• বিদেশ ডেস্ক
  • ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ২২:৫৫:৪৩
  • ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ২২:৫৫:৪৩
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

১৩ হাজার কাশ্মীরি কিশোরকে জেলে আটকে রাখা হয়েছে

ছবি : সংগৃহীত

আগস্টের শুরুতে মোদির সরকার ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা বিলুপ্ত করে কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন ক্ষমতা কেড়ে নেয়ার পর থেকে সাবেক রাজ্যটির প্রায় ১৩ হাজার কিশোরকে কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।  সম্প্রতি প্রকাশিত নতুন একটি প্রতিবেদনের আলোকে ব্রিটিশ প্রভাবশালী পত্রিকা টেলিগ্রাফ এই খবর প্রকাশ করেছে।

কাশ্মীরে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসতে থাকায় মানবাধিকার কর্মী এবং অ্যাকটিভিস্টরা সাবেক এই রাজ্যের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করার জন্য সেখানে সফর করেন।  সেসময় তারা জানতে পারেন, কেবলমাত্র সন্দেহের বশে ১৩ হাজার কিশোরকে কারাগারে রাখা হয়েছে।

ন্যাশনাল ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান উইমেন এর নেতৃত্বে এই প্রতিবেদনটি করা হয়।  এতে দাবি করা হয়, ৪৫ দিনের বেশি সময় ধরে ১৪ বছর বয়সি কিশোরদের আটক করে কারাগারে রাখা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব শিশু-কিশোরদের মুক্তির জন্য সর্বোচ্চ ৬০ হাজার রুপি(ভারতীয় মুদ্রা) দিতে হচ্ছে পরিবারকে।

৫ আগস্ট কাশ্মীরের মর্যাদা কেড়ে নেয়ার দিন থেকে মুসলিম অধ্যুষিত এই রাজ্যে কারফিউ জারি করা হয় এবং ভারতের অন্যান্য অঞ্চল থেকে এই এলাকাটিকে একদম বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়।

এদিকে জম্মু এবং কাশ্মীরের গভর্নর এই প্রতিবেদনের যে পরিসংখ্যানের কথা বলা হয়েছে তা অস্বীকার করেন।

সোমবার ভারতীয় সেনাবাহিনী প্রধান জানান, ভারতের সংহতি নষ্ট করে এরকম যেকোন কাহিনী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আখ্যান।

ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রধান মুখপাত্র কৃষ্ণসাগর রাও টেলিগ্রাফকে জানান, কাশ্মীরের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য সেখানকার রাজনীতিকদের গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘কাশ্মীর উপত্যকার রাজনীতিকরা জনগণকে উস্কে দিয়ে অশান্তি সৃষ্টি করার ষড়যন্ত্র করেছিলেন।’

সরকারী তথ্য অনুযায়ী, সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি, ওমর আব্দুল্লাহসহ ২০০ জনের বেশি স্থানীয় রাজনীতিকদের আটক করে রাখা হয়েছে।

অবশ্য কারাবন্দী শিশুদের সম্পর্কে সরকারী কোন তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। শিশুদের কেন আটক করা হয়েছে বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়। যদিও ধারণা করা হচ্ছে, সেনাবাহিনীর লোকদের লক্ষ্য করে পাথর ছুঁড়ে মারার কারণেই অনেককে আটক করে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে।

কাশ্মীরের পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখার জন্য ১৭ এবং ২১ সেপ্টেম্বর মানবাধিকার কর্মী এবং অ্যাকটিভিস্টরা উপত্যকায় যান। তারা জম্মু-কাশ্মীরের পুলিশ, ডাক্তার এবং অধ্যাপকদের সাক্ষাৎকার নেন।

তাদের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, নিরীহ এসব শিশুকে গ্রেপ্তারের সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করেছিল। এছাড়া কারাগারে থাকার সময় তাদের অনেকেই অত্যাচারের শিকার হয়েছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক এবং ভারতীয় অনেক গণমাধ্যমেই কাশ্মীরিদের উপর নির্যাতনের খবর প্রকাশিত হয়েছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের নির্মম প্রহার করা ছাড়াও ইলেক্ট্রিক শক দিয়েছে বলেও জানা গেছে।

শনিবার ১৫ বছর বয়সি এক কিশোর কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগরে আত্মহত্যা করেছে। সেনাবাহিনী দ্বারা লাঞ্ছিত হওয়ার পর সে আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ন্যাশনাল ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান উইমেনের সাধারণ সম্পাদক অ্যানি রাজা এগুলোকে ‘গণহত্যার ভারতীয় রূপ’ বলে বর্ণনা করেন। ৫ আগস্ট থেকে কাশ্মীরের যেসব শিশুকে আটক করা হয়েছে তাদের অবিলম্বে মুক্তি দেয়ার জন্য ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তার সংগঠন।

বাংলা/এফকে

সংশ্লিষ্ট বিষয়

ভারত

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0218 seconds.