• ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ২২:২০:৩১
  • ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ২২:২০:৩১
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

নদীর ঢেউ আর শব্দে মুগ্ধ দর্শণার্থীরা!

ছবি: সংগৃহীত

জামাল উদ্দিন বাবলু, লক্ষীপুর প্রতিনিধি :

নদীর ঢেউ আর পানির শব্দে জেগে উঠা নির্মল প্রকৃতিতে সেজেছে আলেকজান্ডার বেঁড়িবাঁধ। এতে লক্ষীপুরের রামগতি উপজেলার মেঘনাপাড়ের জনপদটিতে পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

ঈদসহ যেকোন ছুটিতে এখানে দর্শণার্থীদের খই ফুটে। নদী থেকে ভেসে আসা দক্ষিণা বাতাসে মন জুড়াতে সুযোগ পেলেই এখানে ছুটে আসে হাজারো মানুষ। দর্শণার্থীদের পদচারণা আর হৈ-হুল্লোড়ে বেঁড়িবাঁধটি হয়ে উঠে আরো অপরুপ। 

বাঁধটিতে দাঁড়িয়ে মেঘনার উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যে ছোট-ছোট নৌকায় জেলেদের ইলিশ ধরা চিত্র দেখা যায়। জোয়ার-ভাটার টানে বেঁড়িবাঁধের গায়ে আচঁড়ে পড়া ঢেউও দৃষ্টি কাঁড়ে। এখানে নদীর ঢেউ-জলের মিষ্টি সুর, জেগে ওঠা চর ও নির্মল প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে প্রতিদিন হাজারো মানুষের আনাগোনা থাকে।

সরেজমিনে দেখা যায়, আলেকজান্ডার বেড়িবাঁধ সংলগ্ম নদীতে পণ্যবাহী লাইটারেজ জাহাজ ও মাছ শিকারে অসংখ্য নৌকার ছুটোছুটি নজরকাড়ে। নদীর তীরে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের সাজানো বাগানও মানুষকে আকৃষ্ট করে। এছাড়া চরে দৃষ্টি কাড়ে গরু-মহিষ, ভেড়া আর রাখালের বন্ধুত্ব। রয়েছে সয়াবিন ও ধানসহ ফসলের বিস্তৃর্ণ মাঠ। সৌন্দযের এই লীলাভূমিতে স্নিগ্ধতায় মন ছুঁয়ে যায়।

লক্ষীপুর জেলা শহর থেকে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকায় ঈদসহ বিশেষ দিনগুলোতে বেড়িবাঁধের আলেকজান্ডারের এক কিলোমিটার অংশে নানা বয়সি মানুষের উপচে পড়া ভীড় লেগে থাকে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করণ এবং পরিকল্পিতভাবে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো গেলে এটি পাশ্ববর্তী কয়েকটি জেলার মানুষের কাছে জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। ইতোমেধ্যে নোয়াখালী ও ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আলেকজান্ডার বেড়িবাঁধে দর্শনার্থীরা আসছে।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে বেঁড়িবাঁধটি পর্যটকদের দৃষ্টিনন্দন করতে ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সেই টাকা দিয়ে পর্যটকদের বসার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে লাইটিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বেঁড়িবাঁধটি সম্পূর্ণ শেষ হলে সেখানে পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা করার লক্ষ্যে পরিকল্পনা রয়েছে।

লক্ষীপুর সরকারি কলেজের মাস্টাসের ছাত্র আজগর হোসেন বলেন, ‘এ উপকূলটি একসময় ভাঙন কবলিত ছিল। বেঁড়িবাঁধ নির্মাণের পর থেকে এটি দর্শণীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। প্রায়ই সুযোগ পেলে এখানে চলে আসি। এখানে আসলে খুব কাছ থেকেই জেলেদের ইলিশ ধরা দেখতে পাওয়া যায়। নদীর বুক থেকে ভেসে আসা দক্ষিণা বাতাস উপলব্ধি করার মতো।’

ঢাকা কলেজের মাস্টার্স শেষ বর্ষের ছাত্র সাহাদাত হোসেন বলেন, ‘জায়গাটি খুব সুন্দর। নদী আর নির্মল প্রকৃতির এক অনন্য মিশ্রণ রয়েছে এখানে। সবসময় না হলেও মাঝে মধ্যে বন্ধুদের সঙ্গে এখানে ঘুরতে আসি।’

জানতে চাইলে লক্ষীপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) অঞ্জন চন্দ্র পাল বলেন, ‘আলেকজান্ডার বেঁড়িবাঁধটি স্থানীয়দের কাছে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে বেশ জনপ্রিয়। ঈদ-পূজা ও নববষের সময় বিপুল পর্যটকের সমাগম ঘটে থাকে। পর্যটকদের জন্য সেখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা থাকে। এখনো পর্যন্ত কোন পর্যটক ক্ষতির সম্মুখিন হওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়নি।’

বাংলা/এএএ 

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0225 seconds.