• বিদেশ ডেস্ক
  • ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ২২:৫৫:২০
  • ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ২২:৫৫:২০
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

নারীবাদ তাড়াতে পিশাচিনী মুক্তি পূজা!

ছবি : সংগৃহীত

ফারহানা করিম :

যুগের পর যুগ ধরে নারীরা বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং তথাকথিত পুরুষ সমাজে তাদের প্রতি কোন সম্মান নেই বললেই চলে। নারীদের প্রতি এধরনের বঞ্চনা এবং অবিচারের বিরুদ্ধে নারীদের পাশাপাশি অনেক পুরুষও লড়াই করেছেন। এমনকি এই আধুনিক সভ্য সমাজেও নারীদের নিজেদের অধিকার আদায়ের লড়াই চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

নারীবাদ তথা ফেমিনিজম হচ্ছে এমন একটি আদর্শ যা সব ক্ষেত্রে পুরুষের মত নারীদের সমতা এবং স্বাধীনতায় বিশ্বাসী।  বিশ্বজুড়ে নারীবাদীরা নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করে থাকে। 

বর্তমানে নারীদের অবস্থান আগের তুলনায় কিছুটা উন্নত হলেও কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষের মজুরির ব্যবধান এবং পুরুষ কর্তৃক যৌন হয়রানির বিষয়টি এখনো বড় একটি সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে।  এমনকি #মিটু আন্দোলনের পরেও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানির ঘটনা কমেছে বলে এমন কোন পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।  

এতকিছুর পরেও এই পৃথিবীতে এখনও এমন অনেক মানুষ আছে যারা নারীদেরই সব সমস্যার জন্য দায়ী করে থাকে।  নারীবাদ শব্দটির প্রতি তাদের প্রচন্ড ঘৃণা রয়েছে।

এক্ষেত্রে ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রাজ্য কর্ণাটকের কথাই বলা যেতে পারে। এই রাজ্যে পুরুষের অধিকারবিষয়ক একটি সংস্থার নারীবাদের প্রতি এতই ঘৃণা যে তারা নারীবাদের অবসান ঘটাতে পূজার আয়োজন করেছে।

‘সেভ ইন্ডিয়ান ফ্যামিলি’ নামের ওই সংস্থা নারীবাদকে পিশাচিনী হিসেবে আখ্যা দিয়ে ২২ সেপ্টেম্বর ভারতজুড়ে ‘পিশাচিনীমুক্তি পূজা’ করেছে। ৪০ টির বেশি এনজিও মিলে সেভ ইন্ডিয়ান ফ্যামিলি গঠন করেছে। লিঙ্গ সমতা এবং পারিবারিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করা ওই এনজিওগুলো ভারতীয় পরিবার রক্ষার নামে নারীবাদ বিনাশে উঠেপড়ে লেগেছে।

পিশাচিনীমুক্তি পূজার ঘোষণা দিয়ে করা প্রচারপত্রটি টুইটারে শেয়ার করা হয়েছে। সেভ দ্য ইন্ডিয়ান ফ্যামিলির নিউজলেটারে এই পূজার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে কোন কোন স্থানে এবং কখন এটা করতে হবে তা জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

সংস্থাটির বিবৃতি থেকে জানা যায়, মূল পূজা কর্ণাটক রাজ্যে হলেও একই দিনে ভারতের আরো ৫০টি স্থানে এই পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

এই সংস্থার মুখপাত্র বলেন, এটি একটি প্রতীকী পূজা। এই পূজার মাধ্যমে নারীবাদ নামক ক্যান্সারের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। #মিটু আন্দোলন আমাদের কাছে রাক্ষসের মত এবং এটিকে নির্মূল করা দরকার।  
তিনি জানান, নারীবাদের কারণে ভারতজুড়ে পরিবারের মধ্যে ভাঙ্গন ধরেছে। এটি পরিবারের ঐক্যকে ধ্বংস করছে।

এদিকে ‘স্পয়েল্ট মডার্ন ইন্ডিয়ান উইমেন’ নামে একটি ফেসবুক গ্রুপ তাদের পেজে সেভ ইন্ডিয়ান ফ্যামিলির পিশাচিনী পূজা সংক্রান্ত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করে এবং সংস্থাটি নিয়ে নানারকম উপহাসও করেছে।

প্রসঙ্গত, ফেসবুকের এই গ্রুপটি ভারতীয় সমাজে নারীর প্রতি যে মনোভাব রয়েছে তা নিয়ে উপহাস করে বিভিন্ন মিম প্রকাশ করে থাকে।

উল্লেখ্য, অনেকেই হয়তো মনে করতে পারেন, সেভ ইন্ডিয়ান ফ্যামিলি কেবল এই বছরই পিশাচিনীমুক্তি পূজা শুরু করেছে। আসল ঘটনা হচ্ছে গত বছরের আগস্টেও নারীবাদের হাত থেকে মুক্তি পেতে তারা একই পূজা করেছে। ভারতের মাটি থেকে যতদিন না নারীবাদ নামক ক্যান্সার দূর হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত এই সংস্থাটি পিশাচিনীমুক্তি পূজা করে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে।

এদিকে ভারতের নারীবাদীরা এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা মন্তব্য করেন। তারা জানান, যতই পূজা করা হোক না কেন নারীবাদের মৃত্যু নেই। বিশ্বজুড়ে নারীরা তাদের অধিকার আদায়ে আজীবন লড়াই করে যাবে।

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0185 seconds.