• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ০৮ অক্টোবর ২০১৯ ১৩:০৮:২৭
  • ০৮ অক্টোবর ২০১৯ ১৩:০৮:২৭
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

ছাত্র নির্যাতনকারীদের বহিষ্কারসহ ৭ দফা দাবি বুয়েট শিক্ষার্থীদের

ছবি : সংগৃহীত

আবরার হোসেন ফাহাদের (২১) হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। আজ ৮ অক্টোবর, মঙ্গলবার সকাল থেকে সমবেত হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। সকাল ১০টার দিকে বুয়েট ক্যাফেটেরিয়ার সামনে থেকে মিছিল বের করেন বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ছাত্র নির্যাতনকারীদের বহিষ্কারসহ ৭ দফা দাবি জানিয়ে তা আগামী ১১ অক্টোবরের মধ্যে বাস্তবায়নের সময়সীমা বেঁধে দেন তারা।

‘আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার চাই’—ব্যানারে বের হওয়া মিছিলে তাদের হাতে ছিলো বিভিন্ন লেখা সম্বলিত প্ল্যাকার্ড-ব্যানার, আর হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবি ছিলো মুখে মুখে উচ্চারিত স্লোগানে। তাদের কর্মসূচি বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এই সময়ের মধ্যে ভিসিকে ক্যাম্পাসে আসার আল্টিমেটাম দেন তারা। এছাড়াও ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ চাই’ স্লোগানও তুলেন।

মিছিলটি বুয়েটের হলগুলো ঘুরে বেলা সোয়া ১১টার দিকে বুয়েট শহীদ মিনারের সামনে আসেন। সেখানে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে সাতটি দাবি তুলে ধরেন শিক্ষার্থীরা। এগুলো হলো :

১. খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

২. ৭২ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের শনাক্ত করে সবার ছাত্রত্ব আজীবন বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

৩. দায়েরকৃত মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের অধীনে স্বল্পতম সময়ে নিষ্পত্তি করতে হবে।

৪. বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কেন ৩০ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পরও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়নি, তা তাকে সশরীরে ক্যাম্পাসে এসে আজ বিকেল ৫ টার মধ্যে জবাবদিহি করতে হবে। একই সঙ্গে ডিএসডব্লিউ স্যার কেন ঘটনাস্থল থেকে পলায়ন করেছেন, এ বিষয়ে তাকে আজ বিকেল ৫ টার মধ্যে সবার সামনে জবাবদিহি করতে হবে।

৫. আবাসিক হলগুলোতে র‌্যাগের নামে ও ভিন্ন মতাবলম্বীদের ওপর সকল প্রকার শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন বন্ধে প্রশাসনকে জড়িত সকলের ছাত্রত্ব বাতিল করতে হবে। একই সঙ্গে আহসানউল্লাহ হল এবং সোহরাওয়ার্দী হলের পূর্বের ঘটনাগুলোতে জড়িত সকলের ছাত্রত্ব বাতিল ১১ অক্টোবর,২০১৯ তারিখ বিকেল ৫ টার মধ্যে নিশ্চিত করতে হবে।

৬. রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে আবাসিক হল থেকে ছাত্র উৎখাতের ব্যাপারে অজ্ঞ থাকা এবং ছাত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হওয়ায় শেরে বাংলা হলের প্রভোস্টকে ১১ অক্টোবর, ২০১৯ তারিখ বিকেল ৫ টার মধ্যে প্রত্যাহার করতে হবে।

৭. মামলা চলাকালে সকল খরচ এবং আবরারের পরিবারের সকল ক্ষতিপূরণ বুয়েট প্রশাসনকে বহন করতে হবে।

এর আগে গতকাল ৭ অক্টোবর, সোমবার চার দফা দাবিতে আন্দোলনে নামার ঘোষণা দেন বুয়েটের শিক্ষার্থীরা। রাতে বুয়েট কেন্দ্রীয় মসজিদে আবরারের জানাজার পর বিক্ষোভ শেষে এ আন্দোলনের ঘোষণা দেন তারা।

গত ৬ অক্টোবর, রবিবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে বুয়েটের শেরে বাংলা হলের প্রথম ও দ্বিতীয় তলার মাঝামাছি থেকে আবরারকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ওইদিন রাত আটটার দিকে হলের নিজ রুম থেকে আবরারকে ডেকে ২০১১ নম্বর নিয়ে যায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা। ৭ ঘণ্টা ধরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্মম নির্যাতন করা হয়। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জানিয়েছেন, আবরারের মরদেহে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭ তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী ছিলেন নিহত আবরার হোসেন ফাহাদ।

বাংলা/এসএ

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0211 seconds.