• বাংলা ডেস্ক
  • ০৪ অক্টোবর ২০১৯ ১১:৫৯:২৫
  • ০৪ অক্টোবর ২০১৯ ১১:৫৯:২৫
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

আমাকে আ.লীগের উপদেষ্টা করা হয়েছে : জয়নাল হাজারী

জয়নাল হাজারী। ছবি : সংগৃহীত

আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও বহুল আলোচিত-সমালোচিত জয়নাল হাজারীকে দলটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য করা হয়েছে বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে। বুধবার এমন খবর আসার পর বৃহস্পতিবার বিষয়টি জানেন না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

ওবায়দুল কাদের জানান, এই সম্পর্কে তিনি জানেন না। দলের দপ্তর থেকেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জয়নাল হাজারীর সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানানো হয়নি।

এদিকে, গণমাধ্যমে যে খবর এসেছে তারও কোনো প্রতিবাদ বা আপত্তি জানায়নি আওয়ামী লীগ। এর ফলে বিষয়টি নিয়ে মানুষের কাছে এক ধরনের কৌতূহলের সৃষ্টি হয়। ছড়াচ্ছে বিভ্রান্তিও।

তবে পুরো বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান পরিস্কার করতে ফেসবুক লাইভে আসেন সিঙ্গাপুরে চিকিৎসারত জয়নাল হাজারী। তিনি ফেসবুক লাইভে প্রায় ১৩ মিনিট ধরে কথা বলেন। তাকে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য করা হয়েছে বলেও ফেসবুক লাইভে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে দাবি করেন।

ফেসবুক লাইভের শুরুতেই জয়নাল হাজারী বলেন, ‘বন্ধুগণ, আমি শারীরিকভাবে খুবই দুর্বল। খুবই অসুস্থ অনুভব করছি। তবুও একান্তই না বলে পারছি না বলে সংক্ষিপ্ত একটা লাইভ ভার্সনে এসেছি। ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগ সভাপতি, জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে দলের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টামণ্ডলী সদস্য করা হয়েছে। এটা রেডিও, টেলিভিশন ও পত্রিকায় প্রকাশের পর ভাইরাল হয়েছে। কিন্ত এটা নিয়ে আবার বিভ্রান্তি সৃষ্টির পায়তারা হচ্ছে। সেকারণে কিছুটা হলে বিভ্রান্তি দূর করার জন্য আমার আজকের এই লাইভে আসা। ’

জয়নাল হাজারী বলেন, ‘যেদিন আমি নেত্রীর হাত থেকে চল্লিশ লাখ টাকা (চিকিৎসা বাবদ) গ্রহণ করেছিলাম, সেদিন নেত্রীকে বলেছিলাম, আপনি বলছেন আমাকে দল থেকে বহিস্কার করেন নাই, দলও করে নাই। তাহলে দলে আমার অবস্থান কোথায়? তখনই তিনি ইঙ্গিত দিয়ে বলেছিলেন, অবস্থান ঠিক হয়ে যাবে। আরো দুয়েকটা কথা, যা বলেছিলাম তা তিনি মেনে নিয়েছিলেন।’

সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের জবাবে হাজারী বলেন, ‘বিভ্রান্তির কারণ হচ্ছে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাহেব একটা সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সেখানে এক সংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছেন, জয়নাল হাজারিকে দলের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য করার বিষয়টি তিনি জানেন না। আমি ওবায়দুল কাদের সাহেবকে অন্তরের অন্তস্থল থেকে ধন্যবাদ জানাবো এ কারণে যে, রাজনীতি করতে হলে মিথ্যা কথা বলতে হয়। কিন্তু এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি কোনো মিথ্যা কথা বলেন নাই। তিনি বলেছেন, আমি কিছু জানি না। তিনি বলেছেন, আমার সঙ্গে আলোচনা হয় নাই। এটা একশত পার্সেন্ট সত্য যে, নেত্রী কারও সঙ্গে আলোচনা করেন নাই। ’

ফেনীর সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘কাউকে উপদেষ্টা কমিটিতে রাখা অথবা কাউকে উপদেষ্টা পদে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতা একান্তভাবে নেত্রীর নিজস্ব এখতিয়ার। এটা গতবার সম্মেলনে নেত্রীকে এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে। এটা ভোটের মাধ্যমে বা সম্মেলনের মাধ্যমে করার বিষয় নয়। এর আগেও যাদের উপদেষ্টা বানিয়েছেন তাদের কাউকেই কারও সঙ্গে আলোচনা করে বানান নাই। সবাইকেই শুধু একটি চিঠি দিয়ে কনফার্ম করেছেন। এরপর দপ্তর থেকে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমে পাঠানো হয়।’

জয়নাল হাজারী বলেন, ‘আজ তিন চারদিন ধরে আমি আছি সিঙ্গাপুরে। এর আগে তিনদিন ছিলাম মালয়েশিয়ার কলম্বো হাসপাতালে। সেখানে অগ্রগতি না হওয়ায় আমি এখন সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নিচ্ছি। প্রতিদিনই হাসপাতালে যেতে হচ্ছে, আসতে হচ্ছে এবং ৭ তারিখে আমার ফাইনাল পরীক্ষা-নিরীক্ষা হবে।’

এরপর আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন,  ‘যে কথা বলছিলাম, ধন্যবাদ জানাচ্ছিলাম আমাদের সাধারণ সম্পাদককে। ঠিকই তো আছে এটা ওবায়দুল কাদের সাহেবের সঙ্গে আলাপ করার কোনো দরকার নাই। উনার জানারও কোনো দরকার নাই। আমাকে যে নেত্রী চল্লিশ লাখ টাকা দিয়েছেন এটাও তো ওবায়দুল কাদের সাহেব জানতেন না। আমিই এগিয়ে উনাকে জানিয়ে আসছি। আমি নিজেও জানি না। আমাকে যখন প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্টজন আমাকে ফোন করে জানালেন যে, আমাকে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য করা হয়েছে, নেত্রী চিঠিতে স্বাক্ষরও করেছেন। এটা জানার পরও আমি কাউকে কিছু বলছিলাম না। যখন টিভিতে দেখলাম নিউজ এসে গেছে। তখন দেশের বাইরে থেকে কি আমি তাদের বলতে পারি যে আপনারা নিউজ বন্ধ করুন!’

ক্ষোভ প্রকাশ করে জয়নাল হাজারী বলেন, ‘যারা দীর্ঘ বিশ বছর ধরে যারা বলেছে আমাকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে সেই তারাই আজ বলছে আমাকে উপদেষ্টা করা হয় নাই। এখানো লোকগুলোকে দেখবেন, সেই অপশক্তিটাকে দেখবেন। এরা কারা? এরা ওরা, যারা আমার সম্পর্কে বিশ বছর ধরে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। নেত্রী বেশ কজন মন্ত্রী-এমপির সামনেই আমাকে বলেছেন যে, আমাকে বহিস্কার করেন নাই অথচ আজও ওরা বলছে আমার বহিস্কার আদেশ প্রত্যাহার করা হয়নি।’

ফেসবুক লাইভে এই নেতা আরো বলেন, ‘এইবার আমি বলি, আমার এই নিয়োগের পর সম্ভবত সবার আগে আলাউদ্দিন নাছিম আমাকে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ধন্যবাদ জানিয়েছে। তাহলে কি আলাউদ্দিন নাছিম কোনো খবর না নিয়েই স্ট্যাটাস দিয়েছে? মিডিয়া নিশ্চিত না হয়ে যে এতবার এই খবর প্রচার করতে পারে না, এটা জেনেই নাছিম এই স্ট্যাটাস দিয়েছে। আলা উদ্দিন নাছিমও বলেছে, এটা একান্তই নেত্রীর এখতিয়ার। ওবায়দুল কাদেরের মতো আলাউদ্দিন নাছিমকেও ধন্যবাদ জানাবো এই সত্য কথাটি বলার জন্য। এটা দিয়ে আলাউদ্দিন নাছিম এটাই বুঝাতে চেয়েছেন এটা ওবায়দুল কাদেরের এখতিয়ার নয়, নেত্রীর এখতিয়ার। তাহলে নেত্রীর এখতিয়ারে যা কিছু হয় তার সবকিছু ওবায়দুল কাদেরের জানতে হবে সেটা নয়।’

দৃঢ়তার সঙ্গে জয়নাল হাজারী বলেন, ‘আমি পরিস্কার করে বলছি, আমাকে অবশ্যই উপদেষ্টা কমিটির সদস্য করা হয়েছে। যে কমিটিতে আমির হোসেন আমু ভাই ও তোফায়েল আহমেদ ভাই আছেন, সেখানে আমাকে স্থান দিয়ে শেখ হাসিনা আমার প্রতি যে আন্তরিকতা দেখিয়েছেন-এটা ইতিহাসে নজিরবিহীন। এত বিরোধীতা, এত চক্রান্ত, মিডিয়ার এত আক্রমণের পরও তিনি আমার ওপর আস্থা রাখেন, এটা ইতিহাসে নজিরবিহীন। পৃথিবীর কোথাও কোনো কর্মীর প্রতি এতটা দরদ দেখিয়েছেন বলে এটা আমি মনে করি না। আমি শুধু বলি, মিথ্যায় বিভ্রান্ত হবে না। কারণ আছে কেনো ওরা এটাকে বিভ্রান্ত করতে চাইছে। আজকে তারা মনে করছে আমি ফেনীতে যাবো আর ফেনীতে গেলে ওদের অস্থিত্ব বিলীন হবে। মূলত তাদের এই ধারণা কতটুকু সত্য তা আমি জানি না। আমি নেত্রীর অনুমতি ছাড়া আমি ফেনীতে যাবো না। যদি তিন বলেন তবেই আমি যাবো। যদি আমার কোনো প্রয়োজন থাকে তবে তো যাবোই। ’

জয়নাল হাজারী বলেন, ‘দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করছি, আমাকে দলের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য করে রাত ৯টা থেকে ১০ টার মধ্যে আওয়ামী লীগ অফিসে চিঠি পাঠিয়ে দিয়েছে। অবশ্যই আমি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা। ইতোমধ্যে আমি কত লাইভ দিলাম, কত বিবৃতি দিলাম কিন্তু কখনো আমার বিরুদ্ধে কোনো মিথ্যাচার কেউ প্রমাণ করতে পারে নাই। আমি ফেনীবাসীসহ সারা দেশবাসীকে বলব, আমি মিথ্যা বলি না। এটাও মিথ্যা বলছি না।’

জয়নাল হাজারীর ভাষ্য, ‘নেত্রী যখন স্বাক্ষর করেন তখন বাহাউদ্দিন নাছিমসহ তিনজন সাংগঠনিক সম্পাদক উপস্থিত ছিলেন। এই খবর ধানমন্ডি অফিসে যাওয়ার পর উৎসবমুখর ছিল। এই খবর পাওয়ার পর অনেকেই বলছিল জেলজুলুম খাটা, মুক্তিযুদ্ধে অবদান, বিশ বছর তার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র থাকার পরও নেত্রী জয়নাল হাজারীর সঠিক বিচার করছেন। আমি কি কার্যক্রম করবো আমি জানি না। তবে আপনারা দোয়া করলে,আল্লাহ চাইলে অনেক কিছুই তো হতে পারে। উপদেষ্টা পরিষদে নিয়ে আসাও তো আল্লাহর নিয়ামত। ক্যাসিনোর লোকরা একজন বিশাল বিশাল ক্ষমতাবান কিন্তু অভিযানের পরদিন কী দেখা গেল? সুতরাং কে কখন কোন অবস্থায় যায় তার ঠিক নাই। ’

জয়নাল হাজারী আরো বলেন, ‘আলাউদ্দিন নাছিমকে বলবো তুমি খোঁজ নাও। তুমি প্রটোকল অফিসার ছিলা। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে কিভাবে কোন খবর যায়, সেটা তুমি যতটুকু জানো ওবায়দুল কাদেরের পক্ষে জানা সম্ভব না। এক সময় বিরাট প্রতাপশালী আলাউদ্দিন নাছিমের অবস্থায় আজকাল ভালো না। এর পেছনে কার অবদান, কে এটাকে খারাপ করেছে সেটা তুমি জানো, তোমাকে যারা সর্বনাশ করেছে নমিনেশন পেতে দেয় নাই, আমাকে যারা বিশ বছর কষ্ট দিয়েছে তারা একি পথের পথিক। আমাকে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টমন্ডলীর সদস্য করায় আমি পরিশেষেও আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ, শেখ হাসিনার কাছে কৃতজ্ঞ, দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই। জয় বাংলা।’

সংশ্লিষ্ট বিষয়

জয়নাল হাজারী আওয়ামী লীগ

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0208 seconds.