• ০৮ অক্টোবর ২০১৯ ১৩:৩৫:৪১
  • ০৮ অক্টোবর ২০১৯ ১৩:৩৫:৪১
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

নষ্ট রাজনীতির বদল ছাড়া আবরারদের রক্ষা করা যাবে না

ছবি : সংগৃহীত


মনীষা চক্রবর্তী :


১. 
আমি তখন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের (শেবাচিমে) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। আমার কাছের এক বান্ধবী আর বন্ধুর মধ্যে একটু ভাল লাগার একটা ব্যাপার হল। ছাত্রলীগের এক পাতিনেতার পছন্দ হল না ব্যাপারটা। মেয়েটিকে তার পছন্দ ছিল। সুতরাং, ‘অ্যাকশন’ তো নিতেই হবে! ১৫/২০ জন মিলে আমাদের সেই বন্ধুটিকে হকিস্টিক দিয়ে রুমের মধ্যে আটকে বেধড়ক মারে। বন্ধুটি যখন হাসপাতালে, তখন সেই বান্ধবীর সাথে আমরা দেখতে গেলাম বন্ধুকে। দেখলাম বেশিরভাগ মেয়ে ভয়ে-আতংকে যেতেই চায় না। তখন রাজনীতি করি না। আমরা যতটুকু পারি বন্ধুর পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। প্রচন্ড বিক্ষুব্ধ ছিলাম কিন্তু প্রতিবাদ করতে পারিনি।

২.
প্রতিবাদ হয়েছিল ২০১২ তে। প্রথম বর্ষের ছাত্র আবু নোমান নির্মম র‍্যাগিং এর বিভৎসতার শিকার হল, শিকার হল চাঁদাবাজির। আমরা ছাত্র ফ্রন্ট এর উদ্যোগে ১৫-১৬ জন মিলে মানববন্ধন করার সিদ্ধান্ত নিলাম। অবাক করা ব্যাপার হল, আমরা সবাই ছিলাম মেয়ে। নোমানের পরিণতি হতে পারে ভেবে কোন ছেলে আমাদের সাথে আসেনি। আগের দিন রাত থেকে হুমকির জোয়ারে আক্রান্ত হলাম আমরা। ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠন এর বিরুদ্ধে ছাত্র ফ্রন্ট প্রোগ্রাম করবে এটা ছিল ছাত্রলীগের কাছে অবিশ্বাস্য। আমরা ঠিকই গেলাম প্রোগ্রামে। সেই র‍্যাগিং এর নেতারা নানান হম্বিতম্বির পর শেষে হামলা করল মানববন্ধনে। কিন্তু প্রতিবাদের স্ফুলিঙ্গ তৈরি হল ক্যাম্পাসে- বরিশালে- সারাদেশে।

৩.
২০১৩ তে ছাত্রলীগ ঢুকেছিল ছাত্রীহলে। আরেক নেতার বান্ধবীর জন্য রুম ছাড়ার হুমকি দিতে। ছাত্রী হলে প্রতিবাদের আগুন জ্বলে উঠেছিল। যথারীতি বলা হয়েছিল, ছাত্র ফ্রন্ট আর শিবির একসাথে ষড়যন্ত্র করে এই আন্দোলন করছে! এই গাজাখুরি গল্প অবশ্য ধোপে টেকেনি। সব ইয়ারের মেয়েরা মিলে ক্লাস বর্জন, সারারাত হলের বাইরে অবস্থান নেয়া, স্লোগানে-মিছিলে ছাত্রী হলের চেহারা পালটে দিয়েছিল। আপাতদৃষ্টিতে নিরীহ ছাত্রীরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে কিরকম শক্ত হয়ে দাঁড়াতে পারে তার উদাহরণ তৈরি হয়েছিল শেবাচিমে। সেই প্রতিরোধ এর ইতিহাস এখনো শেবাচিম ছাত্রী হলের নিরাপত্তা দেয় বলেই বিশ্বাস করি।

সেইসব নিপীড়নের কর্মকাণ্ড যারা ঘটিয়েছেন আজকে তারা বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। একটা নষ্ট রাজনীতি একজন মানুষকে কত পশুর স্তরে নিয়ে যেতে পারে একসময় তারা সেই উদাহরণ তৈরি করেছিলেন। আর ঠিক তার বিপরীতে সমাজপ্রগতির রাজনীতি, ন্যায্যতার শক্তি সেদিনের মানুষগুলিকে ভয়-ভীতির উর্ধ্বে উঠিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের উদাহরণ তৈরি করেছিল।

বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার মরে গেছে, কিন্তু যারা এখনো মারা যাননি তারা কি আবরারদের মৃত্যুর নীরব দর্শক হবেন? নাকি অসংখ্য আবরারের জীবন রক্ষার ঐক্যবদ্ধ শক্তি তৈরি করবেন? মনে রাখবেন, এই নষ্ট রাজনীতির বদল ছাড়া আবরারদের রক্ষা করা যাবে না।

আবরার হত্যার বিচার চাই।

লেখক: চিকিৎসক ও রাজনৈতিক সংগঠক।

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0228 seconds.