• নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ১৩:৪১:১৫
  • ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ১৩:৪১:১৫
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

থানায় বিয়ে : পাবনার সেই ওসি প্রত্যাহার, এসআই বরখাস্ত

ছবি : সংগৃহীত

পাবনায় গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূর মামলা না নিয়ে উল্টো থানায়ই এক আসামীর সঙ্গে বিয়ে দেয়ার ঘটনায় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবায়দুল হককে প্রত্যাহার করা হয়েছে। আর এ ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে একই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এনামুল হককে।

এ তথ্য নিশ্চিত করে পাবনার পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ওসি ওবায়দুল হককে পুলিশ লাইনসে প্রত্যাহার করা হয়েছে। আর অভিযুক্ত ধর্ষকের সঙ্গে থানায় গৃহবধূর বিয়ে দেয়ায় প্রত্যক্ষ সহায়তাকারী এসআই এনামুলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।’

হাইকোর্ট এই ঘটনায় নজর রাখছেন বলে জানানোর একদিন পরই এই ব্যবস্থা নেয়া হয়। বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের বেঞ্চে এ ঘটনার প্রকাশিত খবর তুলে ধরে সদর থানার ওসির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে স্বপ্রণোদিত আদেশ চান সুপ্রিমকোর্টের তিন আইনজীবী। 

মামলার এজাহার ও নির্যাতিত গৃহবধূর স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, পাবনা সদর উপজেলার দাপুনিয়া ইউনিয়নের সাহাপুর যশোদল গ্রামের ওই নারী স্বামী ও তিন সন্তান নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। গত ২৯ আগস্ট রাতে একই গ্রামের আকবর আলীর ছেলে রাসেল আহমেদ তার চার সহযোগীকে নিয়ে কৌশলে ওই গৃহবধূকে অপহরণ করে। 

টানা ৪ দিন অজ্ঞাত স্থানে আটকে পালাক্রমে ওই নারীকে ধর্ষণ করে তারা। নির্যাতিত গৃহবধূ কৌশলে পালাতে সক্ষম হন। তিনি স্বজনদের কাছে ফিরে বিষয়টি জানালে তারা গত ৫ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। মেডিকেল পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামতও পাওয়া যায়। 

গৃহবধূ বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরে রাসেলকে আটক করে নিয়ে আসে পুলিশ। কিন্তু মামলা নথিভুক্ত না করে স্থানীয় একটি চক্রের মধ্যস্থতায় পূর্বের স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করা হয় ওই নারীকে। পরে অভিযুক্ত রাসেলের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে পুলিশ এ ঘটনা ‘মীমাংসা’ করে দেয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

অভিযোগকারী ওই নারী জানান, গত শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে পাবনা সদর থানায় জোর করে তাকে ধর্ষকের সঙ্গেই বিয়ে দেয়া হয়।

তবে পাবনা সদর থানার ওসি ওবায়দুল হক অভিযোগের বিষয়ে দাবি করেছিলেন, তারা নিজেরা নিজেরাই মীমাংসা করে বিয়ে করেছেন। 

আর যার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, সেই রাসেল নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, ‘রিমান্ডের ভয়’ দেখিয়ে পুলিশ তাদের বিয়ে দিয়েছে।

এ ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হেডকোয়ার্টার) ফিরোজ আহমেদকে প্রধান ও ডিআই-১ এবং সদর কোর্ট ইন্সপেক্টরকে সদস্য করে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

বাংলা/এসএ

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0212 seconds.