• ০৯ অক্টোবর ২০১৯ ১২:০৬:৪৫
  • ০৯ অক্টোবর ২০১৯ ১২:০৭:৩৫
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

ফাহাদ বারবার ফাগুন হয়ে যাচ্ছে, লিখতে পারছি কই

ফাগুন ও আবরার। ছবি : সংগৃহীত

‘লিখতে চাইছি পারছি না, ফাহাদ বারবার ফাগুন হয়ে যাচ্ছে’, এ পর্যন্ত লিখে চুপচাপ বসে ছিলাম। এই বসে থাকা লিখতে পারছিলাম না বলে। ঝাপসা চোখে লেখা যায় না বলে। 

ফাগুন যেদিন খুন হয়, তার আগের রাত্রে পলাশী নিয়ে অন্যরকম একটি লেখা পড়ছিল। যে লেখায় চিত্রিত হয়েছিল আধিপত্যবাদের আসল রূপ। ফাগুন ছিলো সকল আধিপত্যবাদের বিরোধী। যেমন আবরার ফাহাদ, তেমনি ছিলো আমার ইহসান ইবনে রেজা ফাগুন। এক সাচ্চা গণমাধ্যমকর্মী। 

দেশটাকে অসম্ভব ভালোবাসতো ফাগুন। গণমাধ্যমকে বিশুদ্ধ করার প্রত্যয় ছিলো তার। সততার জোশ ছিল ওর চোখে, দায়িত্বের হুঁশ ছিলো ওর বুকে। অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করার আপোষহীনতা ছিলো তার ভেতর। সামাজিকমাধ্যমে লিখেছিলো, ‘সিংহের মত মরে যেতে চাই, গাধার মতন বেঁচে থাকার চেয়ে’। সে বেঁচে থাকতে পারেনি। গাধার মতন বেঁচে থাকা তার হয়ে উঠেনি, মারা গেছে সিংহের মতন। 

আবরার ফাহাদের মৃত্যুটাও তাই। আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে, প্রতিবাদ করতে গিয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। এ মৃত্যু শহীদের। ফাগুন-ফাহাদ’রা শহীদ হবার জন্যই জন্মায়। পলাশী, ব্রিটিশ আধিপত্যবাদের জন্ম হয়েছিল যে প্রান্তরে। দু’শ বছর বৃটিশদের গোলামি করতে হয়েছে আমাদের। সেই আধিপত্যবাদের স্বরূপ জানতেই পড়ছিল ফাগুন। কিন্তু তার পড়া শেষ হয়নি। যে পাতাটা মুড়ে রেখে গিয়েছিল, তা তেমনি আছে। শুধু ফাগুন নেই। ফাহাদের অংক করাও শেষ হয়নি, অসমাপ্ত রয়ে গেছে। শেষ হয়েছে তার জীবনের অংক। 

মরে গিয়ে ফাগুন আর ফাহাদ সেই ইতিহাস বাকিটা আর অংকের ফল মেলানোর দায়িত্ব দিয়ে গেছে আমাদের। ওরা দেশটা ভালোবাসতো বলেই চলে গেছে। ‘প্যাট্রিয়ট’দের এভাবেই মেরে ফেলা হয়। তবে আমরা বেঁচে আছি। যে বেঁচে থাকা অন্যদের বাঁচানোর জন্য। আর ফাগুন-ফাহাদ যারা রয়েছে তাদের বাঁচাতে হবে। প্রয়োজনে বলতে হবে, ‘এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না/ এই জল্লাদের উল্লাসমঞ্চ আমার দেশ না/ এই বিস্তীর্ণ শ্মশান আমার দেশ না/ এই রক্তস্নাত কসাইখানা আমার দেশ না/ আমি আমার দেশকে ফিরে কেড়ে নেব’। 

আমাদের এ দেশকে ফিরে কেড়ে নিতে হবে। প্রিয় স্বদেশভূমিকে মানুষের আবাসযোগ্য করতে হবে। মানুষের জন্য নির্ভয় করতে হবে। ফাগুন আর ফাহাদ যা জানিয়ে গেছে, তা আমাদের করতেই হবে। 

পুনশ্চ : ‘আমাকে হত্যা করলে/ বাংলার সব কটি মাটির প্রদীপে শিখা হয়ে ছড়িয়ে যাব/ আমার বিনাশ নেই-/ বছর বছর মাটির মধ্য হতে সবুজ আশ্বাস হয়ে ফিরে আসব/ আমার বিনাশ নেই-/ সুখে থাকব, দুঃখে থাকব সন্তান-জন্মে সৎকারে/ বাংলাদেশ যতদিন থাকবে ততদিন/ মানুষ যতদিন থাকবে ততদিন।’ ফাগুন-ফাহাদ’রা চলে যেতে যেতে এমনটাই জানিয়ে গেছে। 

লেখক : সাংবাদিক, কলাম লেখক ও নিহত সাংবাদিক ইহসান ইবনে রেজা ফাগুনের বাবা।

বাংলা/এসএ

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0224 seconds.