• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ০৮ অক্টোবর ২০১৯ ১৯:৩৮:০২
  • ০৮ অক্টোবর ২০১৯ ১৯:৩৮:০২
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

যার কক্ষে খুন, সেই ছাত্রলীগ নেতাই অধরা

আবরার ফাহাদ ও অমিত সাহা। ফাইল ছবি

অমিত সাহা। বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক। তার বিরুদ্ধে আবরার ফাহাদকে হত্যার অভিযোগ থাকলেও মামলায় তাকে আসামি করা হয়নি। তিনি এখন কোথায়, তা বলতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কেউ। অথচ আবরারকে তার কক্ষেই হত্যা করা হয়। আবরার হত‌্যাকাণ্ডে অমিত সাহা প্রত্যক্ষ্যভাবে জড়িত বলে অভিযোগে করেছেন বুয়েটের শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে মঙ্গলবার দুপুরে কথা হয় চকবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহরাব হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ভিডিও ফুটেজ দেখে যাদের শনাক্ত করা হয়েছে কেবল তাদের নামেই মামলা হয়েছে। এরপরও তদন্ত হবে। তদন্তে যদি অমিতের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়, অবশ্যই তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।’

তার কক্ষে তো আবরারকে হত্যা করা হয়েছে, এক্ষেত্রে কি তার আসামির হওয়ার কথা না? এ প্রশ্নের জবাবে সোহরাব হোসেন বলেন, বললাম তো, তদন্তে প্রমাণ পেলে তাকেও আসামি করা হবে। তাকে বাঁচাতে পুলিশের কোনো পরিকল্পনা নেই।’

মঙ্গলবার বুয়েট ক্যাম্পাসের সামনে ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী হেলালউদ্দিন বলেন, ‘২০১১ নম্বর কক্ষটি অমিত সাহার নিয়ন্ত্রণাধীন ছিল। ঘটনার সময় তার নেতৃত্বে ছাত্রলীগের কর্মীরা আবরারকে মারধর করেন। পরে তিনিসহ অন্যরা বেরিয়ে যান। ওই কক্ষ থেকে পুলিশ রক্তমাখা স্টিক, ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করে। এই রুমে শুধু আবরারকেই নয়, আরো অনেককেই এনে নির্যাতন করা হতো। যার কক্ষে এ ঘটনা ঘটলো তাকে আসামি না করা অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।’

এ সময় অনেকেই অমিত সাহাকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় বলেন, ‘আমরা ঘটনা তদন্ত করছি। তদন্তে যাকে পাব তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। এক্ষেত্রে কে কোন দল বা কোন ধর্মের তা বিবেচ্য বিষয় নয়।’

এদিকে, চকবাজার থানায় আবরারের বাবা ১৯ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। আসামিরা বুয়েট ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এদের সবাই আবরার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তবে মামলায় অমিতের কক্ষের বর্ণনা থাকলেও অজ্ঞাত কারণে তার নাম নেই।

সূত্রের বরাতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ঘটনার সময় অমিত সাহা হলে অবস্থান করছিলেন। তিনি অন্যদের আবরারকে মারধরের নির্দেশ দেন। শেরেবাংলা হলের ভিডিও ফুটেজে অমিত সাহাসহ ছাত্রলীগের আরো কয়েকজন নেতাকে বের হয়ে আসতে দেখা যায। এরপর থেকে অমিত সাহাকে খোঁজা হচ্ছে। কিন্তু তাকে পাওয়া যাচ্ছে না।

জানা গেছে, ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনশাসনেসের (ইসকন) সদস্য অমিত সাহা। ইসকনের ব্যানারে তিনি বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্ম নিয়ে বিভিন্ন স্ট্যাটাস দিতেন। তবে ঘটনার পর থেকে তার ফেসবুক ডিঅ্যাকটিভ আছে। তার মোবাইল নম্বরও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0244 seconds.