতাগীর মোকামিয়া দরবার শরীফ হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় জনৈক ভক্ত মানতের একটি ছাগল প্রদান করেন। এতিমখানায় আর্থিক সংকট থাকায় পীরসাহেব শাহ মো. মাহমুদুল হাসান ফেরদৌসকে না দিয়ে বিক্রি করে উক্ত টাকা দিয়ে এতিম খানার জন্য চাল ডাল ক্রয় করেন বাবুর্চি। 

ছাগল না পেয়ে দরবার শরীফের গদ্দীনিশি পীর ও মোকামিয়া আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ শাহ মো. মহমুদুল হাসান ফেরদৌস ক্ষিপ্ত হয়ে ইয়তিম খানার বাবুর্চি আব্দুল করিমকে তার রুমে ডেকে নেন। বাবুর্চিকে পীরসাহেব তার পায়ের কাছে মাটিতে বসিয়ে বেত দিয়ে নির্মম ভাবে পিটায়। এতে বাবুর্চি মারাত্মক আহত হয়। ভবিষ্যতে এমন কাজ করলে বস্তায় ভরে নদীতে ফেলে দেয়ায় হুমকি দেয়। পরে আহত বাবুর্চি আ. করিম স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেয়।

এছাড়াও এতিমখানায় আগত মানতের মোরগ, ছাগল ও গরু পীরসাহেবের বাসায় দেয়ার অন্যায় রেওয়াজ আছে। এ ঘটনার বিচার চেয়ে ৮ অক্টোবর আব্দুল করিম বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমন’র বরাবরে আবেদন করেন। আবেদন পাওয়ার পর এমপি রিমন মোকামিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ৮ অক্টোবর রাত সাড়ে ৭ টায় এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করেন।

এসময়ে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও মেয়র এবিএম গোলাম কবির ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মাকসুদুর রহমান ফোরকানসহ স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতৃবিন্দ।

বাবুর্চিকে পিটানোর ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এমপি রিমন বলেন, একজন পীরসাহেবের পক্ষে এমন জঘন্য কাজ কারা ঠিক হয়নি। তিনি আরো বলেন, এ ঘটনার সুষ্ঠ ও দৃষ্টান্তমুলক বিচার হবে। সকলের সহযোগীতা পেলে এ দরবার ও মাদ্রাসার দূর্নীতি বন্ধ করা হবে। দরবারে টাকায় পীরসাহেব আলিশান বাড়ি বানিয়ে জীবন যাপন করছেন অথছ দরবারের মসজিদটি আজও জরাজীর্ণ অবস্থায় আছে। পীরসাহেব সব সময় ব্যাক্তিগত আরাম আয়েশে ব্যস্ত থাকায় মাদরাসা ও লিল্লাহসহ বোডিংয়ের খোজ রাখেন না।

এ বিষয়ে ঢাকায় অবস্থানরত পীরসাহেব শাহ মোহাম্মদ মাহমুুদুল হাসান ফেরদৌস মুঠোফোনে বলেন, আমার মুরীদের সাথেে আমার বিষয়ে অসৌজন্যমূলক মন্তব্য করায় তাকে জিজ্ঞাসা করেছি এবং ধমক দিয়েছি। মারধরের কোন ঘটনা ঘটেনি। এটা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।

বাংলা/এএএ

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0199 seconds.