• ০৯ অক্টোবর ২০১৯ ০৮:৩৩:৪২
  • ০৯ অক্টোবর ২০১৯ ১২:৩৫:৪৮
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

লড়াইটা হোক খুনি তৈরির ‘ইন্ডাস্ট্রি’র বিরুদ্ধে

ছবি : সংগৃহীত

আবরার দীর্ঘ সময় অত্যাচারের শিকার হয়ে তিলে তিলে মরেছে। তাকে খুন করা হয়েছে। এই খুনের দাগ লেগে আছে প্রতিটি মানুষের গায়ে। এই কারণে লেগে আছে যে, এই রকম পরিস্থিতি তৈরি হবার জন্য আমরা নিজেরাও দায়ী। কিন্তু সেটা পরোক্ষভাবে। প্রত্যক্ষ বিপরীত দিকের কথা বলি, আজকে যারা ‘ছাত্রলীগ’ হিসেবে খুন করলো তারই ক্যাম্পাসের এক ভাই’কে, তখন তাদের বিরুদ্ধে পুরো দেশ সোচ্চার হয়ে উঠেছে। কেমন সচেতন আপনি?

খুন করেছে মেহেদি হাসান, ফুয়াদ, বিটু, রাফিদ, সকাল, অমিত, জিয়ন, অনিকসহ আরো কয়েকজন। এরা সকলেই বুয়েটের ছাত্র। মেধাবী। অন্তত মা-বাবা’র স্বপ্নের পেছনে অনেক চেষ্টা ও পরিশ্রমের ফলে তারা দেশের অন্যতম বিদ্যাপীঠে সুযোগ পেয়েছিলো। ততোক্ষণ পর্যন্ত এরা কেউ খুনি ছিলো না। এরা কেউ এতোটা হিংস্রও ছিলো না। এরাও আমাদের মা-বাপের মতোই দরিদ্র শ্রমিক, কৃষক, সামান্য চাকরিজীবির সন্তান। এই মা-বাবাও অতি কষ্টের বিনিময়ে এই ছেলেকেগুলো’কে পড়তে পাঠিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে।

শুনতে খারাপ লাগলেও, এটিই তো সত্যি যে, আবরারের মৃত্যুর শোকে সারাদেশের মানুষ তার মা-বাবার মতো ব্যথিত হয়ে উঠেছে। তাতে ক্ষতিটা কমবে না কিছুতেই। কিন্তু, এই মৃত্যুর মধ্য দিয়ে তার মা-বাবার একটা লাইটেড বোধের শক্তি তৈরি হয়। যা থেকে একটা শান্ত্বনার শক্তি হিসেবে নিদেনপক্ষে চূড়ান্ত ভেঙ্গে পড়ার হাত থেকে নিজেদের শোক বহন করতে পারবে।

ঠিক এর বিপরীতে?

হাসান, ফুয়াদ, বিটু, রাফিদ, সকাল, অমিত, জিয়ন, অনিকের মা-বাবার অবস্থা কি? আপনারা খুনিদের বিচার চেয়ে বসে আছেন। গোঁয়ারের মতো তাদের ফাঁসির কার্যকর ফল হাতে নিয়ে ঘরে ফিরবেন। এতে সমস্যা নেই। সমস্যা অন্য এক জায়গায়।

হাসান, ফুয়াদ, বিটু, রাফিদ, সকাল, অমিত, জিয়ন, অনিকের মা-বাবা আজ কেমন করে ঘরে আছে? রাষ্ট্র বা ক্ষমতা তাদের মদত দিয়ে বাঁচাবে হয়তো, এমনটা ভাবছেন। মেনে নিলাম, তাদের বাঁচাতে হলেও বস্তুত এমন প্রত্যক্ষ খুনের হাত থেকে বাঁচাতে, খুনিদের আরো এক প্রকার খুন করে দিতে হবে। সরিয়ে নিতে হবে তার চিরায়ত জীবন থেকে। তাইলে, নিশ্চয় এদের মা-বাবা এদের আর ফিরে পাবে না। সেইসাথে জমা হয়ে আছে এক পৃথিবীর ঘৃণা। এই সকল আর্তনাদ আপনার কানে যায় না বুঝি? যাবে কেন? আপনি তো শুধু খুনি’কে চেনেন। খুনি তৈরির ‘ইন্ডাস্ট্রি’ চেনেন না।

কোনদিন এদের মা-বাবা চিৎকার করে কাঁদতেও পারবে না। এতো অসহায় অবস্থা মানুষের কল্পনা করতেও কষ্ট হচ্ছে আমার।

এবার আসি, খুনি তৈরির ‘ইন্ডাস্ট্রি’ নিয়ে। একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যখন ভিক্ষাবৃত্তির মতো বা আরো নিম্নমানের চৌর্যবৃত্তিতে নেমে আসে, তখন সমাজ এইরূপ দুর্দশার মুখোমুখি হতে বাধ্য। রাষ্ট্র যখন নিজের প্রয়োজনে, ছাত্র-শিক্ষক, কৃষক- শ্রমিকসহ পেশাগত অবস্থা জিম্মি করে নিজের প্রয়োজনে ব্যবহার করে তখন এর চেয়ে ভালো ফলাফল কি করে আশা করবো?

এই যে প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ঘৃণা ও সহিংসতার চাষাবাদ, তাকে আপনি কেন চার্জ করবেন না? কিভাবে এই প্রতিষ্ঠান ছেড়ে আপনি খুনিদের বিরুদ্ধে অবস্থান করছেন?

এটুকু কি বুঝতে পারছেন না যে, খুনের শিকার ও খুনি প্রায় একইসাথে (একটু আগে পরে) কোচিং করে ‘ভর্তি-যুদ্ধে’ লড়াই করে জিতে আসার পর একসাথে উল্লাস করেছে। একসাথে স্বপ্নের পায়রা উড়িয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়-রাষ্ট্র মিলে আজ একজন’কে করেছে খুন, আর অন্যজন’কে করেছে খুনি!

হাসান, ফুয়াদ, বিটু, রাফিদ, সকাল, অমিত, জিয়ন, অনিকের মা-বাবা’কে বলি, আপনারা এই রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াই করুন। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে লড়াই করুন। কারণ আপনার সন্তান খুনি নয়। প্রতিষ্ঠান আপনার সন্তান’কে খুনি বানিয়ে ব্যবহার করেছে।

লেখক : জাহিদ জগৎ

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0213 seconds.