• ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ২২:০১:২৪
  • ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ২৩:৪৯:২৫
অন্যকে জানাতে পারেন: Facebook Twitter Google+ LinkedIn Save to Facebook প্রিন্ট করুন

জাবিতে তদন্ত কমিটি, আলোচনা কবে জানা যাবে কাল

ছবি : বাংলা

জাবি প্রতিনিধি :

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারের সংগঠক সাইমুম ইসলাম ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কর্মী সোহায়েব ইবনে মাসুদকে মারধরের ঘটনায় দুইটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

রবিবার সন্ধ্যা ৬টায় থেকে শুরু শৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে বাংলা’কে নিশ্চিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম।

উপাচার্য বলেন, ‘গত শনিবারের ঘটনায় নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক রাশেদা আখতারকে প্রধান করে আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। আমরা থানায় অভিযোগও দায়ের করেছি। অন্যদিকে গত ২৮ আগস্টের আল-বেরুনী হলের ঘটনায় হল প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নিতে পারেনি। কারণ অভিযুক্ত ও অভিযোগকারী কেউই হলের ছাত্র না। একজন কামাল উদ্দীন হলের এবং মওলানা ভাসানীর ছাত্র। ছাত্ররা এক হলের কিন্তু ফেসবুকে দিয়ে রেখেছে অন্য হলের নাম। অভিযোগ দেয়ার পর তারা যোগাযোগই করে নাই, ঠিক হয়ে গেছে। গতকাল (শনিবার) এই ঘটনা আবার সামনে এনেছে। গতকালের ঘটনা আর এই ঘটনা এক না। গতকালের ঘটনায় অভিযুক্ত ৪১ ব্যাচের, সে হলের বাইরের ছাত্র, বহিরাগত। শোনা যাচ্ছে উত্তেজনার শুরুর কারণে ঘটনাটা ঘটেছে। উভয় পক্ষ থেকে অভিযোগ এসেছে। এখন মামলাও থাকবে কিন্তু তদন্ত কমিটি ঘটনা যাচাই করবে।’

ঘটনার প্রেক্ষিতে হলে হলে অছাত্রের বের করার কোন পদক্ষেপ নিবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘চেষ্টা করতে হবে। কতটা সফল হবো সেটা সময় বলে দিবে। তবে চেষ্টা করতে তো হবে।’

এদিকে আল বেরুনী হলের ঘটনায় পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক মো. মুজিবুর রহমানকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে জানিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান বলেন, ‘আল বেরুনী হলের ঘটনায় সোহায়েব ইবনে মাসুদ কীভাবে গণরুমের পরিবেশ নষ্ট করে এই নিয়েও ১২ জন ছাত্র অভিযোগ দায়ের করেছে। উভয় ঘটনায়ই তদন্ত করে দেখা হবে।’

কাল জানা যাবে কবে হবে স্থগিত আলোচনা :
শনিবার সংগঠক সাইমুমকে ছাত্রলীগ নেতার মারধরের ঘটনায় স্থগিত হয়ে যাওয়া আন্দোলনকারী ও প্রশাসনের বৈঠক নিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বলেন, ‘আজকের মতো কালকেও (সোমবার) আমার ঢাকায় কাজ থাকতে পারে। রাতের মধ্যে জানতে পারব। যদি কাজ না থাকে তবে তাদের কাল (সোমবার) ডাকব নতুবা পরদিন। কিন্তু হঠাৎ করে বললে তারা নাও আসতে পারে। একটা নির্দিষ্ট তারিখ দিয়ে দিতে হবে। কালকের মধ্যে সে তারিখটা জানিয়ে দিতে পারব।’

একদিকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, অন্যদিকে ছাত্রলীগের পাল্টা কর্মসূচি সার্বিক পরিস্থিতি কীভাবে দেখছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগ হয়তো আমার উপর রাগ করেছে।’

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে বলতে গেলে সব কিছুর উপরে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়কে স্থান দিতে হবে। পাল্টাপাল্টি জোট করলেও সবাই এক কথায় আসবে আমার বিশ্বাস। বলুক তারা আমি তো শুনতেছি। জবরদস্তি করে আমিও যেমন পারব না, তারাও পারবে না। সবাইকে একটা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আসতে হবে।’

উল্লেখ্য, গত শনিবার দুর্নীতির বিচার বিভাগীয় তদন্তসহ তিন দফা দাবি নিয়ে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ আন্দোলনকারীদের সাথে প্রশাসনের বৈঠকের কথা ছিল। কিন্তু আন্দোলকারী সংগঠন সাইমুম ইসলামকে ছাত্রলীগ নেতা অভিষেক মন্ডলের মারধরের কারণে বৈঠক স্থগিত হয়ে যায়। ঘটনার পর আন্দোলনকারীদের চাপে প্রশাসন থানায় অভিযোগ দায়ের করে।

অন্যদিকে গত ২৮ আগস্ট আন্দোলনকারী আরেক শিক্ষার্থীকে মশাল মিছিলের যাওয়ার কারণে নিপীড়নের অভিযোগ উঠে সাইফুর রহমান নামে এক ছাত্রলীগ কর্মীর বিরুদ্ধে। শনিবার উপাচার্যের কাছে এই দুই ঘটনার বিচারের আগে আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানান আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

 

আপনার মন্তব্য

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
Page rendered in: 0.0201 seconds.