• বিদেশ ডেস্ক
  • ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ১৩:৫৪:১৮
  • ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ১৩:৫৪:১৮
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

খাশোগি হত্যার কথোপকথনে প্রকাশ পেলো বীভৎসতা

ছবি : সংগৃহীত

ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের মধ্যকার কথোপকথন প্রকাশ করেছে তুর্কি পত্রিকা ডেইলি সাবাহ। এতে এ হত্যাকাণ্ডের বীভৎসতা ফুটে উঠেছে। সৌদি সরকারের কঠোর সমালোচক ছিলেন খাশোগি। গত বছরের ২ অক্টোবর হত্যার শিকার হন তিনি।

ডেইলি সাবাহ’র প্রতিবেদনে দুজন অভিযুক্ত ব্যক্তির আলাপ তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, খাশোগি কনস্যুলেটে ঢোকামাত্রই অভ্যর্থনা জানিয়ে একটি কক্ষে নিয়ে যান সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের দেহরক্ষী মেহের আবদুল আজিজ মুতরিব। তারা একে অপরের পূর্বপরিচিত ছিলেন।

মুতরিব বলেন, ‘বসুন খাশোগি। আপনাকে সৌদিতে ফেরত নেয়া হবে। ইন্টারপোল আমাদের এ নির্দেশ দিয়েছে। ইন্টারপোল চায়, আপনি ফিরে যান। তাই আপনাকে নিতে আমরা এখানে এসেছি।’

খাসোগি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। আমার হবু স্ত্রী বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন।’

মুতরিব খাশোগিকে বলেন, ‘আমাদের কথামতো কাজ করলে কোনো ক্ষতি করা হবে না।’

রিয়াদে ছেলেকে ফোন করে ‘নিরাপদে আছি’ বলতেও বলা হয় খাশোগিকে। কিন্তু সেটি বলতে অপরগতা প্রকাশ করে প্রশ্ন করেন, ‘তোমরা কি আমাকে খুন করবে? শ্বাসরোধ করে মারবে?’

তখন মুতরিব তাকে বলেন, ‘আমি বলছি- এটি লিখুন জনাব খাশোগি। দ্রুত এটি লিখুন। আমাদের সাহায্য করুন, তা হলে আমরাও আপনাকে সাহায্য করতে পারব। কারণ শেষমেশ আমরা আপনাকে সৌদিতে ফিরিয়ে নেবই। আর যদি আমাদের সাহায্য না করেন, তা হলে কী ঘটবে তা বুঝতেই পারছেন।’

সবকিছু বোঝার পরও নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করেন খাশোগি। এসময় মুতরিব হিট স্কোয়াডের পাঁচজনকে নির্দেশ দেন, নাইলন ব্যাগ দিয়ে শ্বাসরোধ করতে। তখন খাশোগি বলেন, ‘আমার মুখ ঢেকো না। অ্যাজমা আছে।’ 

চেতনা হারানোর আগে খাশোগির শেষ কথা শোনা যায়, ‘আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছি না।’

খুনিদের সঙ্গে পাঁচ মিনিট লড়াই করে নিথর হয়ে যান খাশোগি। করাত দিয়ে খাশোগির দেহ খণ্ডবিখণ্ড করেন সৌদি ফরেনসিক চিকিৎসক সালাহ মোহাম্মদ আবদাহ তুবাইগি। এরপর খাসোগিকে টেনে নেয়ার শব্দ শোনা যায়। 

মেহের আবদুল আজিজ মুতরিব খাশোগি ওই কনস্যুলেটে ঢোকার আগেই তুবাইগিকে প্রশ্ন করেন, ‘একটি ব্যাগে লাশ ঢোকানো সম্ভব?’

তুবাইগি তখন বলেন, ‘না। অনেক ভারী। (খাশোগি) লম্বাও অনেক। আসলে আমি সবসময় নিস্তেজ দেহ নিয়ে কাজ করেছি। জানি সেগুলো কীভাবে ভালো করে কাটতে হয়।’

তিনি আরো বলতে থাকেন, ‘একটু আগে মারা যাওয়া গরম দেহ কখনো কাটিনি। কিন্তু এটাও সহজে পারব। যখন লাশ কাটি তখন সাধারণত ইয়ারফোন দিয়ে গান শুনতে থাকি। একই সঙ্গে কফি আর সিগারেট খেতে থাকি।’

গত বছরের ২ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে ঢুকে নিখোঁজ হন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত সাংবাদিক জামাল খাশোগি। তিনি নিয়মিত ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকায় কলাম লিখতেন। শুরুতে তার নিখোঁজের অভিযোগ অস্বীকার করে সৌদি আরব।

পরে সংবাদমাধ্যমে তুর্কি গোয়েন্দাদের একের পর এক ‘তথ্য ফাঁসের’ মুখে খাশোগি হত্যার শিকার হয়েছে বলে ১৯ অক্টোবর স্বীকার করে সৌদি কর্তৃপক্ষ। যদিও এর সঙ্গে সৌদি যুবরাজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে তারা।

বাংলা/এসএ

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0199 seconds.