• বিদেশ ডেস্ক
  • ০৪ অক্টোবর ২০১৯ ১২:৪৫:৫৩
  • ০৪ অক্টোবর ২০১৯ ১২:৪৫:৫৩
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

গান্ধীর দেহভস্ম চুরি, পোস্টারে ‘বিশ্বাসঘাতক’!

গান্ধীর ভাস্কর্য। (ফাইল ছবি)

ভারতের জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর ১৫০ তম জন্ম বার্ষিকীতে দেশটির মধ্যপ্রদেশের সংরক্ষণাগার থেকে তার দেহভস্ম চুরি হয়ে গেছে। গতকাল ৩ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার পুলিশের বরাত দিয়ে এ সংবাদ জানিয়েছে বিবিসি।

হিন্দু উগ্রবাদী নথুরাম গডসের গুলিতে ১৯৪৮ সালে নিহত হন গান্ধী। তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া হওয়ার পর দেহভস্ম মধ্যপ্রদেশের রেওয়া জেলায় ‘বাপু ভবন’-এ সংরক্ষণ করা হয়। চোরেরা শুধু দেহভস্ম চুরি করেই ক্ষান্ত হয়নি, যাওয়ার সময় গান্ধীর ছবির পোস্টারেও সবুজ রঙে লিখে গেছে ‘বিশ্বাসঘাতক’ শব্দটিও! হিন্দু ধর্মাবলম্বী হয়েও হিন্দু-মুসলিমদের মধ্যে ঐক্য প্রক্রিয়া চালানোর কারণে উগ্র হিন্দুদের কাছে তিনি অনেক আগে থেকেই ‘বিশ্বাসঘাতক’।

এই চুরির ঘটনা অবশ্যই জাতীয় ঐক্য চায় না এরকম কোন গ্রুপই ঘটিয়েছে বলে মধ্য প্রদেশের রেওয়া থানা পুলিশ বিবিসিকে নিশ্চিত করেছে। তাদের ভাষ্য, দুস্কৃতিকারীরা সামগ্রিক শান্তিও বিনষ্ট করতে চায়।

‘বাপু ভবন’ জাদুঘরের তত্ত্বাবধায়ক মঙ্গলদ্বীপ তিওয়ারি এই চুরির ঘটনাকে লজ্জাজনক বলে আখ্যা দিয়েছেন। 
তিনি বলেন, ‘আমি সকাল সকাল ভবনের দরজা খুলে দিয়েছিলাম। কারণ, সেদিন ছিল গান্ধীর জন্মদিন।  রাত ১১ টায় ফেরার পর দেখলাম গান্ধীর দেহভস্ম নেই এবং তার পোস্টারও বিকৃত করা হয়েছে।’

স্থানীয় কংগ্রেস নেতা গুরমিত সিং ও সংরক্ষণাগারের তত্ত্বাবধায়ক মঙ্গলদ্বীপ তিওয়ারির অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত করছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

গুরমিত সিং বলেন, ‘এই পাগলামি বন্ধ করতেই হবে। আমি রেওয়া পুলিশকে বাপু ভবনে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখার আহ্বান জানাচ্ছি।’

উল্লেখ্য, মোহনদাস করমচাঁদ ‘মহাত্মা’ গান্ধীর নেতৃত্বেই অহিংস আন্দোলনের মাধ্যমে ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে মুক্তি পায় ভারত। দেশটির দল-মত নির্বিশেষে বেশিরভাগ মানুষের কাছেই তিনি জাতির জনক হিসেবে স্বীকৃত। তবে কিছু উগ্রপন্থি হিন্দু তাকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ মনে করে। তারা দাবি করেন, গান্ধী নিজে হিন্দু হয়েও অতিরিক্ত মুসলিম ঘেঁষা কর্মসূচি দিয়েছিলেন।

বাংলা/এসএ

 

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0210 seconds.