• ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ১৮:০৩:১২
  • ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ১৮:০৩:১২
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

ছাত্রলীগ নেতার অডিও ফাঁস

৪০ লাখে নেতা, ৬ মাসে ডাবল

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর সঙ্গে রাকিব। ছবি : সংগৃহীত

ইবি প্রতিনিধি :

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিবের চাঞ্চল্যকর অডিও ফাঁস হয়েছে। মঙ্গলবার রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের একাধিক আইডি থেকে ৪ মিনিট ৫৯ সেকেন্ডের অডিওটি ফাঁস হয়। তবে বুধবার দুপুরের পর থেকে আইডিগুলো আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

ফাঁসকৃত অডিওতে জানা যায়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) মাহমুদুল হাসান নামে ছাত্রলীগের এক কর্মীকে নেতা বানিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করা হয়। এতে সাহায্য করার কথা বলেন সাধারণ সম্পাদক রাকিব। এসময় নিজের নেতা হওয়ার নেপথ্যে অনেক কাঠখড় পোহানোর বিষয় উল্লেখ করেন। কথা বলার এক পর্যায়ে রাকিব অজ্ঞাত ব্যক্তির কাছে ইবি ছাত্রলীগের আগের কমিটি ভাঙা, নতুন কমিটি গড়া ও প্রিন্ট ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার খরচ বাবদ বিশাল অংকের টাকা খরচ (অডিওতে ৪০ লাখ টাকার কথা উল্লেখ আছে) হয়েছে বলে স্বীকার করেন।

এছাড়াও অডিওতে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতা বানানোর ক্ষেত্রে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সাথে সম্পর্ক ভালো রাখার কথা বলেন। পাশাপাশি মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রেজওয়ানুল ইসলাম শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর মাধ্যমে নেতা বানিয়ে আনার কথা বলেন। 

অডিওতে রাকিব আরো বলেন, গোলাম রাব্বানীর সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক আছে। সে সূত্রে ছাত্রলীগের আঞ্চলিক নেতা বানানোর ক্ষেত্রে তাকে দেখভাল করার নির্দেশ দিয়েছেন।

অডিওতে রাকিব বলেন, ‘ঢাকা যায়ে খাটতে হয়। ঢাকা যেয়ে খাটতে বলতে কি, বহুত কাঠখড়ি আছে। তবে এখন আমার যে হিসাব নিকাশ, রাব্বানী ভাইয়ের সঙ্গে আমার যে সম্পর্ক, এ আঞ্চলিক, এ বিষয়টা আমি যদি ভাইরে বলি ভাই আমার কথা শুনবে। ভাই অলরেডি আমাকে বলেছেও আঞ্চলিক বিষয়গুলো দেখার জন্য।’

কথোপকথনের একপর্যায়ে মাহমুদুলকে নেতা বানাতে খরচ কেমন হতে পারে এমন আলোচনাও হয়। এ সময় রাকিব ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতা হতে চল্লিশ লাখের মত টাকা খরচ করেছে বলে অডিও থেকে উভয়ের কথোপকথোনে জানা যায়।

অজ্ঞাত ব্যক্তি : তোমার (রাকিব) ইয়ে সম্পর্কে তুমি যেভাবে বলছিলে আরকি, বিভিন্নভাবে কমিটি ভাঙ্গা, গড়া, প্রিন্ট ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার খরচ টরচ দিয়ে তোমারতো একটা বড় অঙ্কের টাকা খরচ হয়ে গেছে।

রাকিব: হুমম.. হিউজ.. হিউজ..

অজ্ঞাত ব্যাক্তি: সেই ফিগার তো আমি জানি, তা প্রায় মনে হয় চল্লিশের কাছে হবে।

রাকিব: হুমম।

রাকিব: না ভাই শোনেন কোনো ছেলেরে ইয়ে করতে গেলে... । এখন আমার যা খরচ হইছে এটা কোনো ব্যাপার না। ওইটা ছয় মাস গেলে সব ডাবল হয়ে যাবে, সমস্যা নাই। কিন্তু ওরে হচ্ছে ফোন দিতে কন আমি গিয়ে হচ্ছে দেখা করে আসবোনি।

অডিও থেকে আরো জানা যায়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের পূর্বের কমিটি ভাঙতেও কাজ করেন রাকিব। বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড স্থগিত করার জন্যই কমিটি ভাঙা হয়। এ সময় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের মাধ্যমে কমিটি ভাঙা হয় বলে স্বীকার করেন তিনি।

রাকিব : কমিটি যদি ভাঙে একজনের ওয়াইফের জন্য, বোর্ড করার জন্য। ম্যাথের বোর্ডটা স্থগিত করার জন্য। একজনকে করার জন্য আমরা কমিটি স্থগিত করি সিস্টেমে, সেটা আরেকটা লাইনে, এটা শোভনের লাইন। আমি তখন চিন্তা করলাম যে আমি একা নেতা হব?

বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগে শিক্ষক পদে আবেদন করেছিলেন ইবি ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলামের স্ত্রী। ওই বিভাগে চাকরি হয়নি তার। গণিত বিভাগের নিয়োগ বোর্ড নিয়ে একজন প্রার্থী হাইকোর্টে রিট করেছিলেন বলে জানা গেছে। অডিওতে টাকার বিনিময়ে হাইকোর্টের রায় কেনা বেচা হয় বলেও দাবি করেন রাকিব।

রাকিব : সাইফুলের ওয়াইফ সে ব্যপারটা কম বলেনি..অনেক টাকা লাগবে, ৩০ লাখ টাকা লাগবে। হাইকোর্টে রিট করতে হবে, রায় কিনে নিয়ে আসতে হবে। সে লাইনও আছে, টাকা লাগবে। হাইকোর্টে এমন এমন জায়াগায় এমন এমন লাইন আপনি যেভাবে রায় চাইবেন রায় সেভাবেই দেবে, টাকা লাগবে। এসব পথ আমি পাড়ি দিয়ে আইছি, তো রায় মায় সব কিনা যায়, সব রায় কিনা যায়।

এ বিষয়ে সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘অডিওটা আমার না। আমার ভয়েজের মত নকল করে অডিও বানানো হয়েছে। আমার রাজনৈতিক ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য এসব করা হচ্ছে।’

বাংলা/এএএ

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0195 seconds.