• ০৫ অক্টোবর ২০১৯ ২২:৩৯:১০
  • ০৫ অক্টোবর ২০১৯ ২২:৩৯:১০
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

কুবিতে উত্তরপত্র সংকট, শিক্ষকের কাছে ব্যাখ্যা চায় প্রশাসন

ছবি : সংগৃহীত

কুবি প্রতিনিধি :

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) মিডটার্মের উত্তরপত্রের সংকটের সংবাদ প্রকাশের জেরে দুটি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও এক সহকারী অধ্যাপকের নিকট থেকে লিখিত ব্যাখা চেয়েছে  বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

দরপত্র জটিলতায় নির্দিষ্ট সময়ে উত্তরপত্র কিনতে না পারায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের একটি ব্যাচের শিক্ষার্থীরা নিজেদের টাকায় উত্তরপত্র কিনে পরীক্ষায় অংশ নেয় এবং ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি বিভাগের একটি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।

এরই প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার বিকালে  বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার, ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মোঃ তোফায়েল আহমেদ ও মার্কেটিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মেহেদী হাসানের কাছে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. আবু তাহের স্বাক্ষরিত পৃথক পৃথক চিঠি প্রেরণ করা হয়।

মার্কেটিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার এবং সহকারী অধ্যাপক মেহেদী হাসানের নিকট প্রেরিত চিঠিতে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে বলা হয়, ‘গত ২৫ তারিখ মার্কেটিং বিভাগে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে পর্যাপ্ত খাতা থাকা সত্তে¡ কেন একটি ব্যাচের মিডটার্ম পরীক্ষা দোকান থেকে কেনা কাগজে দিতে হয়েছে এ বিষয়ে নির্দেশক্রমে জরুরী ভিত্তিতে এর কারণ লিখিতভাবে তাদের জানানোর জন্য অনুরোধ করা হল।’ 

তবে চিঠিগুলোতে ইস্যুর তারিখ ০২ অক্টোবর, ২০১৯ উল্লেখ থাকলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের কাছে বৃহস্পতিবার (০৩ অক্টোবর) বিকালে চিঠি পৌঁছে দেয়া হয় বলে জানা যায়। চিঠিগুলোতে স্ব স্ব ব্যক্তিদের প্রশাসন থেকে নির্দেশক্রমে জরুরী ভিত্তিতে এর কারণ লিখিতভাবে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হয়। এছাড়া চিঠিগুলো ব্যক্তিগত নতিতে অন্তর্ভুক্ত, স্ব স্ব অনুষদের ডিন ও উপাচার্যকে অবগতির জন্যও অনুলিপি পাঠানো হয়।

প্রসঙ্গত, দরপত্রজনিত জটিলতার কারণে কুমিল্লা  বিশ্ববিদ্যালয়ে মিডটার্ম পরীক্ষার উত্তরপত্রের সংকট দেখা দেয়। এসময় বিভিন্ন বিভাগ থেকে প্রয়োজন মতো চাহিদা দিলেও তারা তাদের চাহিদা অনুযায়ী খাতা সরবারহ করা হত না। গত ২৫ সেপ্টেম্বর মার্কেটিং বিভাগের ৮ম ব্যাচের মিডটার্ম পরীক্ষা নিতে যায় বিভাগটির সহকারী অধ্যাপক মেহেদী হাসান। কিন্তু পরীক্ষা নেওয়ার সময় বিভাগে উত্তরপত্র না থাকায় পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা দোকান থেকে কাগজ কিনে ঐ পরীক্ষাটি দেয়।

এছাড়া একই দিনই মিডটার্মের উত্তরপত্র না থাকায় ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের একটি ব্যাচের মিডটার্ম পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। এরই প্রেক্ষিতে উত্তরপত্র সংকট নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়, যার প্রেক্ষিতে প্রশাসন এই তিন শিক্ষকের নিকট ব্যাখা চেয়ে চিঠি দেয়।
এ বিষয়ে মার্কেটিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মেহেদী হাসান বলেন,‘ শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা বন্ধ না করে পরীক্ষা নেওয়ায় যদি অপরাধ হয় এবং এজন্য যে শোকজ দেওয়া হয়েছে সেটা খুবই হতাশাজনক। দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বছরের শুরুতে যেখানে সরকার শিক্ষা উপকরণ পৌছে দেয় সেখানে কুমিল্লা  বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন অর্থ বছরের চার মাস পার হলেও পরীক্ষার উত্তরপত্র সংকট এটাই তো একটা বিস্ময়। যেখানে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও রেজিস্ট্রার বলেছেন যে টেন্ডার জটিলতার কারণে উত্তরপত্র পর্যাপ্ত নেই সেখানে এই শোকজ কিসের ইঙ্গিত বহন করে?’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, ‘পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে পর্যাপ্ত খাতা থাকার পর তারা কেন দোকান থেকে ক্রয়কৃত কাগজে পরীক্ষা নিয়েছে এবং কেন একটি পরীক্ষা স্থগিত করেছে সেই কারণ জানার জন্যই তাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। এটা শোকজ নয়। এ ঘটনাটির জন্য মূল কারণ কী সেটা জানার জন্যই তাদের বরাবর এ চিঠি পাঠানো হয়েছে।’

বাংলা/এএএ

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0210 seconds.