• ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ২০:২১:১২
  • ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০২:১১:৩৬
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

‘তবে আন্দোলনকারীদের গাছ কাটার বিষয়ে ছাড় দিতে হবে’

ছবি : সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টারপ্ল্যান বির্তকের জেরে চলছে আন্দোলন। এই আন্দোলন ঘিরে চলমান সংকট নিরসনে বৃহস্পতিবার দুপুরে আন্দোলনকারীদের সাথে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের উপস্থিতিতেই আন্দোলনকারীদের সাথে বসবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

আন্দোলনকারীরা তাদের ৩ দফা শর্ত অনড় থাকার কথা জানিয়েছে বাংলা’কে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে সমাধান হবে আলোচনার টেবিলেই, আর সমাধান চাইলে দু’পক্ষকেই ছাড় দিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে আন্দোলনকারীদের হতে যাওয়া বহুল আলোচিত এই বৈঠক ঘিরে এবং বর্তমান আন্দোলন নিয়ে প্রশাসনের দায়িত্বশীল পদে থাকা উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক নুরুল আলম এবং শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদারের স্বাক্ষাতকার গ্রহণ করা হয়েছে। স্বাক্ষাতকারে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক নুরুল আলম বলেন, ‘এই মেগাপ্রকল্প আমাদের সাড়ে তিনবছরের পরিশ্রমের ফসল। তারা এটা নিয়ে বিতর্ক করছেন তারা যদি আলোচনাকে প্রাধান্য দিতো তবে ভাল হতো।’ 
অন্যদিকে শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদার বলছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে আমরা একটা সমঝোতার চেষ্টা করব। তবে আন্দোলনকারীদের গাছ কাটার বিষয়ে ছাড় দিতে হবে। কারণ ভবন নির্মাণ করতে গেলে অবশ্যই গাছ কাটতে হবে।

স্বাক্ষাতকারটি নিয়েছেন আমাদের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি শাহাদাত হোসাইন স্বাধীন

অধ্যাপক নুরুল আলম, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় :

বাংলা : একবারতো আলোচনা পিছিয়ে গেছে অনাকাঙ্খিত ঘটনার জের ধরে। আবারো আলোচনা হতে যাচ্ছে। সংকট নিরসনে আপনি কতটা আশাবাদী?

নুরল আলম : মাননীয় উপাচার্য সোমবার সামগ্রিক বিষয় নিয়ে গণমাধ্যমের সাথে বিস্তারিত কথা বলেছেন। আমি আশাবাদী আলোচনা হবে এবং আলোচনার মাধ্যমে একটি সমাধানে আসতে পারবো। এটা আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

বাংলা : রবীন্দ্রনাথ হলের চারপাশে নির্মাণাধীন হল নিয়ে আপনাদের অবস্থানের পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়েছে কিনা?

নুরুল আলম : আমি মনে করি এটাও আলোচনার ব্যাপার। আলোচনা করে ঐক্যমতের ভিত্তিতে কোথাও কোন পরিবর্তন আনা যায় তবে তা হবে। এই মেগাপ্রকল্প আমাদের সাড়ে তিনবছরের পরিশ্রমের ফসল। তারা এটা নিয়ে বিতর্ক করছেন তারা যদি আলোচনাকে প্রাধান্য দিতো তবে ভাল হতো। তাদেরকে কিন্তু আলোচনায় ডেকে আমরা প্লান দেখিয়েছিলাম। আর্কিটেক্টকে ডেকে এনেছিলাম।’

আন্দোলনকারীরা বলছে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি দায়বদ্ধতা ও আন্তরিকতা থেকে আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি তুলে ধরছে আপনি কি মনে করেন?

নুরুল আলম : তারা আন্তরিক, আমরাও আন্তরিক। তাদের দাবি যদি তারা যৌক্তক প্রমাণ করতে পারে তবে আমরা ভেবে দেখব আর আমাদের অবস্থানও যদি আমরা তাদের যৌক্তিকভাবে উপস্থাপন করতে পারি তবে তারা সেটাও মেনে নিক। সব কিছুর জন্য আসলে আলোচনার টেবিল অপেক্ষা করছে। আলোচনায় বসে আমরা একটা সমাধান বের করব।’

বাংলা : উপাচার্য ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে উঠা দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে এই বিষয়ে আপনার বক্তব্য কি?

নুরুল আলম : কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ আনলেই কেউ দুর্নীতিবাজ হয়ে যায় না। যারা অভিযোগ আনছে তারা প্রমাণ দিক এখানে দুর্নীতি হয়েছে। পত্রপত্রিকায় লিখলেই হবে না। প্রমাণ দিতে হবে। আমি মনে করি মাননীয় উপাচার্য একজন সৎ মানুষ। তাঁর সাথে আমি সোয়া একবছর ধরে কাজ করতেছি।

বাংলা : এতবড় একটা মেগাপ্রকল্প শুরুতেই আন্দোলন, বিতর্ক, অসন্তোষ এবং অস্বচ্ছতার অভিযোগ সামনের দিনগুলোতে কতটা চ্যালেঞ্জিং হবে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন?

নুরুল আলম : আমরা আলোচনার দরজা খোলা রাখছি। ম্যাডাম অলরেডি ঐক্যের ডাক দিয়েছেন। সবাইকে নিয়ে কাজ করা হবে। আমার বিশ্বাস আমরা সবাই মিলে এই ১৪৪৫ কোটি টাকার প্রকল্প সঠিক ভাবে বাস্তবায়ন করতে পারবো। যাতে সামনের দিনে বিতর্ক না হয় সেদিকে আমরা নজর রাখব। আমি মনে করি ম্যাডাম সততার সাথেই কাজ করছেন। পত্রপত্রিকার বিষয় তো প্রমাণিত না। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে সিট ও বিভাগের রুম সংকটের সমাধান হয়ে যাবে।

অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদার, সভাপতি জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি :

বাংলা : আলোচনা নিয়ে আপনি কতটা আশাবাদী?

অজিত কুমার মজুমদার : শিক্ষার্থীরা আমাদের সন্তানতূল্য। আলোচনা মানেই দুই পক্ষ থেকেই সমঝোতা। আগামীকাল এক বৈঠকে সব সমস্যার সমাধান হবে তাও না। তবে সমঝোতা হতে হলে দুই পক্ষ থেকেই ছাড় দিতে হবে। আমি শিক্ষক সমিতির সভাপতি হিসেবে একটা উদ্যোগ নিবো। আমরা দুই পক্ষের সাথে কথা বলব। আমি সম্পাদকের সাথেও কথা বলেছি। শেষ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে আমরা একটা সমঝোতার চেষ্টা করব। তবে আন্দোলনকারীদের গাছ কাটার বিষয়ে ছাড় দিতে হবে। কারণ ভবন নির্মাণ করতে গেলে অবশ্যই গাছ কাটতে হবে। 

বাংলা : আন্দোলনকারীরা তো অপরিকল্পিত গাছ কাটার বিরুদ্ধে বলছে। তারা মহাপরিকল্পনাকে অপরিকল্পিত দাবি করে তা পুর্নবিন্যস্তের দাবি তুলছে...

অজিত কুমার মজুমদার : সেটা নিয়ে আলাপ আলোচনা হতে পারে। উপাচার্য প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলতে পারেন। আমাদের সবার গন্তব্য তো প্রধানমন্ত্রী। উপাচার্যকে তো প্রধানমন্ত্রী পছন্দ করেন। তিনি অনুরোধ করলে হয়তো একনেকও বিবেচনা করতে পারে। 

বাংলা : রবীন্দ্রনাথ হলের চারপাশের হল নির্মাণ নিয়ে সর্বস্তরের শিক্ষার্থীরা আপত্তি তুলছে...

অজিত কুমার মজুমদার : হ্যাঁ, এটা নিয়ে শিক্ষক সমিতি উপাচার্যের কাছে দাবি তুলতে পারে। ছাত্রদেরও বলবো তারাও একটু ছাড় দিক।

বাংলা : উপাচার্য ও তাঁর পরিবারকে সংশ্লিষ্ট করে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কি?

অজিত কুমার মজুমদার : দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে বলবো যারা অভিযোগ করছে তারা প্রমাণ দিক। যখনই অনিয়ম হয়েছে আমি কিন্তু প্রতিবাদ জানিয়েছি। পত্রপত্রিকায় তো অনেক কিছুই লিখে। আমার বিরুদ্ধেও অনেক কিছু লিখেছিল। কিন্তু আমি উপাচার্যের সাথে কথা বলেছি। তিনি বোল্ডনেস (জোর) নিয়ে কথা বলেছেন আমি তাকে বিশ্বাস করি।

বাংলা : আন্দোলনকারীরা অভিযোগ তুলেছে- পরিকল্পনাটি নেওয়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব স্টেক হোল্ডারের সাথে কথা বলা হয়নি।

অজিত কুমার মজুমদার : এটা হলে ভাল হতো। তবে বৈঠকে আমিও ছিলাম। আক্টিটেকচারের কথা অনেক কিছু বুঝি না। তারা বেস্টের কথা বলে। তাদের প্রশ্ন করলেই উত্তর ও ব্যাখ্যা দেয়।

বাংলা : আপনার কি মনে হয় পরিকল্পনাটি এখনো পুনর্বিন্যস্ত করার সুযোগ আছে?

অজিত কুমার মজুমদার : এটা এখন একনেকের বিষয়, সময়ের ব্যাপার, পুরো বিষয়টি পিডিও বলতে পারবেন।

বাংলা : প্রশাসন বলছে পত্রপত্রিকায় আসা দুর্নীতির অভিযোগ ‘মিথ্যা’ কিন্তু পত্রপত্রিকায় তো তেমন কোন প্রতিবাদ লিপি আসেনি। অন্যদিকে এই নিউজকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের সাথে একটা সম্পর্কের অবনতি হয়েছে।

অজিত কুমার মজুমদার : এখানে জনসংযোগ অফিস একটা ভূমিকা রাখতে পারত। কিন্তু যোগ্য লোক কই!

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0228 seconds.