• বিদেশ ডেস্ক
  • ০৩ অক্টোবর ২০১৯ ২৩:০৯:৫৭
  • ০৩ অক্টোবর ২০১৯ ২৩:০৯:৫৭
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

সৌদি যুবরাজের নেতৃত্ব নিয়ে রাজ পরিবারে হতাশা

সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান। ছবি : সংগৃহীত

সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান প্রচন্ড ক্ষমতাধর একজন ব্যক্তি। সৌদি আরবে তার বিরুদ্ধে কথা বলার মত অবশিষ্ট কেউ আর নেই। ব্যাপক ক্ষমতার প্রয়োগ ঘটিয়ে সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে দিয়েছেন তিনি।

কিন্তু গত মাসে সৌদি তেল স্থাপনায় হামলার ঘটনার পর থেকেই ক্ষমতাসীন রাজ পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য এবং ব্যবসায়ীরা তার নেতৃত্ব নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন।

সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, জ্যেষ্ঠ বিদেশি কূটনীতিক এবং রাজপরিবার ও সম্ভ্রান্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৫ টি সূত্র থেকে জানা গেছে, এমবিএস নামে সুপরিচিত যুবরাজ মুহাম্মদের নেতৃত্ব ক্ষমতা নিয়ে সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে রাজ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে।

ক্ষমতাসীন আল সৌদ পরিবারের বেশ কয়েকটি শাখার সদস্যদের মধ্যে এমবিএসের নেতৃত্ব নিয়ে হতাশা কাজ করছে। প্রসঙ্গত, বর্তমানে আল সৌদ পরিবারের সদস্য সংখ্যা ১০ হাজার। সৌদি আরবের মত বিশ্বের বৃহত্তম তেল রপ্তানিকারক দেশকে সুযোগ্য নেতৃত্ব দিয়ে সামনে এগিয়ে নেয়ার ক্ষমতা এমবিএসের আছে কি না সে বিষয়টিই অনেকে চিন্তা করে দেখছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, সৌদি যুবরাজের একচ্ছত্র ক্ষমতা নিয়ে রাজপরিবারের যেসব সদস্য আগে থেকেই অসন্তুষ্ট ছিলেন তেল ক্ষেত্রে হামলার ফলে যুবরাজের বিরুদ্ধে তাদের অসন্তুষ্টি আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।

বেশ কয়েকটি সূত্র জানায়, রাজ পরিবার এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনেকেই মনে করেন, যুবরাজ ইরানের বিরুদ্ধে অত্যধিক কঠোরতা দেখাচ্ছেন। ফলে তেল স্থাপনায় হামলার ঘটনা তার বিরুদ্ধে সমালোচনায় ইন্ধন যোগাচ্ছে।

সৌদি রাজপরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ আছে এমন সম্ভ্রান্ত পরিবারের একজন সদস্য জানান, যুবরাজের নেতৃত্ব নিয়ে অনেকেই বিরক্ত। যুবরাজের অধীনে কাজ করা ব্যক্তিরা কীভাবে এত বড় একটি হামলার ব্যাপারে আগে থেকেই আঁচ করতে পারলো না এই বিষয়টি নিয়ে অনেকেই বিরক্তি প্রকাশ করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সম্ভ্রান্ত ওই ব্যক্তি জানান, অভিজাত ব্যক্তিদের অনেকেই বলছেন, যুবরাজের উপর তাদের কোন আস্থা নেই। অন্যান্য সূত্রগুলো এবং জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকদের কণ্ঠেও একই সুর পাওয়া গেছে।
তবে এমবিএসের পক্ষে সমর্থনেরও অভাব নেই।

যুবরাজের প্রতি অনুগত একটি সার্কেলের এক ব্যক্তি জানান, তেল স্থাপনায় হামলার ঘটনায় যুবরাজ খুব একটা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না। এবং এটি তার ভবিষ্যত বাদশাহ হওয়ার ক্ষেত্রেও কোন প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করবে না।  তিনি এই অঞ্চলে ইরানিদের প্রভাব কমানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন।   

ওই ব্যক্তি উল্লেখ করেন, এটি দেশপ্রেমের একটি ব্যাপার। সুতরাং তিনি বিপদে পড়তে যাচ্ছেন না। বিশেষ করে যতদিন তার পিতা অর্থাৎ বর্তমান বাদশাহ সালমান জীবিত আছেন ততদিন তার কোন বিপদ নেই।

এদিকে প্রবীণ আরেকজন কূটনীতিক জানান, সাধারণ সৌদিরা কিন্তু এখনো এমবিএসের নেতৃত্বে সামনে এগিয়ে যেতে ইচ্ছুক।

এই ব্যাপারে বিস্তারিত জানার জন্য রয়টার্স সৌদি সরকারের মিডিয়া কার্যালয়ে যোগাযোগ করলেও তাদের পক্ষ থেকে কোন প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

বাংলা/এফকে

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0241 seconds.