• বিদেশ ডেস্ক
  • ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ১২:০২:০০
  • ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ১২:০২:০০
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

গরীব মানুষেরা কেন রাজনীতিতে কান দেয় না

ছবি : সংগৃহীত

গরীব এবং নিপীড়িত মানুষেরা রাজনীতিতে কম মনোযোগ দেন। সম্প্রতি করা নতুন এক জরিপ থেকে এই তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। অবশ্য তারা নিরীহ এবং বেশিরভাগ সময় নীরব থাকেন বলেই রাজনীতির ব্যাপারে তাদের আগ্রহ কম তা নয় বরং তারা জানেন যে, বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থা তাদের জন্য কাজ করে না।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জরিপ সংস্থা মর্নিং কনসাল্ট এর করা জরিপে চলমান এই প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। ২০২০ সালে অনুষ্ঠেয় মার্কিন নির্বাচনকে সামনে রেখে এই জরিপ করা হয়।

আগামী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির হয়ে প্রেসিডেন্ট পদে পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।  কিন্তু ডেমোক্রেটিক পার্টির হয়ে কে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে লড়াই করবেন এটি এখনো নিশ্চিত নয়।  ফলে বর্তমানে ডেমোক্রেটিক পার্টির হয়ে যারা প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দিতা করতে ইচ্ছুক তাদের মধ্যে লড়াই চলছে। এদের মধ্য থেকেই চূড়ান্ত প্রেসিডেন্ট প্রার্থী নির্বাচিত হবে।

ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাইমারি নিয়ে করা মর্নিং কনসাল্টের জরিপ থেকে ভোটারদের এই প্রবণতা আরো নিশ্চিত হওয়া গেছে।  রাজনীতির প্রতি বেশি মনোযোগ আছে এরকম ভোটারদের এলিজাবেথ ওয়ারেনকে সমর্থন করার সম্ভাবনা বেশি। অপরদিকে যেসব ভোটারের রাজনীতির প্রতি মনোযোগ কম তাদের বামপন্থী বার্নি স্যান্ডার্সকে সমর্থন করার সম্ভাবনা বেশি।

এই জরিপে যে সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে তা প্রতিক্রিয়াশীল এবং উদারপন্থীদের যে চিন্তাধারা রয়েছে সেটিকে উস্কে দিচ্ছে।  এক্ষেত্রে উভয়পক্ষই মনে করে স্যান্ডার্সকে ভোট দেয়া অজ্ঞতা এবং বুদ্ধিহীনতার বহিঃপ্রকাশ।

আমেরিকার একজন ডানপন্থী চিন্তাবিদ যেমন মনে করেন, ভেনেজুয়েলায় সমাজতন্ত্রের বড় ধরনের ব্যর্থতার ফলে এখানে সমাজতন্ত্রী একজন প্রার্থীকে নির্বাচিত করার ধারণাটি সম্ভবত বোকারাই করতে পারে। নিশ্চিতভাবেই বলা যেতে পারে এটিই ঘটতে চলেছে।

রাজনীতির ব্যাপারে কোন শ্রেণির মানুষের কি রকম আগ্রহ এই ব্যাপারে সম্প্রতি আরো একটি জরিপ করা হয়েছে। ইউগভ/ইকোনোমিস্টের করা ওই জরিপ জনসংখ্যার ভিত্তিতে গ্রাফের মাধ্যমে দেখানো হয়।

এই গ্রাফ থেকে যা পাওয়া যাচ্ছে সে ব্যাপারে সম্ভাব্য একটি ব্যাখ্যা দেয়া যেতে পারে। সে হিসেবে দেখা যাচ্ছে, সমাজের সবচেয়ে সুবিধাভোগী জনগোষ্ঠী শ্বেতাঙ্গ, পুরুষ, বয়স্ক মানুষ এবং সর্বোপরি ধনীদের রাজনীতির ব্যাপারে অন্যদের তুলনায় অনেক ভালো ধারণা রয়েছে।

গরীব এবং নির্যাতিত, নিপীড়িত মানুষজন রাজনীতির বিষয় নিয়ে খুব বেশি সময় নষ্ট করেন না। মূলত রাজনীতি নিয়ে মাথা ঘামানোর মত যথেষ্ট অবসর সময় তাদের নেই। এছাড়া দরিদ্র মানুষের ইস্যু নিয়ে গণমাধ্যমেরও কোন মাথা ব্যাথা নেই। ফলে পার্টির প্রাইমারি প্রক্রিয়ায় গরীব মানুষ খুব একটা অংশগ্রহণ করেন না।

এর মানে এটা নয় যে, তাদের কাছে যে বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ সে ব্যাপারে তাদের জ্ঞান কম কিংবা তারা কম বুদ্ধিমান। এর মানে হল, তারা নিজেদের সময় এবং মনোযোগ দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করে থাকেন।

বাংলা/এফকে

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0185 seconds.