• ০১ অক্টোবর ২০১৯ ১৭:২৬:০৪
  • ০১ অক্টোবর ২০১৯ ১৯:০৫:২৮
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

ভিসি উপাখ্যান ও পেঁয়াজ কান্ড

ফাইল ছবি


কাকন রেজা :


এক. 
‘ভিসি’দের সাম্প্রতিক উপাখ্যানে বড়ই বিব্রত শিক্ষার্থীকুল। এমনিতেই বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার অবস্থা নাজুক। সাথে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র‌্যাংকিং এর বিষয়টি সবারই জানা। তারমধ্যে ‘ভিসি’ স্যারদের কর্মকান্ড লজ্জায় ফেলেছে শিক্ষার্থীদের। একজন শিক্ষার্থী বলছিলেন, ‘অন্যদেশের কথা বাদ দিলাম, পাশের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে তুলনা করতে আমাদের লজ্জা হয়।’

কেন লজ্জা হয়, এমন প্রশ্নের জবাবে সেই শিক্ষার্থী জানালেন, ‘যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থাতো দেখেছেনই। শিক্ষকরা দলমত নির্বিশেষে নিজ ছাত্রদের রক্ষায় হাতে হাত রেখে দাঁড়িয়েছিলেন। যাতে বিজেপির ছাত্র সংগঠনের বহিরাগতরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকতে না পারে। পশ্চিমবঙ্গের অনেকের সাথেই আমাদের সামাজিকমাধ্যমে যোগাযোগ রয়েছে। আমাদের ভিসি স্যারদের কান্ডে তাদের সাথে এসব ব্যাপারে কথা বলতে লজ্জা হয়। তারা যদি প্রশ্ন করে বসে, এই ভয়ে থাকি।’

আমরাও অনুমান করতে পারি সেই শিক্ষার্থীর বোধের জায়গাটি। দুঃখের বিষয় আমাদের ‘ভিসি স্যার’রা তা অনুমান করতে পারেন না। এমন কী ব্যতিক্রম বাদে শিক্ষককুলও নন। একজন ভিসিকে শিক্ষার্থীদের দুয়ো ধ্বনির মধ্যে রাতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়তে হয়। আরেকজন নিজের দুর্নীতির পক্ষে নির্লজ্জ সাফাই গাইতে অস্থির।

তারমধ্যে আরেকজন বক্তব্য শেষে বলে বসলেন, ‘জয় হিন্দ’। একজন ‘ভিসি’র এমন উচ্চারণকে নিশ্চয়ই মূর্খতা বলা যাবে না। কি বলা যায়, ধৃষ্টতা? একটি স্বাধীন দেশে দাঁড়িয়ে এমন ধৃষ্টতা দেখাবেন একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, এমনটা হজম করা বড় মুশকিল। তারপরেও হজম হয়ে যায়, আমাদের দেশে নানা ধরণের হজমি বড়ি রয়েছে। এসবে অনেক কিছুই হজম হয়। আবার এরচেয়ে সামান্য কিছুতেও অসামান্য কান্ড ঘটে। যাকে রীতিমত বদহজমের চূড়ান্ত বলা যায়। বড়ই বিচিত্র আমাদের হজম প্রক্রিয়া।

সবচেয়ে বড় ব্যাপার ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বশীলদের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে, ভিসির ‘জয় হিন্দ’ বলায় দোষের কিছু নেই, ঠিক আছে। সেই সুকুমার বড়ুয়ার ছড়ার মতন, ‘রেশনের পচা চাল/ টলটলে বাসি ডাল/ থালাটাও ভাঙা-চোরা/ বাটিটাও লিক আছে/ খেতে বসে জানালেন/ ঠিক আছে ঠিক আছে।’ সবই ‘ঠিক আছে’। তবে এই ঠিক কি কারো জিন্দাবাদ বলার পথ খুলে দিল কিনা- কে জানে। 

এ প্রসঙ্গে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ গণমাধ্যমের সাথে এক সাক্ষাতকারে বলেছেন, ‘এখন কেউ যদি বলে “পাকিস্তান জিন্দাবাদ”, তাহলে এটা অবজেকশন হলো না? আমাদের দেশে “জিন্দাবাদ” বলি বা “জয় হিন্দ” বলি, এটা তো ঠিক না।’

দুই.
পেঁয়াজ নিয়ে বড় কথা চালাচালি হচ্ছে। ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে বাংলাদেশে পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে একদিনেই অন্তত ত্রিশ টাকা। এ নিয়ে গণমাধ্যমেও কথা হচ্ছে, আর সামাজিকমাধ্যম জুড়ে তো রীতিমত আহাজারি। আরে ভাই আহাজারি কেন, ভারতে বন্যায় পেঁয়াজ নষ্ট হয়েছে, তারা তাদের চাহিদা মেটাতে পারছে না বলেই রপ্তানি বন্ধ করেছে। আমরা পাঁচ’শ টন ইলিশ দিলেই তারা আমাদের প্রতি দিল-দরিয়া হবে এমনটা ভাবা কি ঠিক! আমরা পেটে পাথর বেঁধে চলতে পারি, ওরা পারে না। আমরা যদি নিজের স্ত্রীর খোঁজ না রেখে পরস্ত্রীর বেদনায় কাতর হই, ওদেরও কি তাই করতে হবে! আরে ভাই, নিজের ভালো পাগলেও বোঝে।

আচ্ছা, পেঁয়াজ নির্ভরতা কেন ভারতের উপর। পেঁয়াজ কি অন্য কোথা থেকে আনা যায় না? যায় তো। এক বন্ধুজন বললেন, তুরস্কের পেঁয়াজ নাকি সেরা এবং দামেও কম। সে তুলনায় ভারতের পেঁয়াজ নিকৃষ্টমানের। তবে কেন ভারত থেকেই পেঁয়াজ আমদানি করতে হবে। আর ভারতকেই বা কি কারণে ইলিশ উপহার দিতে হবে। যেখানে আমাদের দেশের মানুষই ইলিশ খেতে পায় না। ‘ক্যাসিনো’র মালিক টাইপ লোকদের মুখে ইলিশ জোটে। আর জোটে নব-বর্ষের ‘উচ্চ বর্ণের’ কথিত ‘বাঙালি’দের। আমপাবলিকতো দেখেই চোখ জুড়ায়।

আমাদের চাল আনতে হবে ভারত থেকে, পেঁয়াজ আনতে ভারত থেকে, আদা-আলু-পটল যাই আনতে যাই, সবই ভারত থেকে, কেন? আজ পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ হয়েছে, এক সময় চাল রপ্তানিও বন্ধ করে দিয়েছিল। তাদের নিজ প্রয়োজনেই হয়তো এমনটা করেছিল। আগেই বলেছি, নিজের ভালো পাগলেও বোঝে। শুধু বোঝে না ধান্ধাবাজরা। আমাদের বিকল্প জায়গাগুলো বের করা উচিত। ভিয়েতনাম থেকে চাল আমদানি করা যায়।

তুরস্ক থেকে পেঁয়াজ, অন্য জায়গা থেকে মশলা। এমন করে আমাদের স্বার্থেই বিকল্প রাখতে হবে। যাতে একটি ঘোষণা বা খবরের বিপরীতে কোন কিছুর দাম একদিনেই প্রায় দ্বিগুন না হয়ে যায়। হঠাৎ করেই মানুষের মাথায় যেন পাহাড় না ভেঙে পড়ে।

শেষ খবরে জানলাম বিকল্প দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে। বড় আশার কথা, আমরা বিকল্পের চিন্তা করছি, আমরা বর্তে উঠার রাস্তা খুঁজছি।

লেখক : সাংবাদিক ও কলাম লেখক।

সংশ্লিষ্ট বিষয়

ভিসি পেঁয়াজ

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0244 seconds.