• বাংলা ডেস্ক
  • ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ১২:৩৩:০৭
  • ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ১২:৩৩:০৭
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

‘দ্বিতীয় পৃথিবী’র অর্ধেকজুড়েই পানি!

শিল্পীর চোখে কে২-১৮বি

পৃথিবী থেকে ১১১ আলোকবর্ষ (৬৫০ মিলিয়ন-মিলিয়ন মাইল) দূরে অবস্থিত কে২-১৮বি। নিজ সৌরজগতের নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে প্রায় পৃথিবীর অনুরূপ ও দ্বিগুণ আকারের এই গ্রহটি। বছর কয়েক আগে গ্রহটির খোঁজ মিললেও সেখানে পানির অস্তিত্ব রয়েছে বলে প্রথমবারের মতো নিশ্চিত হয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

কে২-১৮বি গ্রহটির তাপমাত্রা প্রাণী কিংবা অণুজীব টিকিয়ে রাখার জন্য অনুকূল। এর আগে আর কোনো গ্রহেই এমন পরিবেশের সন্ধান মিলেনি। সম্প্রতি নেচার অ্যাস্ট্রোনমিতে প্রকাশিত এক প্রবন্ধে বলা হয়েছে, আগামী ১০ বছরের মধ্যে নিশ্চিত হওয়া যাবে, দূরবর্তী সেই গ্রহে কোনো প্রাণী বসবাস করছে কি না। যে কারণে কে২-১৮বি’কে দেওয়া হচ্ছে পৃথিবীর পরই সবচেয়ে ‘বসবাসযোগ্য গ্রহ’ বা ‘দ্বিতীয় পৃথিবী’র তকমা। এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি ও গার্ডিয়ান। 

যে কারণে এটি ভিন্ন গ্রহ : ২০১৫ সালে নাসার কেপলার স্পেস টেলিস্কোপ প্রথম সন্ধান পায় কে২-১৮বি গ্রহটির। পৃথিবীর চেয়ে দ্বিগুণ বড় এই গ্রহটি ও এটির ভর ৮ গুণ বেশি। এটি যে নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘুরছে সেটি সূর্যের চেয়ে অপেক্ষাকৃত কম উত্তপ্ত, আকারে অর্ধেক। এ ধরনের নক্ষত্রকে ‘রেড ডর্ফ’ বা ‘লাল বামন’ হিসেবে চিহ্নিত করেন বিজ্ঞানীরা। আমাদের পৃথিবী থেকে সূর্যের যে দূরত্ব তার ছয় ভাগের এক ভাগ দূরত্বে থেকে নিজ নক্ষত্রকে পরিভ্রমণ করছে গ্রহটি। মাত্র ৩৩ দিনে একবার নিজ নক্ষত্রকে পরিভ্রমণ করে কে২-১৮বি। গ্রহটিতে পানি রয়েছে এর আয়তনের প্রায় অর্ধেকজুড়ে।

গ্রহটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য এটির তাপমাত্রা। এর আগে অনেক গ্রহে পানির অস্তিত্ব পাওয়া গেলেও সেসব গ্রহের তাপমাত্রা ছিলো প্রাণের টিকে থাকার প্রতিকূল। তবে কে২-১৮বি’এর তাপমাত্রা খুব গরম বা ঠাণ্ডা নয়। বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হয়েছেন, গ্রহটির তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। প্রাণ বহনে সক্ষম কোনো গ্রহকে ঘিরে যে ধরনের গ্যাসীয় আবরণ থাকে এই গ্রহটির ক্ষেত্রেও তেমনটি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আর তাই এই গ্রহের বিস্তারিত তথ্য সামনে আসায় বিতর্কটা উসকে দিয়েছে। পৃথিবীর বাইরে এই মহাবিশ্বে অন্য কোথাও প্রাণের বিকাশ হওয়াটা কি অসম্ভব কিছু? আমরা কি সত্যিই একা? না কি অন্য গ্রহেও রয়েছে প্রাণ?

কতটুকু আশা দেখাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা : এই মুহূর্তে পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্ব অনুসন্ধানে সবচেয়ে এগিয়ে কে২-১৮বি। বিজ্ঞানীরা এই গ্রহটি নিয়ে বেশ আগ্রহী হলেও বিস্তারিত অনুসন্ধানের জন্য তাদের নির্ভর করতে হচ্ছে উন্নততর প্রযুক্তির ওপর। আগামীতে নতুন স্পেস টেলিস্কোপ এ ব্যাপারে তথ্য দিতে পারবে বলে মনে করেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। তবে এজন্য আরো অন্তত বছর দশেক অপেক্ষা করতে হবে তাদের।

ট্রিটিনি ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের (ইউসিএল) বিজ্ঞানীরা এই গবেষণাটি পরিচালনা করেন। গবেষণায় নেতৃত্ব দেওয়া বিজ্ঞানী প্রফেসর গিভোনা এই আবিষ্কারকে ‘মাথা ঘুরিয়ে’ দেওয়ার মতো বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘এবারই প্রথমবারের মতো আমরা এমন একটি গ্রহে পানির অস্তিত্ব পেয়েছি, যেটির তাপমাত্রা বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করে এবং প্রাণের অস্তিত্ব বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ।’

ইউসিএল’র বিজ্ঞানী ইঙ্গো ওয়াল্ডম্যান জানান, দূরবর্তী গ্রহ হওয়ায় সেখানে মহাকাশযান পাঠিয়ে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। তবে আগামী দশকে যখন পরবর্তী প্রজন্মের টেলিস্কোপ কাজ শুরু করবে তখন সেখানে গ্যাসীয় পদার্থ বিশ্লেষণ করতে হবে। প্রাণের অস্তিত্ব থাকলে সাধারণত যে ধরনের গ্যাসের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। সেসব পেলে গ্রহটি সম্পর্কে আরো ধারণা পাওয়া যাবে।

তিনি বলেন, ‘বিজ্ঞানের জগতে এটা সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। আমরা কি মহাবিশ্বে একা? আগামী দশ বছরে সেখানকার বায়ুমণ্ডল বিশ্লেষণ করে আমরা তা জানতে পারব।’

ইউসিএল’র আরেক বিজ্ঞানী ড. অ্যাঞ্জেলস তাসিরাস বলেন, ‘এটা অবিশ্বাস্য উত্তেজনার বিষয়। একটা মৌলিক প্রশ্ন আরও সামনে চলে এসেছে। পৃথিবীই কি এ ধরনের একমাত্র গ্রহ?’

এখনো বহু পথ বাকি : তবে কোন ধরনের গ্যাসীয় পদার্থের উপস্থিতি প্রাণের অস্তিত্বের নিশ্চয়তা দিবে সে ব্যাপারে একমত হতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। আমাদের সৌরজগতে অক্সিজেন, পানি ও ওজনের উপস্থিতি পৃথিবীকে ভিন্ন করে তুললেও অন্য একটি সৌরজগতের ব্যাপারে একই কথা নিশ্চিত হয়ে বলতে রাজি নন তারা।

তবে এডিনবার্গ ইনস্টিটিউট অব অ্যাস্ট্রোনমির বিজ্ঞানী ড. বেথ বিলার বিশ্বাস করেন, দূরবর্তী কোনো গ্রহে একসময় ঠিকই জীবনের দেখা মিলবে। যা হবে মানবজাতির জন্য দৃষ্টান্তস্বরূপ। হয়ত এটা অতিকায় এলিয়েন বা অন্যকিছু না হয়ে খুব খুব সাধারণ অণুজীবও হতে পারে।

২০২১ সালে মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা উন্নত প্রযুক্তির জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ (জেডিব্লউএসটি) ব্যবহার করে দূরের গ্রহসমূহ পর্যবেক্ষণ শুরু করবে। আর ইউরোপিয়ান স্পেস অ্যাজেন্সি মহাকাশে তাদের অনুসন্ধান সম্প্রসারিত করবে ২০২৮ সালে। আর তাই কে২-১৮বি নিয়ে আগামী দিনে আরো নতুন নতুন তথ্য যে হাতে আসবে, তা নিশ্চিত করেই বলা যায়।

বাংলা/এসএ

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0245 seconds.