• জাবি প্রতিনিধি
  • ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ২৩:১৫:৪৫
  • ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ১০:২৬:৪৭
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

সাদ্দামের দাবি, ভিসি ঈদ সালামি দিয়েছেন ১ কোটি

ছবি : সংগৃহীত

সদ্য অব্যাহতি নেওয়া ছাত্রলীগ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী ও জাবি ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের মধ্যে ফাঁস হওয়া ফোনালাপে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ১ কোটি টাকা লেনদেনের যে তথ্য উঠে এসেছে সেটা ঈদ সালামি ছিলো বলে দাবি করেছেন সাদ্দাম হোসাইন। 

সোমবার ওই ফোনালাপ নিয়ে জানতে চাইলে তিনি এই মন্তব্য করেন। এদিকে উপাচার্য ফারজানা ইসলাম বারবার দাবি করে এসেছেন ওই ধরনের কোনো লেনদেন হয়নি।

জানা যায়, সোমবার দুপুরে হঠাৎ করে দেড় শতাধিক ছাত্রলীগকর্মী সহ ঘণ্টাখানেক শোডাউন দেন সাদ্দাম হোসাইন। এই ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আসলে এটা শোডাউন না। সামনে ভর্তি পরীক্ষা তো তাই ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করলাম। সবকিছু ঠিকঠাক আছে কিনা। সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে কিনা।’

এসময় তিনি বলেন, ‘ভিসির বাসায় মিটিংয়ে আমাদের সাথে কথাবার্তা হয় আমাদের ঈদ সালামি বাবদ টাকা দিবে। সেখানে আমাদের ১ কোটি টাকা ঈদ সালামি হিসেবে দেওয়ার কথা হয়। পরদিন তারা জুয়েল (শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি) চঞ্চলের (শাখা ছাত্রলীগ সম্পাদক) কাছে টাকাটা পৌঁছে দিছে। আমরা (সাদ্দাম গ্রুপ) চঞ্চলের কাছ থেকে আমদের ভাগের টাকা নিছি। ভিসি ম্যাম কোথা থেকে এই টাকাটা দিছে আমরা জানি না। আমরা টাকাটা নিয়ে আমরা সালামি বাবদ পুলাপাইনকে (ছাত্রলীগ নেতাকর্মী) টাকাটা দিছি। 

প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে তিনি বলেন, ‘টেন্ডার শিডিউল ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠতেছিল ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে তখন আমরা (সাদ্দামের গ্রুপ) মাঠে নেমে সবার টেন্ডার ড্রপ করা নিশ্চিত করি। আমরা কোন দুর্নীতির সাথে জড়িত না। যদি টাকা পয়সা বা দুর্নীতির ব্যাপারে জানতে চান তবে শিডিউল বিক্রি থেকে ওপেন হওয়া পর্যন্ত ভিসির ছেলের (প্রতীক হোসেন) ফোন রেকর্ড যদি বের করতে পারেন তাহলে মোটামুটি সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে। বিশেষ করে ৯ আগস্টের আমাদের সাথে মিটিংয়ের আগে ও পরে আমাদের সাথে ভিসির ম্যামের ছেলের যে কথা হয়ছে তা বের করতে পারলে তবে আর কোন সন্দেহ থাকবে না।’

শিডিউল ছিনতাইয়ের যে কথা বলছেন তার কি আপনারা তদন্ত বা বিচার চান কিনা এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই, অবশ্যই। আমরা যেকোন ধরনের দুর্নীতির বিপক্ষে। আমরা শিডিউল ছিনতাইয়ের যে ঘটনা ঘটেছে তার বিচার চাই।’

শোডাইনে শাখা সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম মোল্লা, সহ- সভাপতি নিয়ামুল হোসেন তাজ, সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক তারেক হাসান ছাড়াও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হল, মওলানা ভাসানী হল  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল ও সালাম বরকত হলের দেড় শতাধিক নেতাকর্মীদের দেখা যায়।

এই চার হল নিয়ন্ত্রণ করছে দাবি করে সাদ্দাম হোসাইন বলেন, ‘এছাড়াও মীর মশাররফ হোসেন হল ও আ ফ ম কামাল উদ্দীন হলের ছাত্রলীগ কর্মীরা আমাদের সাথে আছে। শাখা ছাত্রলীগের সম্পাদক ক্যাম্পাসে নেই। এখানে সাংগঠনিক নিয়ম মানা হয়না। যেসব প্রেস রিলিজ যাচ্ছে শাখা ছাত্রলীগের নাম করে তা সভাপতি একা দেয়, এটা একটা অংশের প্রেস রিলিজ। কখনো জাহাঙ্গীরনগর ছাত্রলীগের কিছু না। আমি আমার গ্রুপের রাজনীতি সবাইকে নিয়ে করব।’

অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বলেন, ‘ওরা ওরা ফোনালাপ করছে, বানিয়ে করছে। আমার জানামতে আমার ছেলেও ওদের সাথে আলাপ করেনি। এখানে শিক্ষকদের ইন্ধন থাকতে পারে। তবে কারা সেটা আমি বলব না।’

এদিকে ফাঁসকৃত ফোনালাপ জাবি ভিসি ও বিশ্ববিদ্যালয় বিরোধী ‘ষড়যন্ত্র’ দাবি করে বিবৃতি দিয়েছে ভিসিপন্থী শিক্ষক সংগঠন বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদ। অন্যদিকে এই ফোনালাপকে ‘মিথ্যাচার’ দাবি করে সকলকে মিথ্যা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে সমর্থন ও অবস্থান নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনংযোগ অফিস।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক দুর্নীতির স্বরুপ উন্মোচন ও এর বিচার দাবি করে বিবৃতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম।

 

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0444 seconds.