• ফিচার ডেস্ক
  • ০৭ অক্টোবর ২০১৯ ১৩:৫২:০৭
  • ০৭ অক্টোবর ২০১৯ ১৩:৫২:০৭
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

অভ্যাস বদলালেই দূরে যাবে অ্যানিমিয়া

ছবি : সংগৃহীত

সঠিক সময়ে সঠিক খাবার না খেলে শরীরে বাসা বাঁধতে পারে অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা। রক্তের মূল উপাদান আয়রনের ঘাটতিতেই দেখা দেয় এই রোগ। এর প্রভাবে চেহারা হয়ে যায় ফ্যাকাসে। আর এই রোগ দেখা দিলে ভুগতে হয় অপুষ্টির যন্ত্রণায়। দেখা দিবে কৃমি ও রক্তপাতের উৎপাত। সেই সাথে জীবন হয়ে যাবে এলোমেলো। তাই সঠিক সময়ে সঠিক খাবার আর জীবনযাপনে আজ থেকেই শৃঙ্খলা আনুন।

মেডিসিন বিশেষজ্ঞ গৌতম গুপ্ত রোগটি প্রসঙ্গে বলেন, ‘ঘরের ডালভাত খেতে যেন আজকাল মানুষ ভুলেই গেছেন। ওজন কমাতে খাচ্ছেন মিল সাপলিমেন্ট আর আনন্দে জাঙ্ক ফুড। দিনান্তে একবার হয়তো ঘরে খাওয়া হয়, তাও চটজলদি বানিয়ে ফেলা যায় এমন খাবার? তার পুষ্টিগুণ কতটা, ক্যালোরি মূল্য কত, সে সব নিয়ে কেউই আর মাথা ঘামান না।’

ফলে বাইরে স্বাস্থ্যকর দেখতে এমন মানুষের ভেতর তার অজান্তে এই অ্যানিমিয়া বাসা বাঁধছে বলে সতর্ক করে দেন তিনি।

পুষ্টিবিদদের মতে, এই রোগ ঠেকাতে অভ্যাস বদলাতে হবে। যদিও সব রাতারাতি বদলানো যায় না। তবে তাতে দুশ্চিন্তারও কিছু নেই। একটা-দুটো অভ্যাস পাল্টানো শুরু করুন, অন্য অভ্যাসও আপনার নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

যেসব অভ্যাস বদলানো জরুরি : খাবার খাওয়ার এক ঘণ্টা আগে-পরে চা, কফি বা সফট ড্রিংকস খেলে শরীরে ঠিক ভাবে খাবারের আয়রন শোষণ করতে পারে না। ফলে ভেতরকার কাজে গড়বড় দেখা দেয়। কাজেই এই অভ্যাস বদলের চেষ্টা করুন আজ থেকেই।

‘খালিপেটে জল, ভরাপেটে ফল’ এই ছড়া তো শৈশব থেকেই শুনে আসছেন। এবার এটা মেনে চলুন। ফল কখনোই খালি পেটে খাবেন না, খাবেন খাবার খাওয়ার পর। ফলের ভিটামিন সি খাবারের আয়রন ভাঙতে সাহায্য করে। একই কারণে ভাত খাবার সময় লেবু খেতে ভুলবেন না। আর ইসবগুলের ভুসি খাবেন খাবার খাওয়ার ঘণ্টা দুয়েক আগে বা পরে। না হলে পুষ্টির বেশ কিছুটা আটকে নিতে পারে ফাইবারের ছাঁকনি!

আর নিয়মিত যদি জাঙ্ক ফুডের অভ্যাস থাকে, তা ঝেড়ে ফেলুন। এসব মুখরোচক খাবারে পুষ্টি তো মেলেই না, উল্টো বেশি খেলে পেটের গোলমাল বাঁধায়। অতএব সপ্তাহে এক দু'বারের বেশি জাঙ্কফুড খাবেন না।

দিনে অন্তত দুই বার খেতে চেষ্টা করুন ঘরে বানানো টাটকা সুষম খাবার। বাড়ি থেকে টিফিন নিয়ে যেতে পারলে তো আরো ভালো। দিনে অন্তত এক বেলার খাবার সেরে নিন ফল, দই, রায়তা দিয়ে।

খাওয়ার সাথে সাথেই ঘুমাতে যাবেন না। এ অভ্যাস যদি থেকে থাকে বদল শুরু করুন আজই। ঘুমাতে  যাওয়ার ঘণ্টা দুয়েক আগেই সেরে নিন রাতের খাবারের পর্ব।

কোন বেলায় কী খাবেন, তা ভাগ করে ফেলুন। যে বেলায় মাংছ, মাংস, ডিম দিয়ে খাবেন, সে বেলায় দুগ্ধজাত খাবার এড়িয়ে চলুন। কারণ, আয়রন ও ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার একসঙ্গে খেলে পরিপাকতন্ত্রের জন্য কাজটা কঠিন হয়ে যায়। এ জন্য যে বেলায় শাকসবজি দিয়ে খাবেন, সে বেলায়ই দুধের তৈরি খাবার যুক্ত করে নিন।

রেড মিটে ও চিংড়ি, ডিম, মেটে ইত্যাদিতে আছে হিম আয়রন- যা সহজে শরীরের কাজে লাগে। আর দুধ ও দুধের তৈরি খাবার, সবুজ শাকসব্জি, মুসুর ও অন্যান্য ডাল, বিন, পেস্তা, ফল, বাদামে ননহিম আয়রন- যা শোষণ করতে সময় নেয় পরিপাকতন্ত্র। তবে সঙ্গে ভিটামিন ‘সি’যুক্ত খাবার যেমন- লেবু, কমলা, আমলকি বা অন্য টক ফল খেতে পারেন। এতে পরিপাকতন্ত্রের কাজ কিছুটা হলেও সহজ হয়।

বাংলা/এসএ

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0206 seconds.