• ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ২২:৫১:৩০
  • ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ২২:৫১:৩০
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

বৃষ্টিতেও থামেনি আন্দোলন

ছবি : বাংলা

বশেমুরবিপ্রবি প্রতিনিধি :  

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে চতুর্থ দিনের মতো বৃষ্টি উপেক্ষা করে আমরণ অনশন এবং অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। 

রবিবার দুপুরে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি শুরু হলেও বিকাল নাগাদ বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ে। তবে বৃষ্টির কারণে আন্দোলনে ভাটা পড়তে দেখা যায়নি একটুও।

আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী জানান, ‘হামলা-বৃষ্টি আমাদের রুখতে পারবে না। প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট ঘোষণা ছাড়া আমরা মাঠ ছাড়বো না। বঙ্গবন্ধুর জন্মভূমিতে কোনো স্বাধীনতা বিরোধীকে আমরা ভিসি হিসেবে মেনে নিবো না।’ 

এদিকে আবারও হামলার আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসের বাইরে বিভিন্ন স্থানে শনিবার বহিরাগতদের হামলায় ২০ শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনার তারা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন বলে জানান।

শিক্ষার্থীদের ওপর ওই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে সহকারী প্রক্টর মো. হুমায়ূন কবীর পদত্যাগ করেন। শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস ত্যাগ না করায় বিভিন্ন স্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

রেজিস্ট্রার মো. নূরউদ্দিন আহমেদের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের সবশেষ পরিস্থিতি নিয়ে কথা হলে তিনি জানান, ‘শিক্ষার্থীরা আগের মতোই আন্দোলন করে যাচ্ছে। তাদের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চালানো হলেও তারা আমাদের সঙ্গে কোনো কথা বলতে রাজি হয়নি। কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থী হল ত্যাগ করেছে বলে জেনেছি। কিন্তু বেশীর ভাগই রয়ে গেছে।’ 

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর মো. বশির উদ্দিন শিক্ষার্থীদের ওপর বহিরাগতদের হামলার ঘটনাকে ন্যাক্কারজনক উল্লেখ করে বলেন, ‘এ বিষয়ে ইইই বিভাগের ডিন অধ্যাপক ড. আব্দুর রহিমকে প্রধান, আইন বিভাগের ডিন আ. কুদ্দুছ মিয়াকে সদস্য সচিব ও ড. সামছুল আরেফিনকে সদস্য করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা আগামী পাঁচদিনের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন দাখিল করবেন।’

তবে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর বহিরাগতদের হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেন উপাচার্য খোন্দকার নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর কে বা কারা হামলা করেছে, তা আমার জানা নেই। রবিবার এক বিবৃতিতে হামলার নিন্দাও জানান ভিসি।

এদিকে শিক্ষার্থীরা হলে খাবার বন্ধের কথা অভিযোগ করেছেন। পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলেও পরে আবার তা চালু করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ১১ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও দ্যা ডেইলি সানের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ফাতেমা-তুজ-জিনিয়াকে বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর প্রতিবাদে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকরা আন্দোলন শুরু করেন। আন্দোলনের মুখে বুধবার ১৮ সেপ্টেম্বর জিনিয়ার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ভিসি পতনের আন্দোলন শুরু করে এবং শনিবার দুপুরে আন্দোলনে যোগ দিতে আসা শিক্ষার্থীদের ওপর পাঁচ স্থানে হামলার ঘটনা ঘটে।

বাংলা/এএএ

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0223 seconds.