• ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ২০:৩৯:১৫
  • ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০১:০৬:২১
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

চাঁদার জন্য বান্ধবীকে দিয়ে ফোন করাতো রাব্বানী : জাবি উপাচার্য

ফারজানা ইসলাম। ছবি : সংগৃহীত

শাহদাত হোসাইন স্বাধীন, জাবি:

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি প্রকল্পের পরিপ্রেক্ষিতে চাঁদার জন্য ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদক গোলাম রাব্বানী তার বান্ধবীর মাধ্যমে ফোন দিয়ে বিরক্ত করতেন বলে দাবি করলেন উপাচার্য ফারাজানা ইসলাম। আজ ১৩ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার সন্ধ্যায় বাংলা’র সাথে একান্ত আলোচানায় এ দাবি করেন জাবি উপাচার্য।

এর আগে একটি জাতীয় দৈনিকের কাছে ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক গোলাম রাব্বানী দাবি করেন, উপাচার্য ফারজানা ইসলাম জাবি ছাত্রলীগকে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা চাঁদা দিয়েছেন।

পরে রাব্বানীর ওই বক্তব্য হতাশা থেকে তৈরি বলে মন্তব্য করেন উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম। তিনি দাবি করেন, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারন সম্পাদক গোলাম রাব্বানী তার কাছে চাঁদা দাবি করেছিলেন। 

এর পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী আবার অভিযোগ করেন, ঈদের আগে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগকে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা দিয়েছেন উপাচার্য। পরে উপাচার্য তার ছেলের মাধ্যমে ফোন করিয়ে বাস ভবনে ডাকিয়েছেন কথা বলার জন্য।

রাব্বানীর এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে উপাচার্য বাংলা’কে বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। আমার ছেলে তাকে ফোন করেনি। তাকে পছন্দও করে না। বরং সে তার বান্ধবী দিয়ে ফোন করিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্প পরিচালককে নানাভাবে বিরক্ত করেছে। তারা আমার বাসায় এসেছিল আমি তাদের দাবি মানিনি। তাই তারা ক্ষুব্ধ এবং হতাশা হয়ে এসব অভিযোগ করছে।’

তিনি বলেন, ‘তারা (শোভন-রাব্বানী) আমার বাসায় এসে কাজের কমিশন দাবি করেছে। বলে, আপনি কিছু বলছেন না কেন? আপনাদের ছাত্রলীগ (জাবি ছাত্রলীগ) বলে ২%, এখনকার দিনে ৪%-৬% নিচে কাজ হয় না। দেশে যে সমস্ত কাজ হচ্ছে ছাত্রলীগ শেয়ার পাচ্ছে। এই বিষয়ে আমাদের অনুমতি আছে। কিন্তু আমি তাদের কথা রাখিনি। আমি বলেছি এত টাকা চলে গেলে ভবন হবে কীভাবে। তাই তারা ক্ষুদ্ধ হয়েছে।’

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি-সম্পাদক নাকি হাসপাতালে গিয়ে আপনার কাছে টেন্ডার দাবি করেছিলো? এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বলেন, ‘হ্যাঁ। তারা হাসপাতালে গিয়ে আমার কাছে ২/৩ টা শিডিউল দাবি করেছিল। হাসপাতালে ২/৩শ লোক নিয়ে গিয়ে হাসপাতালে পরিবেশ বিনষ্ট করছিল। তখন আমি খুব অনিরাপদ বোধ করেছিলাম। এরপরই আমি এই ঘটনা এবং জাকসু নিয়ে কথা বলতে তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি তখন ব্যস্ত থাকায় বিস্তারিত কথা হয়নি।’

ছাত্রলীগ সভাপতি সম্পাদকের এমন আচরণে হতাশা প্রকাশ করে উপাচার্য বলেন, ‘এসব আমাদের দুর্ভাগ্য। যুব সমাজের দিকে তো দেশ থাকিয়ে থাকে। সেখানে যারা অভিভাবক তারা ভাল পথ না দেখালেও নিজেরা একটা ভাল পথ খুঁজে নিক।’

প্রসঙ্গত, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে দুর্নীতি ও অপরিকল্পনার অভিযোগ তুলে আন্দোলন নামেন শিক্ষক শিক্ষার্থীরা। ১ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকার এই উন্নয়ন প্রকল্পটিতে নানা ত্রুটি রয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে অন্যদিকে এই প্রকল্প ঘিরে অস্বচ্ছতা ও দুর্নীতির অভিযোগও ওঠে। প্রকল্পে আসা অর্থের ভাগ হিসেবে প্রায় দুই কোটি টাকা জাবি শাখা ছাত্রলীগকে দিয়েছেন উপাচার্য এমন অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশও হয়।

এইসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানার নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। ৩ দফা দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনের প্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার উপাচার্যের নেতৃত্বে আন্দোলনকারীদের সাথে বৈঠকে বসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বৈঠকে দুই দফা দাবি মেনে নেয়ার বিষয়ে সায় দেয় জাবি প্রশাসন। আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্তের দাবিটির বিষয়ে কিছু আইনি যাচাই-বাছাই শেষে বুধবার আবার বৈঠকের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0188 seconds.