• ০৪ অক্টোবর ২০১৯ ২১:০৬:২৮
  • ০৪ অক্টোবর ২০১৯ ২১:০৬:২৮
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

লতিফুল খবীর কল্লোল এর চারটি কবিতা

ছবি : সংগৃহীত

জলের গন্ধে অন্ধ হৃদয়

অন্ধ হয়ে যাবার পর থেকে নাকের অনুভূতিটা বাড়তে শুরু করল
চারিদিকে কেবল ঝাঁঝালো গন্ধ
কার্বন সালফার আর নাইট্রোজেনের,
পোড়া পোড়া অথচ জ্বলজ্বলে সতেজ।

পৃথিবীর সব অক্সিজেন কি তবে ব্যবহৃত হবে পোড়ানোর কাজে!

মাঝে মাঝে গন্ধ পাই রক্তপঁচার
রক্তপঁচার নাকি রক্তজবার!
শরমের উদ্যান ছেড়ে যারা বেরিয়ে পড়েছিল রাজপথে
সালফার জ্বলতে দেখেও যারা হাতে তুলে নিয়েছিল শেকড়ের সিলিকন
মিছিলে মিছিলে ভুলে গিয়েছিল মাধবী হৃদয়
হৃদয় পিষে স্বশরীর ভাসিয়ে দেয়া লবনজলে
ঘুম ভেঙেই ইদানিং আমি গন্ধ পাই সেই শবের
শতদলে রক্তজবা।
সারি সারি লাশ থেকে সুতীব্র গন্ধ ছুটে এসে আমাকে পাগল করে তোলে,
বন্ধ চোখে আমি দেখি লাশেদের মিছিল
মিছিলের রাস্তা ভেসে যায়
হাবাগোবা মানুষের বেয়ে আসা জল
অনন্ত সুমুখে সাগর অতল।

জলের তিয়াসেই তোমাদের তবে এতো আয়োজন!

ওহো পিপল, স্কীন অ্যান্ড বৌন! রান রান!
চোখের জলেই হয়ে যাবে সব সমাধান!

 

ভ-ল-ব-স

মর্ত্যের শিশুরা পান করে লোভনীয় বিষ,

জাদুর খাঁচার ওপারে সাদা ফুল,

শাদা-শাদা রক্তের জমিন

আলো নাই।

ঘরের সব আলো,

শহরের রঙঝরা আলো,

পৃথিবীর বাবাদের আলোরা সব আজ

সমর্পিত,

তোমার করতলে

বিষুব হিমালয় থেকে অ্যান্টার্কটিকা,

যুবতির বুড়ো মন খুঁজে ফেরে টাইটানিক প্রেম।

ব্লাকহোলে মৃত মানুষের চিৎকার- আলোর ঝলক

পষ্ট পড়েছি সেখানে,

ভ-ল-ব আর -স এর কোডিং

ATGC কোডিংয়ের তুলনায় ঢের জীবনমুখী!

 

মানুষ অথবা ঘাস

মানুষ হতে চেয়েছিলাম আমি

মানুষকে ভালোবেসে।

রমনায় কিংবা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে

কৃষ্ণচুড়া, জারুল আর হিজলের তলে

মিছেমিছি ভান করে পড়ানোর ছলে

দূরন্ত বালিকার কাঁধে হাত- শিউরে ওঠা দুপুর

বিষম শীতের সাদা সকাল- ওমে ভরপুর

ক্লান্ত পথিকের নির্জনতার ফাঁকে

একজোড়া শালিকের লুটোপুটি প্রেম দেখতে দেখতে

আমি ঘাস হতে চেয়েছিলাম,

সুন্দরবন পুড়ে গেলে আমাজনের বনে।

 

রঙ

ব্রাশফায়ারে হত্যা করা প্রেমিকের হৃদরঙ তোমার কপালে হয়ে ওঠে সকালের সিঁদুর, শিঙা অথবা আজানের ধ্বনিতে ঘুম ভাঙে লাশেদের- নড়েচড়ে ওঠে অলস মাংসপিন্ড।

তারপর গৃহস্থ সাপেরা ফণা তুললে ওঝা আসে। বীণার তালে তালে নাচে গ্রীবা- হাতের বাজু। তেতারায় ঝংকারে মেঘে মেঘে ভাসে সূর্য। সাদা বামন রঙ ছটায়। অথর্ব রাতের তারারা বায়ু বদলায়। অসম প্রেম পরিণত হয় প্লাজমায়- সময়ের ফেরে।

পলোকে-

জলের বলোকে

বজ্র আলোকে

সুমেরু কুমেরুর আস্ফালনের আকাশে

ভাসমান বিদ্যুৎ বদল,

সমুদ্রে

মাছেরা মাছেদের পিছে ছোটে সুপারফোটনিক।

রঙজলে-জলরঙে একাকার জমিনে ফলে কিষাণীর ভূঁইচাঁপা।

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0201 seconds.